ইসলাম • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

ইসলাম প্রশ্ন

রুবিনা খাতুন একজন স্কুলশিক্ষিকা। তার ব্যাংকে দুই লক্ষ টাকা এবং ছয় লক্ষ টাকার স্বর্ণের অলংকার আছে। বছর শেষে তিনি অসহায় গরিবদের মাঝে ১৫ হাজার টাকা বিতরণ করেন। অপরদিকে, বুবিনার ছেলে রাশেদ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে কিন্তু কষ্টকর ভেবে এমন একটি ফরজ ইবাদত পালনে অবহেলা করে সেটা রমজান মাসের সাথে সম্পৃক্ত। বিষয়টি জানতে পেরে তার বাবা বলেন, এ মাসের ইবাদত পালন করা অত্যাবশ্যক। এর মাধ্যমে পারস্পরিক সহানুভূতি ও সহমর্মিতা সৃষ্টি হয়।

  1. ক)

    ইজমা কী?

    (1)
  2. খ)

    হাক্কুল ইবাদ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    বুবিনা খাতুনের ইবাদতটি কি সঠিক হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    রাশেদের অবহেলা করা ইবাদতটি চিহ্নিত করে তার বাবার বক্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    রাসুল (সা.)-এর ওফাতের পর কোনো যুগে কোনো বিষয়ে উম্মতের মুজতাহিদ আলেমদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তকে ইজমা বলে।

  2. খ)

    হাক্কুল ইবাদ অর্থ বান্দার হক বা অধিকার, অর্থাৎ মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য। এর মধ্যে আছে পিতামাতা, আত্মীয়, প্রতিবেশী, ইয়াতিম-মিসকিন ও অন্য সব মানুষের অধিকার আদায় করা। আল্লাহ হাক্কুল্লাহ (নিজের হক) ক্ষমা করতে পারেন, কিন্তু যার হক নষ্ট হয়েছে সে ক্ষমা না করলে হাক্কুল ইবাদ ক্ষমা হয় না।

  3. গ)

    রুবিনা খাতুনের ইবাদত অর্থাৎ যাকাত আদায় সঠিক হয়নি।

    ১. যাকাত হিসাবে সঞ্চিত অর্থ ও স্বর্ণ মিলিয়ে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে বছরান্তে ২.৫% হারে যাকাত দিতে হয়।
    ২. রুবিনার মোট যাকাতযোগ্য সম্পদ = ২,০০,০০০ + ৬,০০,০০০ = ৮,০০,০০০ টাকা।
    ৩. যাকাত = 800000×2.5100=20000800000 \times \frac{2.5}{100} = 20000 টাকা।
    ৪. তিনি দিয়েছেন ১৫,০০০ টাকা, অর্থাৎ ৫,০০০ টাকা কম দিয়েছেন।

    সুতরাং, ফরজ যাকাতের পূর্ণ পরিমাণ আদায় না করায় তার ইবাদত সঠিক হয়নি। বাকি ৫,০০০ টাকা তাকে আদায় করতে হবে। (ধরা হলো, সম্পদ নিসাব পরিমাণ এবং তার ওপর এক বছর অতিক্রান্ত হয়েছে।)

  4. ঘ)

    রাশেদের অবহেলা করা ইবাদতটি হলো সাওম (রোযা)। কারণ এটি রমজান মাসের সাথে সম্পৃক্ত ফরজ ইবাদত।

    বাবার বক্তব্য যথার্থ:
    ১. ফরজ ইবাদত: আল্লাহ বলেন, “তোমাদের ওপর সাওম ফরজ করা হয়েছে।” (সূরা বাকারা)। তাই এটি অবশ্য পালনীয়।
    ২. সহানুভূতি ও সহমর্মিতা: সাওমে ক্ষুধা-তৃষ্ণার কষ্ট অনুভব করে ধনীরা গরিবের কষ্ট বুঝতে পারে। এতে পারস্পরিক সহমর্মিতা সৃষ্টি হয়।
    ৩. তাকওয়া অর্জন: সাওমের উদ্দেশ্য তাকওয়া অর্জন, যা মানুষকে পাপ থেকে বিরত রাখে।
    ৪. আত্মসংযম: সাওম প্রবৃত্তি দমন ও আত্মসংযমের অভ্যাস গড়ে তোলে।

    সুতরাং, কষ্টকর ভেবে সাওমে অবহেলা করা অনুচিত এবং বাবার বক্তব্য যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন