গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২০
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন
লাইজুর দাঁত দিয়ে প্রায়ই রক্ত পড়ে এবং দাঁতের মাড়ি ফুলে যায়। তার মা বলেন, এটা হয় টকজাতীয় খাবারের অভাবে। লাইজু কচুশাক, দই, ছানা খেতে চায় না। তখন বাবা লাইজুকে বলেন, মানবদেহে ৪ ভাগ অজৈব পদার্থ এসব খাবার থেকে পাওয়া যায়। এ পদার্থগুলো হলো ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়াম ইত্যাদি।
- ক)(1)
ভিটামিন-ডি এর রাসায়নিক নাম কী?
- খ)(2)
কোন ভিটামিন আলোতে নষ্ট হয় কিন্তু তাপে নষ্ট হয় না- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
লাইজু কোন রোগে আক্রান্ত ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
লাইজুর বাবার ধারণার সাথে তুমি কি একমত? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ভিটামিন-ডি এর রাসায়নিক নাম ক্যালসিফেরল (Calciferol)।
- খ)
ভিটামিন বি২ বা রিবোফ্ল্যাভিন আলোতে নষ্ট হয়, কিন্তু তাপে নষ্ট হয় না। তাই এ ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন দুধ বা তরল খাবার সরাসরি আলোতে রাখলে এর পুষ্টিগুণ কমে যায়। অন্যদিকে রান্নার সময় সাধারণ তাপে এর তেমন ক্ষতি হয় না। তাই এ ধরনের খাবার ঢেকে বা অন্ধকারে রাখা উচিত।
- গ)
লাইজু স্কার্ভি (Scurvy) রোগে আক্রান্ত। ভিটামিন সি-এর অভাবে এ রোগ হয়।
১. উদ্দীপকে লাইজুর দাঁতের মাড়ি ফুলে যাওয়া ও দাঁত দিয়ে রক্ত পড়া স্কার্ভির প্রধান লক্ষণ।
২. ভিটামিন সি দেহের কোষ ও রক্তনালিকে সুস্থ রাখে। এর অভাবে মাড়ির টিস্যু দুর্বল হয়ে রক্তপাত শুরু হয়।
৩. লাইজুর মায়ের কথা অনুযায়ী টক জাতীয় ফলে ভিটামিন সি থাকে, যা এ রোগ প্রতিরোধ করে।আমলকী, পেয়ারা, লেবু ও কমলা খেলে লাইজু এ রোগ থেকে সেরে উঠতে পারে।
- ঘ)
লাইজুর বাবা বলেছেন, মানবদেহে ৪ ভাগ অজৈব পদার্থ আছে এবং কচুশাক, দই, ছানা থেকে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়াম পাওয়া যায়। আমি তাঁর কথার সাথে আংশিক একমত।
১. একমত হওয়ার কারণ: দেহের প্রায় ৪ ভাগ খনিজ বা অজৈব পদার্থ। দই ও ছানা ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের ভালো উৎস, যা হাড় ও দাঁত গঠনে সাহায্য করে। কচুশাকেও খনিজ আছে। পটাসিয়াম দেহের তরল ও স্নায়ু-পেশির কাজ ঠিক রাখে।
২. দ্বিমত: লাইজুর বর্তমান সমস্যা (মাড়ি ফোলা ও রক্তপাত) এসব খনিজের অভাবে নয়, ভিটামিন সি-এর অভাবে হয়েছে। দই, ছানা বা কচুশাকে ভিটামিন সি-এর পরিমাণ কম।সুতরাং, বাবার ধারণা খনিজ সম্পর্কে ঠিক, কিন্তু লাইজুর রোগ সারাতে তার খাদ্যতালিকায় আমলকী, পেয়ারা, লেবু ইত্যাদি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যোগ করতে হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও