ইসলাম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪

ইসলাম প্রশ্ন

মিসেস তাহিরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খাবার ও পানীয় গ্রহণ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকেন। তার দু'ছেলে আজিম ও নাজিম বিশিষ্ট শিল্পপতি। আজিম তার সমুদয় সম্পদ থেকে শতকরা ২.৫ টাকা হারে হিসাব করে তা দিয়ে কয়েকটি গাড়ি কিনে এলাকার গরিবদের মাঝে বণ্টন করে দেন। আর নাজিম তার সম্পদের কোনো হিসাব না করে সামান্য অংশ গরিবদের মাঝে দেন। কারণ তিনি মনে করেন, গরিবদেরকে কিছু অংশ দান করলেই হলো।

  1. ক)

    হজ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    'নিশ্চয়ই সালাত মানুষকে অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    মিসেস তাহিরার কর্মকাণ্ডে কোন ইবাদত পরিলক্ষিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    আজিম ও নাজিমের কর্মকান্ডের গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু? সংশ্লিষ্ট ইবাদতের বিধানের আলোকে মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে নির্দিষ্ট সময়ে ও নির্ধারিত নিয়মে কাবা শরিফ এবং সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহ জিয়ারত ও নির্দিষ্ট কার্যাবলি সম্পাদন করাকে হজ বলে।

  2. খ)

    সালাত একটি এমন ইবাদত, যা মানুষের মনে আল্লাহর ভয় ও জবাবদিহির অনুভূতি জাগায়। কুরআনে বলা হয়েছে, সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে (সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত ৪৫)। নিয়মিত সালাত আদায়কারী ব্যক্তি আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর কথা স্মরণ রাখে, ফলে সে পাপ কাজ থেকে দূরে থাকে।

  3. গ)

    মিসেস তাহিরার কর্মকাণ্ডে সাওম (রোজা) পরিলক্ষিত হয়েছে।

    সাওম হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও যৌনাচার থেকে বিরত থাকা। উদ্দীপকে তাহিরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে দিনের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খাবার ও পানীয় থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকেন, যা সাওমের সংজ্ঞার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। এ ইবাদত আল্লাহভীতি (তাকওয়া) সৃষ্টি করে।

  4. ঘ)

    আজিম ও নাজিম উভয়েই জাকাত সম্পর্কিত কাজ করেছেন, তবে গ্রহণযোগ্যতা ভিন্ন।

    আজিম: তিনি সম্পদের ২.৫% হিসাব করে জাকাত নির্ধারণ করেছেন। জাকাতের নির্ধারিত হার ২.৫%, তাই হিসাব সঠিক। তিনি গরিবদের মাঝে গাড়ি বণ্টন করেছেন, অর্থাৎ হকদারদের মালিকানায় দিয়েছেন। জাকাত আদায়ে মালিকানা হস্তান্তর শর্ত, তাই তাঁর জাকাত আদায় গ্রহণযোগ্য।

    নাজিম: তিনি কোনো হিসাব না করে সামান্য অংশ দিয়েছেন। জাকাত একটি ফরজ ইবাদত, যার জন্য নিসাব নির্ধারণ ও নির্দিষ্ট হারে দেওয়া জরুরি। কুরআন বলেছে, তাদের সম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিতের নির্ধারিত হক রয়েছে (সূরা আল-মাআরিজ)। শুধু "কিছু অংশ" দিলে এ ফরজ আদায় হয় না। তাঁর দান নফল সদকা হিসেবে সওয়াব পেলেও জাকাত আদায় হবে না।

    সুতরাং, আজিমের কাজ গ্রহণযোগ্য, আর নাজিমকে সঠিক হিসাব করে পূর্ণ জাকাত আদায় করতে হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন