উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৬

উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব রমজান বর্ষাকালে রাঙ্গামাটিতে বেড়াতে গিয়ে একটি হোটেলে ওঠেন। হোটেল কর্তৃপক্ষ ৩০% কমে রুম ভাড়া দিতে সম্মত হয়। হোটেলের অভ্যর্থনা কক্ষের পাশে একটি আকর্ষণীয় 'জুস বার' রয়েছে। সেখান থেকে দেখামাত্র তিনি একগ্লাস আনারস জুস নির্ধারিত মূল্যে উপভোগ করেন।

  1. ক)

    বিশিষ্ট পণ্য কী?

    (1)
  2. খ)

    পণ্যের উন্নয়ন স্তরে বিনিয়োগ বেশি হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে আনারস জুস কোন ধরনের পণ্য? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে রুম ভাড়ার ক্ষেত্রে ৩০% যে মূল্য ছাড় দিয়েছে তার ধরন উল্লেখপূর্বক এর যৌক্তিকতা মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব ভোগ্যপণ্যের বিশেষ বৈশিষ্ট্য বা ব্র্যান্ড পরিচিতির কারণে ক্রেতারা পণ্যটি ক্রয়ের জন্য বিশেষ প্রচেষ্টা বা সময় ব্যয় করে, তাকে বিশিষ্ট পণ্য (Specialty Product) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পণ্য জীবনচক্রের পণ্য উন্নয়ন স্তরে মূলত নতুন পণ্যের ধারণা উদ্ভাবন, যাচাই-বাছাই, নকশা তৈরি, প্রোটোটাইপ বা নমুনা উৎপাদন এবং বাজার পরীক্ষার কাজ পরিচালিত হয়। এই স্তরে পণ্য বাজারে বিক্রি হয় না বলে কোনো বিক্রয় রাজস্ব বা আয় থাকে না; অথচ গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) এবং বাজার যাচাইয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। এ কারণে পণ্য উন্নয়ন স্তরে বিনিয়োগ সবচেয়ে বেশি হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত আনারস জুস হলো সুবিধাজনক পণ্যের অন্তর্গত 'তাড়নাজাত পণ্য' (Impulse Product)।

    যেসব পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতার পূর্বপরিকল্পনা থাকে না, বরং দেখামাত্র বা আকস্মিক ইচ্ছার বশবর্তী হয়ে ক্রেতা ক্রয় করে, সেগুলোকে তাড়নাজাত পণ্য বলা হয়। এগুলো সাধারণত সুবিধাজনক স্থানে বা দৃষ্টি আকর্ষণকারী স্থানে সাজিয়ে রাখা হয়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব রমজান রাঙ্গামাটিতে বেড়াতে গিয়ে হোটেলে অবস্থানকালে অভ্যর্থনা কক্ষের পাশে আকর্ষণীয় 'জুস বার' দেখামাত্র এক গ্লাস আনারস জুস কিনে উপভোগ করেন। জুস খাওয়ার বিষয়ে তাঁর পূর্বপরিকল্পনা ছিল না; কেবল দেখামাত্র তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকে তিনি এটি ক্রয় করেন। তাই বিপণনের দৃষ্টিকোণ থেকে এই আনারস জুসটি তাড়নাজাত পণ্য।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রুম ভাড়ার ক্ষেত্রে ৩০% মূল্যছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিপণনের 'মৌসুমি বা অফ-সিজন বাট্টা' (Seasonal Discount)-এর অন্তর্ভুক্ত এবং এটি অত্যন্ত যৌক্তিক।

    যেসব পণ্যের বা সেবার চাহিদা সারা বছর সমান থাকে না, বরং নির্দিষ্ট মৌসুমে হ্রাস পায়, সেসব অফ-সিজনে বিক্রয় বাড়াতে বা গ্রাহক আকর্ষণে মূল্যের ওপর যে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয় তাকে মৌসুমি ছাড় বা বাট্টা বলে। পর্যটন শিল্পে বর্ষাকাল হলো 'অফ-পিক' বা অফ-সিজন, কারণ এ সময় পর্যটক সমাগম স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক কম থাকে।

    হোটেল একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, যার সেবা অবিনশ্বর নয় বরং পচনশীল (Perishable)—অর্থাৎ কোনো দিনের খালি রুমের ভাড়া পরবর্তী সময়ে আর পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। অফ-সিজনে হোটেল পুরো খালি থাকার চেয়ে ৩০% ছাড়ে ভাড়া দিলে হোটেলের নির্দিষ্ট পরিচালনা ব্যয় আংশিক উঠে আসে এবং নগদ প্রবাহ সচল থাকে। উদ্দীপকে বর্ষাকালে পর্যটক কম থাকায় হোটেল কর্তৃপক্ষ ৩০% ছাড় দিয়ে জনাব রমজানকে রুম ভাড়া দিয়েছে, যা অফ-সিজনের ঘাটতি মেটাতে ও ধারণক্ষমতার সদ্ব্যবহার করতে কার্যকর বিপণন কৌশল। অতএব, অফ-সিজন বাট্টা প্রদানের এই কৌশলটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন