জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
নাফিসা বাগানে একটি পতঙ্গ দেখতে পায়। যা সন্ধিযুক্ত পায়ের সাহায্যে লাফ দিতে পারে এবং কয়েক জোড়া শ্বাসরন্ধ্রের মাধ্যমে শ্বসণ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।
- ক)(1)
হিমোসিল কী?
- খ)(2)
সুপার পজিশন প্রতিবিম্ব বলতে কী বুঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাণীটির পায়ের প্রকৃতির নামসহ চিহ্নিত চিত্র আঁক।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের প্রাণীটির শেষোক্ত প্রক্রিয়ায় শ্বাসরঞ্জকের ভূমিকা নেই— ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের রক্তে পূর্ণ সিলোমিক দেহগহ্বরকে হিমোসিল (Haemocoel) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্তিমিত বা মৃদু আলোতে পতঙ্গের পুঞ্জাক্ষির ওমাটিডিয়ায় যে প্রতিবিম্ব গঠিত হয় তাকে সুপারপজিশন প্রতিবিম্ব বলে।
এ ক্ষেত্রে আইরিশ ও রেটিনাল রঞ্জক আবরণী সংকুচিত হয়ে ওমাটিডিয়ামের গোড়ার দিকে সরে আসে, ফলে ওমাটিডিয়াগুলো পরস্পর থেকে আলোকরশ্মি রোধ করতে পারে না। ফলে তির্যক আলোকরশ্মি সংলগ্ন অন্যান্য ওমাটিডিয়ার র্যাবডোমেও পড়ে এবং একাধিক ওমাটিডিয়ার তৈরি প্রতিবিম্ব একে অপরের ওপর আপতিত হয়ে ঝাপসা ও অস্পষ্ট সমগ্র বস্তুর একটি পূর্ণ প্রতিবিম্ব তৈরি করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পতঙ্গটি হলো ঘাসফড়িং। এর পেছনের জোড়া পা বিশেষভাবে লাফানোর জন্য রূপান্তরিত, যাকে 'সল্টেটোরিয়াল পা' (Saltatorial leg) বলা হয়।
সল্টেটোরিয়াল পায়ের চিহ্নিত অংশসমূহ নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. কক্সা (Coxa): এটি পায়ের গোড়ার চওড়া ও ত্রিকোণাকার খণ্ডক যা বক্ষের সাথে যুক্ত থাকে।
২. ট্রোক্যান্টার (Trochanter): কক্সার সাথে যুক্ত একটি ক্ষুদ্র ও ত্রিকোণাকার খণ্ডক।
৩. ফিমার (Femur): এটি পায়ের সবচেয়ে বৃহৎ, পুরু ও পেশিবহুল শক্ত অংশ, যা লাফ দিতে সাহায্য করে।
৪. টিবিয়া (Tibia): ফিমারের প্রান্তে যুক্ত লম্বা, সরু এবং সূক্ষ্ম কাঁটা বা স্পাইনযুক্ত অংশ।
৫. টার্সাস (Tarsus): টিবিয়ার পরবর্তী প্রান্তীয় অংশ যা ৩টি উপখণ্ডক (টারসোমিয়ার) নিয়ে গঠিত এবং এর শীর্ষে নখর (Claw) ও অ্যারোলিয়াম (Arolium) নামক প্যাড থাকে।[পরীক্ষার্থীদের খাতায় সল্টেটোরিয়াল পায়ের চিত্র এঁকে কক্সা, ট্রোক্যান্টার, ফিমার, টিবিয়া এবং টার্সাস অংশগুলো চিহ্নিত করতে হবে।]
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত পতঙ্গটি হলো ঘাসফড়িং এবং এর উল্লিখিত শেষোক্ত প্রক্রিয়াটি হলো 'শ্বসন প্রক্রিয়া'। ঘাসফড়িংয়ের শ্বসন প্রক্রিয়ায় শ্বাসরঞ্জকের কোনো ভূমিকা নেই— নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো:
১. উন্নত শ্বসনতন্ত্র (ট্রাকিয়াল তন্ত্র): ঘাসফড়িংয়ের দেহে গ্যাসীয় পরিবহনের জন্য অত্যন্ত উন্নত ও জটিল ট্রাকিয়াল তন্ত্র (শ্বাসনালী তন্ত্র) বিদ্যমান। এই তন্ত্রটি শ্বাসরন্ধ্র বা স্পাইরাকল, ট্রাকিয়া, ট্রাকিওল এবং বায়ুথলি নিয়ে গঠিত। এই নালীগুলো সারা দেহে জালের মতো বিস্তৃত থাকে।
২. সরাসরি কোষে গ্যাসীয় পরিবহন: ট্রাকিওলগুলোর বদ্ধ প্রান্ত টিস্যু কোষের সরাসরি সংস্পর্শে থাকে এবং এতে ট্রাকিওল রসে ও গ্যাসে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় সরাসরি কোষ ও বায়ুমণ্ডলের মধ্যে O₂ এবং CO₂ বিনিময় ঘটে। ফলে গ্যাস পরিবহনের জন্য রক্তের কোনো মাধ্যমের ওপর নির্ভর করতে হয় না।
৩. রক্তে শ্বাসরঞ্জকের অনুপস্থিতি: ঘাসফড়িংয়ের রক্ত বর্ণহীন, যাকে হিমোলিম্ফ বলে। হিমোলিম্ফে কোনো প্রকার শ্বাসরঞ্জক (যেমন: হিমোগ্লোবিন বা হিমোসায়ানিন) থাকে না, যা O₂ বা CO₂ বহন করতে সক্ষম। রক্ত কেবলমাত্র পুষ্টি উপাদান ও বর্জ্য পদার্থ পরিবহন করে।
৪. সংবহনতন্ত্র ও শ্বসনতন্ত্রের স্বাধীনতা: ঘাসফড়িংয়ের সংবহনতন্ত্র উন্মুক্ত প্রকৃতির হওয়ায় এটি গ্যাস পরিবহনের তুলনায় অনেক ধীরগতির। কিন্তু ট্রাকিয়াল তন্ত্র সরাসরি বায়ুমণ্ডল থেকে দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেয় এবং কোষ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড সরাসরি বাইরে বের করে দেয়।
সুতরাং, ঘাসফড়িংয়ের ট্রাকিয়াল তন্ত্র স্বাধীন ও সরাসরি শ্বসন গ্যাস পরিবহনে সক্ষম এবং রক্তে কোনো প্রকার শ্বাসরঞ্জক না থাকায় শ্বসন প্রক্রিয়ায় শ্বাসরঞ্জকের কোনো ভূমিকা থাকে না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও