যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২২

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১ : আম হয় পুষ্টিকর।জাম হয় পুষ্টিকর। লিচু হয় পুষ্টিকর। কাঁঠাল হয় পুষ্টিকর।সুতরাং সকল ফল হয় পুষ্টিকর।
দৃশ্যকল্প-২ : জামিল বললো, “আমি এ যাবৎ যত ভারতীয় দেখেছি তারা সবাই হিন্দি ভাষায় কথা বলে। কোনো লোককেই কখনো অন্য ভাষায় কথা বলতে দেখিনি। অতএব, সকল ভারতীয় হিন্দি ভাষায় কথা বলে।”

  1. ক)

    প্রকৃত আরোহ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    “অবৈজ্ঞানিক আরোহের ভিত্তি হচ্ছে অনুকূল অভিজ্ঞতা।” উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ নির্দেশিত বিষয়টি কোন প্রকারের আরোহ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-১ ও দৃশ্যকল্প-২ এর মধ্যকার পার্থক্য নির্দেশ করো। তোমার মতে কোনটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ?

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে আরোহ অনুমানে আরোহের প্রধান বৈশিষ্ট্য বা প্রাণ অর্থাৎ 'আরোহমূলক লম্ফ' বর্তমান থাকে, তাকে প্রকৃত আরোহ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অবৈজ্ঞানিক আরোহ কোনো কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভর করে না; বরং এটি ব্যক্তির অবাধ ও অনুকূল অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য প্রতিষ্ঠা করে। অর্থাৎ, অতীতে কোনো ঘটনার ব্যতিক্রম দেখা যায়নি বলেই ভবিষ্যতে বা সার্বিকভাবে তা ঘটবে বলে ধরে নেওয়া হয়। কোনো বিপরীত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন না হয়ে কেবল অনুকূল অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত টানা হয় বলেই বলা হয় 'অবৈজ্ঞানিক আরোহের ভিত্তি হচ্ছে অনুকূল অভিজ্ঞতা'।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ এ নির্দেশিত আরোহটি হলো 'অবৈজ্ঞানিক আরোহ'।
    অবৈজ্ঞানিক আরোহে কোনো কার্যকারণ সম্পর্কের অনুসন্ধান ছাড়াই কেবল একরূপ ও প্রতিকূলতাহীন অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। দৃশ্যকল্পে জামিল কেবল তার দেখা কিছু ভারতীয় নাগরিককে হিন্দি ভাষায় কথা বলতে দেখে এবং কোনো ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা না থাকায় সিদ্ধান্ত নেয় যে 'সকল ভারতীয় হিন্দি ভাষায় কথা বলে'। এখানে ভারতের বহুমাত্রিক ভাষার বাস্তব কারণ বা কার্যকারণ সম্বন্ধ যাচাই করা হয়নি, শুধুমাত্র অনুকূল অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সার্বিকীকরণ করা হয়েছে। তাই এটি অবৈজ্ঞানিক আরোহ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ হলো 'বৈজ্ঞানিক আরোহ' এবং দৃশ্যকল্প-২ হলো 'অবৈজ্ঞানিক আরোহ'।
    এদের মধ্যকার প্রধান পার্থক্যসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. ভিত্তিগত পার্থক্য: বৈজ্ঞানিক আরোহ কার্যকারণ সম্পর্ক এবং প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। অন্যদিকে অবৈজ্ঞানিক আরোহ কেবল অনুকূল অভিজ্ঞতার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
    ২. নিশ্চিতকরণ: বৈজ্ঞানিক আরোহে পরীক্ষামূলক ও পদ্ধতিগত প্রমাণের মাধ্যমে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয় বলে এর সিদ্ধান্ত নিশ্চিত। বিপরীতে অবৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য, কারণ একটিমাত্র ব্যতিক্রম পাওয়া গেলেই সিদ্ধান্তটি বাতিল হয়ে যায় (যেমন- অহিন্দিভাষী ভারতীয়ের দেখা পেলে)।
    ৩. নির্ভরযোগ্যতা: বৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকৃতি বিশ্লেষণ ও জটিল কারণ আবিষ্কারে সাহায্য করে, যা অবৈজ্ঞানিক আরোহে অনুপস্থিত।

    আমার মতে, এদের মধ্যে দৃশ্যকল্প-১ বা 'বৈজ্ঞানিক আরোহ' অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ও জ্ঞানার্জনে এটি সুনির্দিষ্ট কার্যকারণ সম্পর্ক উন্মোচনের মাধ্যমে নিশ্চিত ও সার্বিক বৈজ্ঞানিক সত্য প্রতিষ্ঠা করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন