ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং প্রশ্ন

মি. আতিক তার জমানো কিছু অর্থ বিনিয়োগ করার জন্য বিভিন্ন বিনিয়োগ ক্ষেত্র বিচার-বিশ্লেষণ করে একটি কোম্পানির স্থাবর সম্পত্তির মূল্যবান কাগজপত্র নিজের কাছে সংরক্ষণ করে বিনিয়োগের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। অপরদিকে তার বন্ধু আরিফ বেশি আয়ের আশায় বেশি ঝুঁকি নিতে আগ্রহী হয়ে বিনিয়োগ করতে চান। তিনি মনে করেন, ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগেই সর্বোচ্চ আয় সম্ভব।

  1. ক)

    শেয়ার কী?

    (1)
  2. খ)

    স্টক লভ্যাংশ কাকে বলে? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    মি. আতিকের বিনিয়োগ ক্ষেত্রটি বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "আরিফের বিনিয়োগে কোম্পানির মালিকানা পেলেও ঝুঁকি বেশি।" কথাটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    শেয়ার (Share) হলো কোম্পানির মূলধনের ক্ষুদ্রতম সমান একক। শেয়ার কিনে বিনিয়োগকারী কোম্পানির আংশিক মালিকানা লাভ করেন।

  2. খ)

    কোম্পানি নগদ টাকার পরিবর্তে শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার আকারে যে লভ্যাংশ প্রদান করে, তাকে স্টক লভ্যাংশ (বোনাস শেয়ার) বলে। কোম্পানি তার সঞ্চিত মুনাফা বা সংরক্ষিত আয়কে মূলধনে রূপান্তর করে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার অনুপাতে নতুন শেয়ার বিতরণ করে। এতে কোম্পানির নগদ অর্থ বের হয় না, কিন্তু শেয়ারহোল্ডারের শেয়ারসংখ্যা বাড়ে। যেমন ৪টি শেয়ারের বিপরীতে ১টি বোনাস শেয়ার।

  3. গ)

    মি. আতিক কোম্পানির স্থাবর সম্পত্তির মূল্যবান কাগজপত্র নিজের কাছে জামানত হিসেবে রেখে বিনিয়োগের চুক্তি করেছেন। এটি জামানতযুক্ত ঋণপত্র (Secured Debenture)-এ বিনিয়োগ।

    ১. ঋণপত্র: কোম্পানি দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সংগ্রহে যে লিখিত দলিল বা সনদ ইস্যু করে, তা ঋণপত্র। এতে বিনিয়োগকারী কোম্পানির মালিক নন, ঋণদাতা।
    ২. জামানত: এখানে কোম্পানির স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রেখে ঋণপত্র ইস্যু করা হয়েছে। কোম্পানি ঋণ শোধ করতে না পারলে সেই সম্পত্তি বিক্রি করে ঋণ আদায় করা যাবে।
    ৩. আয়: ঋণপত্রে নির্দিষ্ট হারে সুদ পাওয়া যায়, লাভ-লোকসান যাই হোক।
    ৪. নিরাপত্তা: জামানত থাকায় ঝুঁকি কম।

    তাই মি. আতিকের বিনিয়োগ ক্ষেত্র জামানতযুক্ত ঋণপত্র।

  4. ঘ)

    আরিফ কোম্পানির সাধারণ শেয়ারে বিনিয়োগ করতে চান, যেখানে তিনি কোম্পানির আংশিক মালিকানা পান। তবে এতে ঝুঁকি অনেক বেশি।

    ১. লভ্যাংশ অনিশ্চিত: কোম্পানির মুনাফা না হলে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেওয়া হয় না। সুদ বা লভ্যাংশের কোনো নিশ্চয়তা নেই।
    ২. দাবি সবার শেষে: কোম্পানি বিলুপ্ত হলে আগে ঋণদাতা ও ঋণপত্রধারীদের এবং অগ্রাধিকার শেয়ারহোল্ডারদের পাওনা শোধ হয়। তারপর অবশিষ্ট থাকলে সাধারণ শেয়ারহোল্ডার পায়।
    ৩. মূল্যের ওঠানামা: শেয়ারবাজারে শেয়ারের দাম ওঠানামা করে। দাম কমলে মূলধনী ক্ষতি হতে পারে।
    ৪. সুবিধা: ঝুঁকির বিনিময়ে মুনাফা বেশি হলে বেশি লভ্যাংশ, বোনাস শেয়ার ও ভোটাধিকার পাওয়া যায়।

    সুতরাং, আরিফের বিনিয়োগে মালিকানা, ভোটাধিকার ও বেশি আয়ের সুযোগ থাকলেও আয়ের অনিশ্চয়তা ও মূলধন হারানোর কারণে ঝুঁকি বেশি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন