বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
দৃশ্যপট-১: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মেক্সিকানদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আমেরিকা ও মেক্সিকো সীমান্তে সীমানা প্রাচীর এবং নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করেন।দৃশ্যপট-২: সম্রাট আকবরের শাসনামলেই মুঘল সাম্রাজ্য সবচেয়ে বেশি বিস্তার লাভ করে। রাজ্যবিস্তারের সাথে সাথে তিনি শিল্প ও সাহিত্যের বিকাশে ছিলেন মনোযোগী। তার সভাসদের মধ্যে ছিলেন বিখ্যাত গায়ক তানসেন, সাহিত্যিক আবুল ফজল, হাস্যরসিক বীরবল। অন্যদিকে রাজ্যের সংহতি দৃঢ় করার জন্য বিবাহ সম্বন্ধ স্থাপন করেন রাজপুত বংশের সাথে। সম্প্রীতি রক্ষার্থে প্রতিষ্ঠা করেন নতুন ধর্ম "দীন-ই-ইলাহি"।
- ক)(1)
সুবা কী?
- খ)(2)
মুঘল শাসনের প্রথমদিকে বারোভূঁইয়াদের দমন করা যায়নি কেন?
- গ)(3)
দৃশ্যপট-১ এ সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজির শাসনামলের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যপট-২ আলাউদ্দিন হুসেন শাহ-এর শাসনামলের প্রতিচ্ছবি বলে তুমি মনে কর? যুক্তি সহকারে মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
সুবা হলো মুঘল আমলের প্রদেশ।
- খ)
মুঘল শাসনের প্রথমদিকে বারোভূঁইয়াদের দমন করা যায়নি। বাংলার বড় বড় জমিদারদের শক্তিশালী সৈন্যবাহিনী ও নৌবহর ছিল। তাঁরা নিজ নিজ জমিদারিতে স্বাধীন ছিলেন এবং মুঘলদের অধীনতা মানেননি। স্বাধীনতা রক্ষার জন্য তাঁরা একজোট হয়ে মুঘল সেনাপতিদের বিরুদ্ধে লড়তেন। এ কারণে সম্রাট আকবরের সময় মুঘল সুবাদাররা চেষ্টা করেও তাঁদের দমন করতে পারেননি। জাহাঙ্গীরের সময় তাঁরা দমিত হন।
- গ)
দৃশ্যপট-১-এ সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ খলজির শাসনামলের রাজ্যের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকটি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে ট্রাম্প অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে প্রাচীর ও নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করেন। ইওয়াজ খলজিও রাজধানী লখনৌতির প্রতিরক্ষা সুদৃঢ় করতে বসনকোটে দুর্গ নির্মাণ করেন এবং রাজধানীর তিন পাশে গভীর ও প্রশস্ত পরিখা খনন করেন। এছাড়া তিনি শক্তিশালী নৌবাহিনীর গোড়াপত্তন করেন। এভাবে দুজনেই রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন।
- ঘ)
দৃশ্যপট-২ আংশিকভাবে আলাউদ্দিন হুসেন শাহের শাসনামলের প্রতিচ্ছবি, পুরোপুরি নয়।
১. আকবরের মতো হুসেন শাহের সময়েও রাজ্যসীমা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়। তিনি কামরূপ, কামতা জয় করেন এবং উড়িষ্যা, ত্রিপুরা ও বিহারের কিছু অংশ নিজের অধিকারে আনেন।
২. আকবরের নবরত্ন সভার মতো হুসেন শাহও শিল্প-সাহিত্যের উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় মালাধর বসু, বিজয় গুপ্ত, বিপ্রদাস, পরাগল খান প্রমুখ কবি সাহিত্যচর্চা করেন। তাঁর আমলকে অনেকেই বাংলার মধ্যযুগের ‘স্বর্ণযুগ’ বলেন।
৩. আকবরের ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রচেষ্টার মতো হুসেন শাহও হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি যোগ্যতা অনুযায়ী হিন্দুদের উচ্চপদে নিয়োগ দেন এবং তাঁর সময়ে সত্যপীরের আরাধনা প্রচলিত হয়।
৪. তবে রাজপুতদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক এবং নতুন ধর্ম ‘দীন-ই-ইলাহি’ প্রবর্তন আকবরের নিজস্ব কীর্তি, হুসেন শাহের ক্ষেত্রে এমন তথ্য নেই।
সুতরাং, রাজ্যবিস্তার, সাহিত্য-পৃষ্ঠপোষকতা ও সম্প্রীতির দিক থেকে মিল থাকলেও দৃশ্যপট-২ সম্পূর্ণভাবে হুসেন শাহের শাসনামলের প্রতিচ্ছবি নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও