‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

মিসেস “Y” একজন নারী উদ্যোক্তা। তিনি ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচির ওপর একাধিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তিনি ২ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে ‘বাঁচতে দাও” নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন । পাঁচ বছর পর তার প্রতিষ্ঠানের আয় দাঁড়ায় ৭ লক্ষ টাকা । এরপর তিনি সরকার ও বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠীর কাছ থেকে আরো ৫ লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন ।

  1. ক)

    নিমজ্জমান মূলধন বলতে কী বোঝায়?

    (1)
  2. খ)

    মূলধনের গতিশীলতা কীভাবে সৃষ্টি হয়?

    (2)
  3. গ)

    কীভাবে মূলধন গঠিত হয়?

    (3)
  4. ঘ)

    দাতাগোষ্ঠী ও সরকার যদি মিসেস ‘Y” কে ঋণ না দিত তাহলেও তার মূলধন গঠন অব্যাহত থাকত— বুঝিয়ে বল ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে মূলধন কেবল একটি নির্দিষ্ট উৎপাদনে একবারই ব্যবহার করা যায় এবং অন্য কোনো উদ্দেশ্যে বা বিকল্প ব্যবহারে স্থানান্তর করা যায় না, তাকে নিমজ্জমান মূলধন (Sunk Capital) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মূলধনের গতিশীলতা সৃষ্টি হয় এর স্থানান্তরযোগ্যতা এবং বিভিন্ন বিকল্প ব্যবহারের সুযোগের মাধ্যমে।

    মূলধন যখন ভৌগোলিক অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে (এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যায়), এক শিল্প বা পেশা থেকে অন্য শিল্প বা পেশায় স্থানান্তরিত হতে পারে অথবা এক উৎপাদন স্তর থেকে অন্য উৎপাদন স্তরে ব্যবহৃত হতে পারে, তখন মূলধনের গতিশীলতা সৃষ্টি হয়। উপযুক্ত পরিবহন ব্যবস্থা, উন্নত আর্থিক বাজার এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ মূলধনের গতিশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্থনীতিতে মূলধন গঠিত হয় মূলত সঞ্চয় এবং সেই সঞ্চিত অর্থ ফলপ্রসূ বিনিয়োগে রূপান্তরের মাধ্যমে।

    মূলধন গঠনের প্রক্রিয়াটি প্রধানত তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়:
    ১. সঞ্চয় সৃষ্টি: বর্তমান ভোগ স্থগিত রেখে আয়ের যে অংশ ভবিষ্যৎ ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করা হয়, তা হলো সঞ্চয়। সঞ্চয় নির্ভর করে ব্যক্তির সঞ্চয়ের ইচ্ছা এবং সঞ্চয়ের সামর্থ্যের ওপর।
    ২. সঞ্চয় সংগ্রহ ও সংহতকরণ: ব্যক্তিবর্গ বা প্রতিষ্ঠানের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় ব্যাংক, ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠান বা বিভিন্ন আর্থিক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একত্রিত করা হয়।
    ৩. সঞ্চয়কে বিনিয়োগে রূপান্তর: সংগৃহীত সঞ্চয় যখন নতুন উৎপাদন সরঞ্জাম, কাঁচামাল, কারখানা স্থাপন বা উৎপাদনশীল কাজে ব্যয় করা হয়, তখন তাকে বিনিয়োগ বলে। এই বিনিয়োগই উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে মূলধনে রূপ নেয়।

    অতএব, আয় থেকে সঞ্চয় সৃষ্টি এবং সেই সঞ্চয় বিনিয়োগের মাধ্যমেই সমাজে মূলধন গঠিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দাতাগোষ্ঠী ও সরকার যদি ঋণ নাও দিত, তাহলেও মিসেস 'Y'-এর মূলধন গঠন অব্যাহত থাকত— উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক। নিচে এর কারণ ব্যাখ্যা করা হলো:

    মূলধন গঠনের মূল ভিত্তি হলো উৎপাদনশীল বিনিয়োগ থেকে অর্জিত উদ্বৃত্ত বা মুনাফা পুনঃবিনিয়োগ করা। উদ্দীপকে মিসেস ‘Y’ প্রাথমিকভাবে ২ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে ‘বাঁচতে দাও’ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। পাঁচ বছর পর তাঁর প্রতিষ্ঠানের আয় দাঁড়িয়েছে ৭ লক্ষ টাকায়। অর্থাৎ, তিনি প্রাথমিক বিনিয়োগের অতিরিক্ত ৫ লক্ষ টাকা মোট উদ্বৃত্ত বা মূল্য সংযোজন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন।

    উক্ত ৫ লক্ষ টাকা উদ্বৃত্ত বা মুনাফা থেকে তিনি ভোগ ও পরিচালন ব্যয় মেটানোর পরও একটি বড় অংশ অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় (Internal Savings) হিসেবে সংরক্ষণ করতে পারতেন। আধুনিক অর্থনীতি ও ব্যবসায় মূলধন গঠনের সবচেয়ে টেকসই উপায় হলো নিজস্ব মুনাফার পুনঃবিনিয়োগ (Ploughing back of profit)। মিসেস ‘Y’ যদি অর্জিত আয় বা মুনাফার এই সঞ্চিত অংশ পুনরায় তাঁর কারবারে বিনিয়োগ করতেন, তবে কোনো বহিঃস্থ ঋণ (যেমন: সরকার বা দাতাগোষ্ঠীর সহায়তা) ছাড়াও তাঁর মূলধন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া বা মূলধন গঠন অব্যাহত থাকত।

    সুতরাং, প্রতিষ্ঠানের অর্জিত অভ্যন্তরীণ উদ্বৃত্ত ও ব্যবসায়িক সফলতাই মূলধন গঠনের গতি ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট ছিল, যার কারণে বহিরাগত ঋণ ব্যতিরেকেও মূলধন গঠন চলতে পারত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন