পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
'P' দেশটি উত্তর ও দক্ষিণ দুই অংশে বিভক্ত। দেশটির শাসকগোষ্ঠী উত্তরাংশের সংস্কৃতি দক্ষিণাংশের উপর চাপিয়ে দিলে দক্ষিণাংশের জনগণ প্রতিবাদী হয়ে উঠে এবং এর ফলে বিশেষ আন্দোলনের সৃষ্টি হয়। অপরদিকে 'Q' ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নিজ এলাকার জনগণকে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বেশি সুযোগ দেয় এবং বাজেট বরাদ্দের বেশির ভাগ টাকা নিজ এলাকার উন্নয়নে খরচ করে। ফলে বঞ্চিত এলাকার জনগণের প্রাণপ্রিয় নেতা 'M' নিজেদের ন্যায্য দাবি সম্বলিত কয়েকটি প্রস্তাব চেয়ারম্যানের কাছে তুলে ধরেন।
- ক)(1)
আগরতলা মামলার আনুষ্ঠানিক নাম কী ছিল?
- খ)(2)
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের রাতকে 'কালরাত্রি' বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'P' দেশটির আন্দোলন তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের 'Q' ইউনিয়নের 'M' নেতার দাবিসমূহেরঅনুরূপ দাবিগুলোই ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ- উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
আগরতলা মামলার আনুষ্ঠানিক নাম ছিল 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান গং'।
- খ)
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে ঢাকায় ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র বাঙালির উপর নৃশংস হামলা চালায়। এ রাতে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও পিলখানায় অসংখ্য মানুষকে হত্যা করে এবং ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়।
এ ভয়াবহ গণহত্যার কারণে ২৫ মার্চের রাতকে 'কালরাত্রি' বলা হয়।
- গ)
উদ্দীপকের 'P' দেশের আন্দোলন আমার পাঠ্যবইয়ের ভাষা আন্দোলনের (১৯৫২) সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে 'P' দেশের শাসকগোষ্ঠী উত্তরাংশের সংস্কৃতি দক্ষিণাংশের উপর চাপিয়ে দিলে দক্ষিণাংশের জনগণ প্রতিবাদ করে আন্দোলন গড়ে তোলে। একইভাবে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পশ্চিম পাকিস্তানের ভাষা উর্দুকে সমগ্র দেশের রাষ্ট্রভাষা করতে চাইলে পূর্ব বাংলার মানুষ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলন করে। এ আন্দোলনে বহু মানুষ জীবন দেয়। তাই 'P' দেশের আন্দোলন ভাষা আন্দোলনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
উদ্দীপকের 'Q' ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাজেটের বেশির ভাগ নিজ এলাকায় ব্যয় করায় বঞ্চিত এলাকার নেতা 'M' ন্যায্য দাবি তোলেন। এটি পাকিস্তানের দুই অংশের বৈষম্যের সাথে মিলে যায়। ছয় দফার দাবিগুলো ছিল এ বৈষম্য দূর করার জন্য। উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ বলে আমি মনে করি।
১. অর্থনৈতিক বৈষম্য: পাকিস্তানের শাসকরা পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদ পশ্চিমে ব্যয় করত। ছয় দফায় দুই অঞ্চলের জন্য পৃথক মুদ্রা বা পৃথক হিসাব, কর আদায়ের ক্ষমতা প্রদেশের হাতে এবং বৈদেশিক বাণিজ্য ও মুদ্রা অর্জনের পৃথক ব্যবস্থার দাবি ছিল।
২. স্বায়ত্তশাসন: ফেডারেল ও সংসদীয় ব্যবস্থায় কেন্দ্রের হাতে শুধু প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র থাকবে, বাকি ক্ষমতা প্রদেশের হাতে থাকবে।
৩. নিরাপত্তা: পূর্ব পাকিস্তানের জন্য আঞ্চলিক আধাসামরিক বাহিনী গঠনের দাবি ছিল।'M' নেতার দাবিগুলো যেমন বঞ্চিত এলাকার ন্যায্য উন্নয়ন চেয়েছে, তেমনি ছয় দফাও বাঙালির ন্যায্য অধিকার চেয়েছে। সুতরাং, উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও