উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৭

উৎপাদন ব্যাবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র প্রশ্ন

জনাব লিটন সিরাজগঞ্জের কাশিপুর চর অঞ্চলে একটি দুগ্ধখামার স্থাপন করেন। সেখানে গরুর খাবার সহজে পাওয়ায় অনেকগুলো দুগ্ধখামার আছে। তার খামারের ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ বছরে দুধ উৎপাদন ১,০০০, ১,৫০০, ১,৮০০ ও ২,০০০ লিটার এবং খরচ যথাক্রমে ৫০,০০০; ১,০০,০০০; ১,৫০,০০০ ও ২,০০,০০০ টাকা। জনাব লিটন তার খামারের উৎপাদিত দুধ বিক্রি করতে গেলে বাজারের কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে ন্যায্যমূল্য পান না। এই প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তিনি প্রচলিত আইন অনুযায়ী কাশিপুর চর অঞ্চলের দুগ্ধখামারিদের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন, যা তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  1. ক)

    উলম্ব গতিশীলতা কী?

    (1)
  2. খ)

    শ্রমের দক্ষতা বাড়াতে মূলধনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    জনাব লিটনের দুগ্ধখামারে উৎপাদনের কোন বিধিটি দেখা যায়? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য জনাব লিটনের প্রস্তাবটি কী গ্রহণযোগ্য? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো শ্রমিকের পদমর্যাদা, দায়িত্ব ও বেতনের পরিবর্তন হয়ে এক স্তর বা পদ থেকে উচ্চতর বা নিম্নতর স্তরে স্থানান্তরিত হওয়াকে উলম্ব গতিশীলতা (Vertical Mobility) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    শ্রমের উৎপাদনশীলতা বা দক্ষতা বাড়াতে মূলধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উন্নত যন্ত্রপাতি, আধুনিক প্রযুক্তি ও পর্যাপ্ত কাঁচামাল হলো মূলধনের বিভিন্ন রূপ। একজন শ্রমিক সনাতন পদ্ধতিতে কাজ করলে যে সময় ও শ্রম লাগে, আধুনিক মূলধনি যন্ত্রপাতির সহায়তায় কাজ করলে তার চেয়ে অনেক কম সময়ে নির্ভুলভাবে অধিক পরিমাণ পণ্য উৎপাদন করতে পারে। তাই মূলধনের পর্যাপ্ত ও যথাযথ ব্যবহার শ্রমিকের কাজের গতি ও দক্ষতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জনাব লিটনের দুগ্ধখামারে 'ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি' (Law of Diminishing Marginal Returns) কার্যকর হতে দেখা যায়।

    উৎপাদনের অন্যান্য উপকরণ অপরিবর্তিত রেখে কোনো একটি নির্দিষ্ট উপকরণ বা খরচ ক্রমাগত সমহারে বাড়ানো হলে, মোট উৎপাদন বাড়লেও প্রান্তিক উৎপাদন যদি ক্রমশ কমতে থাকে, তবে তাকে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি বলে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব লিটনের খামারে ১ম থেকে ৪র্থ বছর পর্যন্ত প্রতি বছর সমহারে ৫০,০০০ টাকা করে খরচ বৃদ্ধি পায় (খরচ যথাক্রমে ৫০,০০০; ১,০০,০০০; ১,৫০,০০০ এবং ২,০০,০০০ টাকা)। কিন্তু মোট দুধ উৎপাদনের পরিমাণ যথাক্রমে ১,০০০ লিটার, ১,৫০০ লিটার, ১,৮০০ লিটার এবং ২,০০০ লিটার। ফলে প্রান্তিক উৎপাদন হিসাব করলে দেখা যায়:
    ১ম বছরে প্রান্তিক উৎপাদন = ১,০০০ লিটার
    ২য় বছরে প্রান্তিক উৎপাদন = (১,৫০০ - ১,০০০) = ৫০০ লিটার
    ৩য় বছরে প্রান্তিক উৎপাদন = (১,৮০০ - ১,৫০০) = ৩০০ লিটার
    ৪র্থ বছরে প্রান্তিক উৎপাদন = (২,০০০ - ১,৮০০) = ২০০ লিটার

    এখানে খরচের পরিবর্তন সমান (৫০,০০০ টাকা) হওয়া সত্ত্বেও অতিরিক্ত বা প্রান্তিক দুধ উৎপাদনের পরিমাণ ক্রমাগত হ্রাস পেয়েছে (১০০০ > ৫০০ > ৩০০ > ২০০)। সুতরাং, জনাব লিটনের দুগ্ধখামারে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধিটি কার্যকর হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য জনাব লিটনের প্রস্তাবটি সম্পূর্ণরূপে গ্রহণযোগ্য ও সময়োপযোগী। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা হলো:

    উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে যে, কাশিপুর চরাঞ্চলে অনেকগুলো দুগ্ধখামার থাকলেও এককভাবে দুধ বিক্রি করতে গিয়ে খামারিরা স্থানীয় অসাধু মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীদের কারণে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই শোষণ ও বাজারজাতকরণ সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য জনাব লিটন প্রচলিত আইন অনুযায়ী কাশিপুর চর অঞ্চলের দুগ্ধখামারিদের নিয়ে একটি যৌথ প্রতিষ্ঠান—মূলত 'দুগ্ধ উৎপাদক সমবায় সমিতি' গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।

    এই প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য হওয়ার কারণসমূহ:
    ১. মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য দূরীকরণ: সমবায় ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে খামারিরা সংঘবদ্ধ হতে পারবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের জিম্মি করে কম দামে দুধ কিনতে পারবে না।
    ২. ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি ও সরাসরি বিপণন: সমবায়ের মাধ্যমে সরাসরি পাইকারি বাজারে, প্রক্রিয়াজাতকারী কোম্পানিতে বা ভোক্তাদের কাছে দুধ বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি হবে, ফলে খামারিরা তাদের উৎপাদিত দুধের ন্যায্যমূল্য পাবেন।
    ৩. অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন: সমবায়ের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে গো-খাদ্য ও ওষুধ সংগ্রহ এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা তাদের পারস্পরিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা বিধান করবে।

    অতএব, দুগ্ধচাষীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং প্রচলিত সমবায় আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রস্তাবটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও কার্যকর একটি সমাধান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন