সাহিত্য পাঠ • অপরিচিতা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

ওরে মোর মূঢ় মেয়ে !কে রে তুই, কোথা হতে কি শকতি পেয়ে কহিলি এমন কথা, এত স্পর্ধা ভরে—“যেতে আমি দিব না তোমায়।” চরাচরে কাহারে রাখিবি ধরে দুটি ছোটো হাতে, গরবিনি, সংগ্রাম করিবি কার সাথে বসি গৃহদ্বারপ্রান্তে শ্রান্ত ক্ষুদ্ৰ দেহশুধু লয়ে ওইটুকু বুক ভরা স্নেহ।

  1. ক)

    'আমি একেলা—এখানে 'আমি' কে?

    (1)
  2. খ)

    "ভরা নদী ক্ষুরধারা খরপরশা " বাক্যটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? বর্ণনা করো ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকটিতে ‘সোনার তরী' কাব্যের গভীর জীবন দর্শনের পরিচয় কতটুকু প্রকাশ পেয়েছে? আলোচনা করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    “সোনার তরী' কবিতার ভাববস্তু আলোচ্য উদ্দীপকে সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয়নি”-

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'আমি একেলা'—এখানে 'আমি' হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সোনার তরী’ কবিতার রূপক চরিত্র কৃষক (প্রতীকী অর্থে নিঃসঙ্গ কবি/সৃষ্টিকর্তা)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "ভরা নদী ক্ষুরধারা খরপরশা" বাক্যটি দ্বারা বর্ষার নদীর উত্তাল স্রোত এবং ক্ষুর ও বর্শার মতো ধারালো ও হিংস্র রূপকে বোঝানো হয়েছে।

    'সোনার তরী' কবিতায় বর্ষার মেঘমেদুর পটভূমিতে ভরা নদীর প্রবল ও তীব্র স্রোতকে বোঝাতে এই উপমা ব্যবহার করা হয়েছে। ক্ষুর যেমন ধারালো এবং পরশু বা বর্শা যেমন তীক্ষ্ণ ও সংহারী, তেমনি কালস্রোত রূপী নদীর গতি অত্যন্ত প্রখর ও ধ্বংসাত্মক, যা মহাকালের সর্বগ্রাসী রূপকে নির্দেশ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকটিতে ‘সোনার তরী’ কবিতার গভীর জীবন দর্শনের আংশিক দিক, অর্থাৎ মহাকালের অনিবার্য নিয়মের কাছে মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে।

    ‘সোনার তরী’ কবিতায় ব্যক্তিসত্তা এবং তার সৃষ্টির সম্পর্কের এক চরম সত্যকে প্রকাশ করা হয়েছে। মহাকাল মানুষের সৃষ্ট সোনার ফসলকে (কর্ম ও সৃষ্টিকে) সাদরে গ্রহণ করে চিরন্তন করে রাখে, কিন্তু রক্তমাংসের মরণশীল ব্যক্তি মানুষকে অনন্তকাল ঠাঁই দেয় না। ফলে ব্যক্তি মানুষকে নিঃসঙ্গভাবে মহাকালের শূন্যতায় বিলীন হতে হয়।

    উদ্দীপকে রবীন্দ্রনাথের ‘যেতে নাহি দিব’ কবিতার কন্যার ব্যাকুল ভালোবাসার মাধ্যমে দেখা যায় যে, মৃত্যুর বা বিদায়ের অলঙ্ঘনীয় নিয়মের সামনে মানুষের স্নেহ ও ভালোবাসা পরাভূত হয়। মহাকালের বিধির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে স্নেহ দিয়ে কাউকে ধরে রাখা যায় না। এই দিক থেকে মহাকালের অমোঘ নিয়মের কাছে মানুষের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি উদ্দীপকে ধরা পড়লেও, সোনার তরীর মূল দর্শন—সৃষ্টির অবিনশ্বরতা ও স্রষ্টার নশ্বরতার দ্বান্দ্বিক রূপ—উদ্দীপকে পুরোপুরি আসেনি। তাই উদ্দীপকে গভীর জীবনদর্শনের কেবল নিঃসহায়তার অংশটুকুই প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “‘সোনার তরী’ কবিতার ভাববস্তু আলোচ্য উদ্দীপকে সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয়নি”—মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।

    উদ্দীপকে স্নেহ ও ভালোবাসার তীব্র আবেগ দিয়ে চিরবিদায়কে রুখে দেওয়ার এক নিষ্ফল ও করুণ মানবিক প্রয়াস প্রকাশ পেয়েছে। বিদায়ের বিরুদ্ধে মানুষের হৃদয়ের বুকভরা স্নেহ থাকলেও মহাকালের অমোঘ নিয়মের কাছে মানুষ যে কত ক্ষুদ্র ও পরাভূত, উদ্দীপকে কেবল এই ব্যথাতুর মানবিক দিকটি ফুটে উঠেছে।

    পক্ষান্তরে, ‘সোনার তরী’ কবিতার ভাববস্তু কেবল বিচ্ছেদের হাহাকার বা ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ নয়; এটি মূলত সৃষ্টি ও স্রষ্টার সম্পর্কভিত্তিক এক গভীর রূপক কবিতা। মহাকালের প্রতীক তরণী মানুষের কর্মময় জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন বা সোনার ধান তুলে নেয়, কিন্তু মরণশীল সীমিত মানুষটিকে স্থান দেয় না। কর্ম অমরত্ব লাভ করলেও কর্মীকে কালস্রোতে বিলীন হতে হয়—এই শাশ্বত দার্শনিক উপলব্ধিই সোনার তরী কবিতার মূল উপজীব্য।

    উদ্দীপকে বিদায় ও বিচ্ছেদের বিরুদ্ধে স্নেহময় আবেগ প্রকাশ পেলেও মহাকালের তরণীতে সৃষ্টির স্থান পাওয়া এবং ব্যক্তি মানুষের নশ্বরতার যে মূল দার্শনিক ভাববস্তু তা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। সুতরাং নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘সোনার তরী’ কবিতার সামগ্রিক ভাববস্তুকে ধারণ করতে পারেনি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন