ইসলাম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪
ইসলাম প্রশ্ন
চেয়ারম্যান মকবুল সাহেব অসহায় শিশুদের কান্নার আওয়াজ শুনে রাতের অন্ধকারে ইউনিয়নের তহবিল থেকে আটার বস্তা নিয়ে তাদের মধ্যে বিতরণ করেন। এমনকি অসহায় গর্ভবতী মহিলাদের প্রসব বেদনায় সাহায্য করার জন্য তার স্ত্রীকে সেখানে নিয়ে যান। চেয়ারম্যানের বোন আবেদা মনে করে ইসলামি জ্ঞানের পাশাপাশি মুসলমানরা চিকিৎসা ক্ষেত্রে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন, যাদের কাছে বর্তমান চিকিৎসা বিজ্ঞান অনেকাংশেই ঋণী।
- ক)(1)
হিলফুল ফুজুল কী?
- খ)(2)
প্রাক-ইসলামি যুগে নারীদের অবস্থা কেমন ছিল? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
মকবুল সাহেবের কর্মকাণ্ড ইসলামের কোন খলিফার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
আবেদার মন্তব্যের সাথে তুমি কি একমত? তোমার মতামতের পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
হিলফুল ফুজুল হলো নির্যাতিত, অসহায় ও মজলুম মানুষের সাহায্য এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মক্কার যুবকদের গঠিত একটি শান্তিসংঘ বা সেবামূলক সংগঠন।
- খ)
প্রাক-ইসলামি যুগে নারীদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় ছিল। তাদের কোনো সামাজিক মর্যাদা বা অধিকার ছিল না।
কন্যাশিশুকে অপমানজনক মনে করে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো। নারীদের পণ্যের মতো কেনাবেচা করা হতো এবং তারা পিতা ও স্বামীর সম্পত্তির উত্তরাধিকার পেত না। ইসলাম এসে নারীকে মা, স্ত্রী ও কন্যা হিসেবে সম্মান ও অধিকার দিয়েছে। - গ)
মকবুল সাহেবের কর্মকাণ্ড ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর (রা)-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উমর (রা) রাতে ছদ্মবেশে প্রজাদের খোঁজখবর নিতেন। একবার ক্ষুধার্ত শিশুদের কান্না শুনে তিনি নিজে বায়তুল মাল থেকে আটার বস্তা পিঠে বহন করে তাদের কাছে নিয়ে যান এবং রান্না করে খাওয়ান। আবার এক প্রসূতি নারীর সাহায্যে তিনি নিজের স্ত্রী উম্মে কুলসুমকে পাঠিয়েছিলেন। মকবুল সাহেবও রাতের অন্ধকারে ইউনিয়নের তহবিল থেকে আটা এনে বিতরণ করেন এবং স্ত্রীকে নিয়ে গর্ভবতী নারীদের সাহায্য করেন। উভয়ের মধ্যে জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ ও দরদ প্রকাশ পেয়েছে।
- ঘ)
আমি আবেদার মন্তব্যের সাথে একমত। কারণ চিকিৎসা বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান অনস্বীকার্য।
১. ইবনে সিনা: তিনি 'আল-কানুন ফিত তিব' গ্রন্থ রচনা করেন, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাশাস্ত্রের পাঠ্য ছিল। তাঁকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অন্যতম পথিকৃৎ গণ্য করা হয়।
২. আল-রাযী: তিনি হাম ও বসন্তরোগের পার্থক্য নির্ণয় করেন এবং চিকিৎসা বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।
৩. হাসপাতাল ও গবেষণা: মুসলিম বিজ্ঞানীরা হাসপাতাল স্থাপন, ঔষধ তৈরি ও রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি উন্নত করেন। এগুলো পরবর্তী চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভিত্তি।সুতরাং, মুসলিম চিকিৎসকদের গবেষণার ওপর ভিত্তি করেই আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান গড়ে উঠেছে, তাই আবেদার মন্তব্য যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও