বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

  1. ক)

    ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন কী?

    (1)
  2. খ)

    নবজাগরণের সূচনা হয় কীভাবে?

    (2)
  3. গ)

    '?' চিহ্নিত ব্যক্তি শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন- ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "সমাজ সংস্কারক হিসেবে উক্ত মহান ব্যক্তির অবদান উল্লেখযোগ্য"- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পলাশির যুদ্ধের কিছুকাল পর থেকে ফকির ও সন্ন্যাসীদের নেতৃত্বে যে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়, তাকে ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন বলে।

  2. খ)

    ইংরেজ শাসনের শুরুতে বাংলার মানুষ তা মেনে নেয়নি এবং প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলে। পরে পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাবে সমাজে সংস্কার আন্দোলনের সূচনা হয়। শিক্ষিত সমাজ ধর্ম, শিক্ষা, সাহিত্য ও সমাজের কুসংস্কার নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করে। এই সময়ে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন রায়, নওয়াব আবদুল লতিফ, সৈয়দ আমির আলি, বেগম রোকেয়া প্রমুখ সংস্কারকের উদ্যোগে নবজাগরণের সূচনা হয়।

  3. গ)

    '?' চিহ্নিত ব্যক্তি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, যিনি শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন।

    ১. শিক্ষা বিস্তার: তিনি সংস্কৃত শিক্ষার সংস্কার, বাংলা শিক্ষার ভিত্তি স্থাপন এবং নারীশিক্ষা প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। স্কুল পরিদর্শক থাকাকালে তিনি গ্রামে-গঞ্জে ২০টি মডেল স্কুল ও ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
    ২. প্রতিষ্ঠান: তাঁর প্রতিষ্ঠিত মেট্রোপলিটান ইনস্টিটিউশন বর্তমানে বিদ্যাসাগর কলেজ নামে পরিচিত।
    ৩. পাঠ্যপুস্তক রচনা: শিশুদের শিক্ষা সহজ করতে তিনি 'বর্ণ পরিচয়' (প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগ) এবং সংস্কৃত শিক্ষা সহজ করার জন্য 'ব্যাকরণের উপক্রমণিকা' রচনা করেন। বাংলা গদ্যসাহিত্যকে নবজীবন দান করায় তাঁকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত মনীষী ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সমাজ সংস্কারক হিসেবে অবদান সত্যিই উল্লেখযোগ্য। চিত্রের তথ্যগুলোও তাঁর সংস্কারকাজের পরিচয় বহন করে।

    ১. বিধবা বিবাহের পক্ষে সংগ্রাম: তিনি হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহের পক্ষে কঠোর অবস্থান নেন। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় ১৮৫৬ সালে গভর্নর জেনারেলের সম্মতিক্রমে বিধবা বিবাহ আইন পাস হয়।
    ২. কুপ্রথার বিরুদ্ধে অবস্থান: তিনি কন্যাশিশু হত্যা ও বহুবিবাহ প্রথার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন।
    ৩. দান-দাক্ষিণ্য ও মানবসেবা: তিনি দান-দাক্ষিণ্যের জন্য খ্যাত ছিলেন বলে 'দয়ার সাগর' নামে পরিচিত হন। অনাথ ছাত্ররা তাঁর বাসায় থেকে পড়ালেখা করত এবং মাইকেল মধুসূদন দত্তকে তিনি আর্থিক সাহায্য করেছেন।

    সুতরাং, কুসংস্কার ও কুপ্রথার বিরুদ্ধে সংগ্রাম, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে বিদ্যাসাগর বাঙালি সমাজকে আধুনিকতার পথে এগিয়ে নিয়েছেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন