বিজ্ঞান • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
বিজ্ঞান প্রশ্ন
কুষ্টিয়া শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গড়াই নদীর দুই পাড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিল্প কারখানা। নদীটিতে সারা বছর পানি থাকে। অতীতে নদীটিতে প্রচুর মাছ পাওয়া গেলেও বর্তমানে তাতে কোনো মাছ ও জলজ উদ্ভিদ আর দেখা যায় না।
- ক)(1)
স্ফুটনাঙ্ক কাকে বলে?
- খ)(2)
সাগরের পানি কি বিশুদ্ধ? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
নদীটির পানি কীভাবে দূষিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
নদীটিতে কোন জলজ উদ্ভিদ ও মাছ না থাকার কারণ বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
স্ফুটনাঙ্ক হলো বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়। পানির স্ফুটনাঙ্ক ১০০° সেলসিয়াসের কাছাকাছি।
- খ)
না, সাগরের পানি বিশুদ্ধ নয়। এতে নানা রকম খনিজ লবণ দ্রবীভূত থাকে, তাই এটি লবণাক্ত। বিশুদ্ধ পানি বর্ণহীন, গন্ধহীন, স্বাদহীন এবং এতে লবণ বা অন্য দ্রবীভূত পদার্থ থাকে না। সাগরের পানিতে অনেক জীবও বাস করে। তাই এ পানি সরাসরি পান বা ব্যবহারের উপযোগী নয়।
- গ)
গড়াই নদীর দুই পাড়ে গড়ে ওঠা শিল্পকারখানার বর্জ্যপানি সরাসরি নদীতে ফেলায় নদীটির পানি দূষিত হয়েছে।
কারখানার বর্জ্যপানিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক, তেল, গ্রিজ ও অন্যান্য অদ্রবণীয় পদার্থ থাকে। এগুলো নদীর পানির বর্ণ ও স্বাদ বদলে দেয়, পানি ঘোলা করে এবং বিষাক্ত পদার্থ মিশিয়ে দেয়। কারখানার বর্জ্যপানি পরিশোধন (ইটিপির মাধ্যমে) না করে ফেললে নদীর পানি দূষণের প্রধান কারণ হয়।
- ঘ)
গড়াই নদীতে মাছ ও জলজ উদ্ভিদ না থাকার কারণ হলো শিল্পকারখানার বর্জ্যে পানির মান নষ্ট হয়ে যাওয়া।
১. ঘোলা পানি: তেল, গ্রিজ ও অদ্রবণীয় পদার্থে পানি ঘোলা হলে সূর্যের আলো পানির নিচের উদ্ভিদ পর্যন্ত পৌঁছায় না। ফলে সালোকসংশ্লেষণ বাধাগ্রস্ত হয়, উদ্ভিদের বৃদ্ধি কমে এবং অক্সিজেন তৈরিও বন্ধ হয়ে যায়।
২. অক্সিজেনের অভাব ও বিষাক্ত পদার্থ: ক্ষতিকর রাসায়নিক জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর জন্য বিষাক্ত। মাছ ফুলকা দিয়ে পানি থেকে অক্সিজেন নেয়, তাই পানিতে অক্সিজেন কমে গেলে মাছ বাঁচতে পারে না।
৩. খাদ্যের অভাব: জলজ উদ্ভিদ মাছের খাদ্যভাণ্ডার। উদ্ভিদ নষ্ট হলে মাছ খাদ্য পায় না। ময়লা-আবর্জনা থেকে জন্মানো জীবাণুও জলজ জীবনের জন্য ক্ষতিকর।সুতরাং, দূষিত ও ঘোলা পানির কারণেই নদীটিতে মাছ ও জলজ উদ্ভিদ আর দেখা যায় না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও