হিন্দু ধর্ম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

সুধীর বাবু একজন চাকরিজীবী। তার দুই ছেলে-মেয়ে পড়াশোনা করে। তিনি খুব অতিথিপরায়ণ। বাড়িতে কোনো অতিথি আসলে তাকে না খেয়ে যেতে দেন না। অন্যদিকে রাখাল বাবু সংসারের সবকিছু ত্যাগ করে আশ্রয়হীন অবস্থায় বিভিন্ন মন্দিরে মন্দিরে অবস্থান করেন। তিনি সারাক্ষণ ঈশ্বর চিন্তায় নিজেকে ব্যস্ত রাখেন। লোকালয় থেকে তিনি যে খাবার সংগ্রহ করেন তাই খেয়েই কোনো মতে বেঁচে থাকেন।

  1. ক)

    অবতারবাদ কী?

    (1)
  2. খ)

    একেশ্বরবাদ বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে সুধীর বাবুর কর্মকান্ডের সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন আশ্রমের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রাখাল বাবুর পালনকৃত আশ্রমটি তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ঈশ্বর যখন জীবের ন্যায় দেহ ধারণ করে পৃথিবীতে আবির্ভূত হন, এই বিশ্বাসকে অবতারবাদ বলে। 'অবতার' শব্দের অর্থ অবতরণ করা বা উপর থেকে নিচে নামা।

  2. খ)

    ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়, তিনি একাধিক নন, এই বিশ্বাসকে একেশ্বরবাদ বলে।

    বেদে বলা হয়েছে, 'একং সদ্ বিপ্রা বহুধা বদন্তি', অর্থাৎ সদ্বস্তু এক, জ্ঞানীরা তাঁকে বহুভাবে বর্ণনা করেন। দেব-দেবী ও অবতার সেই এক ঈশ্বরেরই বিভিন্ন গুণ ও শক্তির প্রকাশ। তাই হিন্দুধর্ম মূলত একেশ্বরবাদী।

  3. গ)

    উদ্দীপকে সুধীর বাবুর কর্মকাণ্ডের সাথে পাঠ্যবইয়ের গার্হস্থ্য আশ্রমের মিল রয়েছে।

    গার্হস্থ্য আশ্রমের ধারণা: হিন্দুধর্মে মানুষের শতবর্ষের জীবনকে ব্রহ্মচর্য, গার্হস্থ্য, বানপ্রস্থ ও সন্ন্যাস এ চার আশ্রমে ভাগ করা হয়েছে। ব্রহ্মচর্যের পর বিবাহ করে সংসারধর্ম পালনই গার্হস্থ্য আশ্রম। এ আশ্রমে সন্তান-সন্ততির ভরণ-পোষণসহ পারিবারিক দায়িত্ব পালন করতে হয় এবং পিতৃযজ্ঞ, দেবযজ্ঞ, ভূতযজ্ঞ, নৃযজ্ঞ ও ঋষিযজ্ঞ এ পাঁচটি যজ্ঞ কর্ম করতে হয়। এর মধ্যে অতিথি সেবাকে বলা হয় নৃযজ্ঞ।

    উদ্দীপকের সাথে সম্পর্ক: সুধীর বাবু চাকরিজীবী। তাঁর দুই ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার দায়িত্ব তিনি পালন করছেন, যা গার্হস্থ্য আশ্রমের পারিবারিক দায়িত্ব। তিনি খুব অতিথিপরায়ণ, বাড়িতে অতিথি এলে না খাইয়ে যেতে দেন না, যা নৃযজ্ঞের সাথে মেলে।

    অতএব, সুধীর বাবুর কর্মকাণ্ড গার্হস্থ্য আশ্রমের অনুরূপ।

  4. ঘ)

    রাখাল বাবু সংসারের সবকিছু ত্যাগ করে আশ্রয়হীন অবস্থায় বিভিন্ন মন্দিরে থাকেন, সারাক্ষণ ঈশ্বর চিন্তায় ব্যস্ত থাকেন এবং লোকালয় থেকে সংগৃহীত খাবার খেয়ে বেঁচে থাকেন। তাঁর পালনকৃত আশ্রমটি সন্ন্যাস আশ্রম।

    'সন্ন্যাস' শব্দের অর্থ সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ। আশ্রম জীবনে এটি চতুর্থ পর্যায়, যার জন্য শাস্ত্রে পঁচাত্তর থেকে একশ বছর বয়স নির্দিষ্ট আছে।

    ১. একাকী জীবন ও ত্যাগ: এ আশ্রমে সন্ন্যাসী একাকী জীবন কাটান, স্ত্রীও তাঁর সঙ্গে থাকেন না। তিনি সংসারের মায়া ত্যাগ করেন। রাখাল বাবুর সংসারত্যাগ এ বৈশিষ্ট্যের সাথে মেলে।

    ২. ঈশ্বর চিন্তায় মগ্নতা: সন্ন্যাসী জাগতিক সব কর্ম পরিত্যাগ করে একমনে ঈশ্বর চিন্তায় ডুবে থাকেন। উদ্দীপকে রাখাল বাবুও সারাক্ষণ ঈশ্বর চিন্তায় নিজেকে ব্যস্ত রাখেন।

    ৩. সাধারণ জীবনযাপন: সন্ন্যাসী শুধু দুপুরের আহার লোকালয় থেকে সংগ্রহ করেন, বাকি দুবেলা দুধ-ফল স্বল্প পরিমাণে খান। তিনি আশ্রয়হীন অবস্থায় মন্দির বা দেবালয়ে ক্ষণকালের জন্য আশ্রয় নিতে পারেন এবং তাঁর পোশাক নিতান্ত সাধারণ। উদ্দীপকের রাখাল বাবুর জীবন এর সাথে হুবহু মেলে।

    ৪. আসক্তি ত্যাগের প্রকৃত অর্থ: শাস্ত্রে বলা হয়েছে, সন্ন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য কর্মফলাসক্তি ও ভোগাসক্তি ত্যাগ। গীতায় আছে, কর্মফলের বাসনা না করে যিনি কর্তব্য করেন তিনিই সন্ন্যাসী ও যোগী।

    সুতরাং, রাখাল বাবু সন্ন্যাস আশ্রম পালন করছেন। তবে কলিযুগে গার্হস্থ্য আশ্রমে থাকাই উত্তম বলে বিবেচিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন