ইসলাম • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৬

ইসলাম প্রশ্ন

জনাব রফিকুল্লাহ এমন একটি ইবাদত পালন করেন যা ঈমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে। তাঁর বড় বোন সাফিয়া খাতুন তার নিকট থাকা স্বর্ণের গহনার বাজার মূল্য ২০ লক্ষ টাকা থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকায় গ্রামের কয়েকজন অসহায় মহিলাকে সেলাই মেশিন কিনে দেন। কয়েক বছরের মধ্যেই তারা সেলাই মেশিনের কাজের মাধ্যমে পারিবারিকভাবে সচ্ছল হয়ে উঠে।

  1. ক)

    সাওমের পরিচয় দাও।

    (1)
  2. খ)

    ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    জনাব রফিকুল্লাহ কোন ইবাদতটি পালন করেছেন? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে সাফিয়া খাতুনের পালনকৃত ইবাদতটি চিহ্নিত করে এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    সাওম হলো সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিয়তসহ পানাহার, যৌনসম্ভোগ ও সকল পাপকাজ থেকে বিরত থাকা।

  2. খ)

    ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক হওয়া উচিত শ্রদ্ধা, স্নেহ ও আন্তরিকতার। শিক্ষক পিতার মতো, ছাত্র সন্তানের মতো। ছাত্র শিক্ষককে সম্মান করবে, তাঁর আদেশ মানবে ও মনোযোগ দিয়ে শিখবে।
    শিক্ষকও ছাত্রের প্রতি স্নেহশীল থাকবেন এবং নিষ্ঠার সাথে জ্ঞান দান করবেন। রাসূল (স) বলেছেন, "আমি শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছি।" এ সম্পর্ক সুন্দর হলে শিক্ষার পরিবেশ ও সমাজ উন্নত হয়।

  3. গ)

    জনাব রফিকুল্লাহ যে ইবাদত পালন করেন তা সালাত (নামায)।

    হাদিসে বলা হয়েছে, "বান্দা ও শিরক-কুফরের মধ্যে পার্থক্য হলো সালাত ত্যাগ করা।" অর্থাৎ সালাত আদায়কারী মুমিন, আর ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ত্যাগকারী কুফরের কাছাকাছি চলে যায়। সালাত ইসলামের দ্বিতীয় রুকন এবং ঈমানের পর সর্বশ্রেষ্ঠ ফরয ইবাদত। এটি মানুষকে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে এবং আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক দৃঢ় করে। তাই এটি ঈমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণকারী ইবাদত।

  4. ঘ)

    সাফিয়া খাতুন যে ইবাদত পালন করেছেন তা যাকাত। তার গহনার মূল্য ২০ লক্ষ টাকা, যার ২.৫% হিসাবে:

    ২০,০০,০০০×২.৫১০০=৫০,০০০ টাকা২০,০০,০০০ \times \frac{২.৫}{১০০} = ৫০,০০০ \text{ টাকা}

    এ টাকা দিয়েই তিনি অসহায় নারীদের সেলাই মেশিন কিনে দিয়েছেন।

    যাকাতের অর্থনৈতিক গুরুত্ব:
    ১. দারিদ্র্য বিমোচন: সম্পদশালীর সম্পদ থেকে গরিব পায়, ফলে অভাব দূর হয়। উদ্দীপকের নারীরা সচ্ছল হয়েছে।
    ২. সম্পদের সুষম বণ্টন: যাকাত ধনী-গরিবের ব্যবধান কমায় এবং সম্পদ কিছু মানুষের হাতে জমা হওয়া রোধ করে।
    ৩. কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধি: যাকাতের অর্থে স্বাবলম্বী হলে মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে, ফলে অর্থনীতি গতিশীল হয়।
    ৪. সম্পদ পরিশুদ্ধি: যাকাত দিলে অবশিষ্ট সম্পদ পবিত্র ও বরকতময় হয়।

    সুতরাং, যাকাত ব্যক্তিগত ইবাদত হওয়ার পাশাপাশি একটি কার্যকর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যা সমাজে সমৃদ্ধি ও সাম্য প্রতিষ্ঠা করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন