হিন্দু ধর্ম • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

  1. ক)

    ধর্মাচার কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    কোন ধর্মাচারটি বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক মহোৎসব? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    চিত্র-১ এর অনুষ্ঠানটির ধারণা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'চিত্র-২ এর অনুষ্ঠানটি একদিকে উৎসব অন্যদিকে ব্যবসায়িক গুরুত্ব বহন করে।'- উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে সকল আচার-আচরণ আমাদের জীবনকে সুন্দর ও মঙ্গলময় করে গড়ে তোলে, তাকে ধর্মাচার বলে।

  2. খ)

    বর্ষবরণ বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার মহোৎসব। বাংলা সনের প্রথম দিন নতুন বছরকে বরণ করার এই উৎসব ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি সর্বজনীনতা পেয়েছে। এদিন পূজা, মিষ্টি খাওয়া, ভাব বিনিময় ও হালখাতাসহ নানা অনুষ্ঠান হয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এতে অংশ নেয় বলে এটি অসাম্প্রদায়িক উৎসব।

  3. গ)

    চিত্র-১ এ চাকাওয়ালা রথ ও রথ ঘিরে ভক্তদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। এটি রথযাত্রা অনুষ্ঠানের চিত্র।

    রথযাত্রা হিন্দুদের একটি প্রধান ধর্মানুষ্ঠান, যা এখন সর্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে এটি শুরু হয়। এটি শ্রীশ্রীজগন্নাথ দেবের রথযাত্রা নামে পরিচিত। ওড়িশার পুরীতে জগন্নাথ দেবের মন্দির প্রতিষ্ঠিত।

    রথ হলো চাকাওয়ালা একটি যান, যাতে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা এই তিন দেবতা অধিষ্ঠিত থাকেন। ভক্তরা রশি দিয়ে রথটি একটি নির্দিষ্ট মন্দির থেকে টেনে অন্য একটি মন্দির বা বারোয়ারিতলায় নিয়ে রেখে আসে। নবম দিনে একাদশীর দিন রথটি আবার আগের মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হয়, একে পুনর্যাত্রা বা উল্টোরথ বলে। এ সময় নয় দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও মেলা হয়। বাংলাদেশে ঢাকা জেলার ধামরাইয়ের রথযাত্রা বিখ্যাত।

    সুতরাং, চিত্র-১ এর অনুষ্ঠান রথযাত্রা।

  4. ঘ)

    চিত্র-২ এ জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তি দেখা যাচ্ছে, যা রথযাত্রা অনুষ্ঠানের সাথে সম্পর্কিত। উক্তিটি 'রথযাত্রা একদিকে উৎসব, অন্যদিকে ব্যবসায়িক গুরুত্ব বহন করে' সম্পূর্ণ যথার্থ।

    পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, রথের মেলা একদিকে উৎসব, অন্যদিকে এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। এর তাৎপর্য নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।

    ১. ধর্মীয় উৎসব ও আনন্দ: আষাঢ়ের শুক্লা দ্বিতীয়ায় শুরু হয়ে নয় দিন ধরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলে। ভক্তরা মিলে রথের রশি টানে, ফলে এটি আনন্দ ও ভক্তির উৎসবে পরিণত হয়।
    ২. সাম্য ও সর্বজনীনতা: রথের সময় ভগবান ভক্তের কাছে নেমে আসেন বলে বিশ্বাস। সবাই একত্রে রশি ধরে, জাতি-বর্ণের ভেদ থাকে না। তাই এটি সাম্যের শিক্ষা দেয় এবং সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।
    ৩. ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব: রথযাত্রা উপলক্ষে নয় দিনব্যাপী মেলা বসে, যেখানে মিষ্টি, খেলনা, মাটির জিনিস, কুটির শিল্পজাত দ্রব্য ও নানা পণ্যের কেনাবেচা হয়। এতে কারিগর, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের আয় বাড়ে এবং স্থানীয় অর্থনীতি সচল হয়।
    ৪. সামাজিক সম্প্রীতি: বিভিন্ন ধর্ম ও পেশার মানুষ মেলায় আসে। এতে সামাজিক মিলন ও সম্প্রীতি বাড়ে।

    সুতরাং, রথযাত্রা ধর্মীয় আবেগ, সাম্য ও আনন্দের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকেও গতিশীল করে। তাই এটি একদিকে উৎসব, অন্যদিকে ব্যবসায়িক গুরুত্ব বহন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন