ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. সজল মিত্র তাঁর পরিবারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে একটি জীবন বিমা পলিসি খুলেছেন। বিমাটির উত্তরাধিকারী করা হয় তাঁর স্ত্রী মিনতি-এর নামে। প্রিমিয়ামের ৬টি কিস্তি পরিশোধের পর সজল মিত্র পরলোকগমন করেন। তাঁর মৃত্যুর পর স্ত্রী মিনতি ও ছেলে কাজল মিত্র পৃথকভাবে বিমা কোম্পানির নিকট বিমাদাবি পেশ করে কিন্তু বিমা কোম্পানি স্ত্রীমিনতিকে বিমাদাবি পরিশোধ করলেও ছেলের দাবি প্রত্যাখ্যান করে।
- ক)(1)
মেয়াদি বিমাপত্র কী?
- খ)(2)
বিমা ব্যবসায়ে প্রিমিয়াম প্রদান গুরুত্বপূর্ণ কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সজল মিত্র কোন ধরনের বিমাপত্র গ্রহণ করেছিলেন? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
কাজল মিত্রের বিমাদাবি প্রত্যাখ্যানের কারণ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে বিমাপত্রে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বিমা করা হয় এবং মেয়াদপূর্তিতে জীবিত থাকলে বিমাগ্রহীতাকে অথবা মেয়াদের মধ্যে মৃত্যু হলে তাঁর মনোনীত ব্যক্তিকে বিমাকৃত অর্থ প্রদান করা হয়, তাকে মেয়াদি বিমাপত্র বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিমা ব্যবসায় প্রিমিয়াম হলো ঝুঁকি গ্রহণের প্রতিদান হিসেবে বিমাগ্রহীতা কর্তৃক বিমাকারীকে প্রদত্ত নির্দিষ্ট অর্থ। প্রিমিয়ামের মাধ্যমেই বিমাকারী তহবিল গড়ে তোলে এবং বিমাগ্রহীতার ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য ক্ষতির বিপরীতে আর্থিক নিশ্চয়তা দেয়। বিমা একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, যেখানে আইনগত প্রতিদান (Consideration) ছাড়া চুক্তি কার্যকর হয় না। প্রিমিয়াম ছাড়া চুক্তিটি বৈধ হয় না এবং বিমাকারীর পক্ষে দায় বা ঝুঁকি বহন করাও সম্ভব হয় না। তাই বিমা ব্যবসায় প্রিমিয়াম প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মি. সজল মিত্র মেয়াদি জীবন বিমাপত্র (বা আজীবন বিমাপত্র) গ্রহণ করেছিলেন, যা মূলত পরিবারের আর্থিক সুরক্ষামূলক জীবন বিমাপত্র।
সাধারণত পরিবারের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিমাগ্রহীতা জীবন বিমা পলিসি গ্রহণ করেন। এ ধরনের বিমায় বিমাগ্রহীতা তাঁর মৃত্যুর পর বিমাকৃত অর্থ পাওয়ার জন্য কোনো উত্তরাধিকারী বা নমিনি (মনোনীত ব্যক্তি) নির্ধারণ করে যান।
উদ্দীপকে মি. সজল মিত্র তাঁর পরিবারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে একটি জীবন বিমা পলিসি খুলেছিলেন এবং তাঁর স্ত্রী মিনতিকে উত্তরাধিকারী (নমিনি) মনোনীত করেছিলেন। ৬টি কিস্তির প্রিমিয়াম পরিশোধের পরই তাঁর মৃত্যু ঘটে এবং বিমা কোম্পানি নমিনিকে বিমাদাবির অর্থ প্রদান করে। এটি একটি বিশুদ্ধ জীবন বিমাপত্রের নিদর্শন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কাজল মিত্রের বিমাদাবি প্রত্যাখ্যানের মূল কারণ হলো তিনি বিমাপত্রে মনোনীত ব্যক্তি বা নমিনি (Nominee) ছিলেন না।
বিমা আইন অনুযায়ী, বিমাগ্রহীতা পলিসি খোলার সময় বা চলাকালীন সময়ে তাঁর মৃত্যুর পর বিমাদাবির অর্থ গ্রহণের জন্য যেকোনো ব্যক্তিকে 'মনোনীত ব্যক্তি' বা নমিনি হিসেবে উল্লেখ করতে পারেন। বিমাগ্রহীতার মৃত্যুর পর বিমাকারী প্রতিষ্ঠান একমাত্র বৈধ মনোনীত ব্যক্তিকেই বিমার অর্থ পরিশোধ করতে আইনত বাধ্য থাকে। নমিনি জীবিত থাকা অবস্থায় অন্য কোনো উত্তরাধিকারী বা ওয়ারিশ সরাসরি বিমা কোম্পানির কাছে দাবিদার হতে পারেন না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. সজল মিত্র পলিসি গ্রহণের সময় এককভাবে তাঁর স্ত্রী মিনতিকে উত্তরাধিকারী/নমিনি মনোনীত করেছিলেন। সজল মিত্রের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী মিনতি এবং ছেলে কাজল মিত্র উভয়েই পৃথকভাবে দাবি জানান। যেহেতু আইনত বিমা কোম্পানির দায় শুধু বিমাপত্রে উল্লেখিত নমিনির প্রতি, তাই তারা আইনসংগতভাবে স্ত্রী মিনতিকে বিমাদাবির অর্থ পরিশোধ করেছে এবং ছেলের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
অতএব, বিমাপত্রে নমিনি হিসেবে নাম না থাকায় এবং বৈধ নমিনি জীবিত থাকায় বিমা কোম্পানি কর্তৃক কাজল মিত্রের বিমাদাবি প্রত্যাখ্যান করা আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ যথাযথ ও সঠিক হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও