অর্থনীতি ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
ব্যক্তি তার আয় অনুসারে ব্যয় করে এবং সরকার ব্যয় অনুসারে আয় নির্ধারিত করে। বাংলাদেশ সরকার আয়কর, মূল্য সংযোজন কর, আমদানি শুল্ক, রপ্তানি শুল্ক, আবগারি শুল্ক, সম্পূরক শুল্কসহ বিভিন্নভাবে আয় করে। আবার যানবাহন ফি, ভূমি রাজস্ব, সুদ জরিমানা, টোল, ডাক, রেজিস্ট্রেশন ইত্যাদি উৎস থেকে আয় করে করের ভিত্তি সম্প্রসারণ, অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় পরিহার, দুর্নীতিমুর প্রশাসন গড়ার মাধ্যমে সরকার তার আয় আরো বাড়াতে পারে।
- ক)(1)
ফি কাকে বলে?
- খ)(2)
আয়করকে প্রত্যক্ষ কর বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকার আয়ের উৎসগুলোর শ্রেণিবিভাগ করো।
- ঘ)(4)
সরকার তার আয় বৃদ্ধিতে উদ্দীপকে উল্লিখিত উপায়গুলোসহ আর কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে বলে তুমি মনে করো আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সরকার বা সরকারি কোনো স্বায়ত্তশাসিত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জনগণকে বিশেষ কোনো প্রত্যক্ষ সেবা বা সুবিধা প্রদানের বিনিময়ে বাধ্যতামূলকভাবে যে অর্থ আদায় করা হয়, তাকে ফি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে করের প্রাথমিক ভার (Impact) এবং চূড়ান্ত ভার (Incidence) একই ব্যক্তি বহন করে এবং যার করের বোঝা অন্যের ওপর চাপানো যায় না, তাকে প্রত্যক্ষ কর বলে।
আয়কর ব্যক্তির অর্জিত ব্যক্তিগত আয়ের ওপর সরাসরি ধার্য করা হয়। যে ব্যক্তির ওপর এই কর আরোপিত হয়, আইন অনুযায়ী তাঁকেই তা পরিশোধ করতে হয় এবং এই করের আর্থিক ভার অন্য কারো ওপর স্থানান্তর করা সম্ভব হয় না। তাই আয়করকে প্রত্যক্ষ কর বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাংলাদেশ সরকারের আয়ের যে উৎসগুলোর উল্লেখ রয়েছে, রাজস্ব অর্থনীতির নিয়মানুযায়ী সেগুলোকে প্রধানত দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়: ১. কর রাজস্ব (Tax Revenue) এবং ২. কর-বহির্ভূত রাজস্ব (Non-tax Revenue)।
১. কর রাজস্ব: সরকার কর্তৃক জনগণের ওপর আইনগতভাবে আরোপিত বাধ্যতামূলক অর্থপ্রদানকে কর রাজস্ব বলে, যার বিনিময়ে করদাতা প্রত্যক্ষ কোনো সুবিধা দাবি করতে পারে না। কর রাজস্ব আবার দুই প্রকার:
(ক) প্রত্যক্ষ কর: যেমন—আয়কর।
(খ) পরোক্ষ কর: যেমন—মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট), আমদানি শুল্ক, রপ্তানি শুল্ক, আবগারি শুল্ক ও সম্পূরক শুল্ক।২. কর-বহির্ভূত রাজস্ব: কর ছাড়াও সরকার প্রত্যক্ষ সেবা প্রদান, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি পরিচালনা ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে যে অর্থ উপার্জন করে, তাকে কর-বহির্ভূত রাজস্ব বলে। উদ্দীপকে উল্লিখিত এই শ্রেণির উৎসগুলো হলো: যানবাহন ফি, ভূমি রাজস্ব, সুদ, জরিমানা, টোল, ডাক এবং রেজিস্ট্রেশন ফি।
অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত সরকারি আয়ের উৎসগুলো মূলত কর রাজস্ব এবং কর-বহির্ভূত রাজস্ব—এই দুই ভাগে বিভক্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সরকারের আয় বৃদ্ধিতে উদ্দীপকে উল্লেখিত উপায়গুলো (যেমন: করের ভিত্তি সম্প্রসারণ, অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় পরিহার, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সরকারি রাজস্ব পর্যাপ্ত পরিমাণে বাড়াতে এর পাশাপাশি আরও কিছু বাস্তবমুখী ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
অতিরিক্ত করণীয় পদক্ষেপসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. রাজস্ব প্রশাসনের অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশন: কর আদায় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইন ও সহজীকরণ করতে হবে। ই-টিআইএন ও ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক ও ব্যবহারবান্ধব করলে কর ফাঁকি হ্রাস পাবে এবং করদাতা উৎসাহিত হবে।
২. প্রত্যক্ষ করের অনুপাত বৃদ্ধি: বর্তমানে বাংলাদেশে কর আয়ের বড় অংশ আসে পরোক্ষ কর (ভ্যাট) থেকে, যা দরিদ্রদের ওপর বেশি চাপ ফেলে। ধনীদের কাছ থেকে সম্পদ কর ও আয়কর সঠিকভাবে আদায় করে প্রত্যক্ষ করের অংশ বাড়াতে হবে।
৩. কর ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধ: শুল্কায়ন ও বাণিজ্যে ওভার-ইনভয়েসিং এবং আন্ডার-ইনভয়েসিং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) অডিট কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
৪. রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের লাভজনকতা বৃদ্ধি: অলাভজনক ও লোকসানি সরকারি শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিকায়ন বা পিপিপি (PPP)-এর আওতায় এনে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা প্রয়োজন, যাতে লভ্যাংশ আয় বাড়ে।
৫. কর অব্যাহতি ও কর অবকাশ পুনর্বিবেচনা: অপ্রয়োজনীয় খাতে প্রদত্ত কর ছাড় বা শুল্কমুক্ত সুবিধা ক্রমান্বয়ে প্রত্যাহার করতে হবে।পরিশেষে বলা যায়, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগ এবং জনগণের মধ্যে কর সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সরকার তার আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি করতে পারে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও