মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২৩

মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১ঃদৃশ্যকল্প-২ঃ

  1. ক)

    প্রেষণা কী?

    (1)
  2. খ)

    আবেগের ভারসাম্যতা প্রয়োজন কেন?

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ প্রদত্ত চিত্রটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২ এ প্রদত্ত 'A' এবং 'B' এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষ বা প্রাণীর যে অভ্যন্তরীণ অবস্থা নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য আচরণকে সক্রিয়, পরিচালিত ও বজায় রাখে, তাকে প্রেষণা (Motivation) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যক্তির মানসিক ভারসাম্য ও সামাজিক অভিযোজনের জন্য আবেগের ভারসাম্যতা বা আবেগের নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত প্রয়োজন। অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত আবেগ যেমন ক্রোধ, হতাশা কিংবা অতিরিক্ত আনন্দ মানুষের চিন্তাশক্তি ও বিচারবুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, যার ফলে অনুপযুক্ত আচরণ ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। আবেগের সুষ্ঠু ভারসাম্যতা থাকলে ব্যক্তি যেকোনো পরিস্থিতিতে যুক্তিভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে, অন্যদের সাথে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে এবং মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সক্ষম হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ মনোবিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান প্রত্যয় 'প্রেষণাচক্র' (Motivational Cycle) প্রদর্শিত হয়েছে।

    প্রেষণাচক্র হলো একটি চক্রাকার প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে প্রেষণার উৎপত্তি ও পরিসমাপ্তি ঘটে। উদ্দীপকের চিত্রে চারটি প্রধান পর্যায় বা ধাপ রয়েছে, যা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. অভাববোধ (Need): শরীরে বা মনে কোনো কিছুর ঘাটতি দেখা দিলে অভাববোধ সৃষ্টি হয়। যেমন- দেহে পানির অভাব হলে তৃষ্ণার অনুভূতি তৈরি হয়।

    ২. তাড়না (Drive): অভাববোধের ফলে ব্যক্তির মধ্যে যে অস্বস্তিকর মানসিক বা শারীরিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, তাকে তাড়না বলে।

    ৩. আচরণ বা উদ্দেশ্যমুখী আচরণ (Goal-directed Behavior): চিত্রে প্রথম প্রশ্নবোধক চিহ্নটি (?) হলো উদ্দেশ্যমুখী আচরণ। তাড়না লাঘবের জন্য ব্যক্তি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য সক্রিয় আচরণ করে। যেমন- তৃষ্ণা মেটাতে পানি খোঁজা।

    ৪. উদ্দেশ্য অর্জন বা তৃপ্তি (Satisfaction/Goal Attainment): চিত্রে দ্বিতীয় প্রশ্নবোধক চিহ্নটি (?) হলো উদ্দেশ্য অর্জন। আচরণ সফল হলে লক্ষ্য পূরণ হয় (পানি পান করা) এবং উত্তেজনা হ্রাস পেয়ে ব্যক্তি 'বিশ্রাম' অবস্থায় ফিরে আসে।

    বিশ্রামের পর পুনরায় নতুন অভাববোধ তৈরি হলে এই চক্রটি আবার আবর্তিত হতে থাকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ এ প্রেষণার প্রধান দুটি প্রকারভেদ 'A' এবং 'B' নির্দেশ করা হয়েছে, যা যথাক্রমে 'জৈবিক প্রেষণা' (Biological Motivation/Drive) এবং 'সামাজিক প্রেষণা' (Social Motivation)। নিচে এদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. উৎপত্তিগত পার্থক্য: জৈবিক প্রেষণা ব্যক্তির শারীরিক ও জৈবিক প্রয়োজন থেকে প্রাকৃতিকভাবে এবং জন্মগতভাবে সৃষ্টি হয়। অপরদিকে, সামাজিক প্রেষণা সমাজজীবন, সংস্কৃতি ও পরিবেশের সাথে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে অর্জিত বা শিক্ষালব্ধ হয়।

    ২. অস্তিত্ব রক্ষার ভূমিকা: জৈবিক প্রেষণা পূরণ হওয়া প্রাণী বা প্রজাতির শারীরিক অস্তিত্ব রক্ষার জন্য অপরিহার্য। এটি পূরণ না হলে জীবের মৃত্যু ঘটতে পারে। কিন্তু সামাজিক প্রেষণা পূরণ না হলে ব্যক্তি সামাজিকভাবে বা মানসিকভাবে অতৃপ্ত হতে পারে, তবে শারীরিক জীবন বিপন্ন হয় না।

    ৩. সার্বজনীনতা: জৈবিক প্রেষণা মানুষসহ সকল প্রাণীর ক্ষেত্রেই সার্বজনীন ও প্রায় একই রকম। পক্ষান্তরে, সামাজিক প্রেষণা প্রধানত মানুষের মধ্যেই দেখা যায় এবং ব্যক্তি, সমাজ ও সংস্কৃতির ভেদে এর রূপ ও তীব্রতা ভিন্ন হতে পারে।

    ৪. নমনীয়তা ও নিয়ন্ত্রণ: জৈবিক প্রেষণাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য দমন করা সম্ভব নয়; নির্দিষ্ট সময় পরপর তা তীব্র আকার ধারণ করে। কিন্তু সামাজিক প্রেষণা ব্যক্তি নিজের ইচ্ছা ও সামাজিক মূল্যবোধ অনুযায়ী অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ বা পরিবর্তন করতে পারে।

    ৫. উদাহরণ: জৈবিক প্রেষণার উদাহরণ হলো ক্ষুধা, তৃষ্ণা, নিদ্রা, যৌন প্রেষণা এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি। অন্যদিকে সামাজিক প্রেষণার উদাহরণ হলো যূথচারিতা, আত্মপ্রতিষ্ঠা, খ্যাতির আকাঙ্ক্ষা, ক্ষমতার লিপ্সা এবং নিরাপত্তার চাহিদা ইত্যাদি।

    পরিশেষে বলা যায়, জৈবিক প্রেষণা মানুষের মৌলিক জৈবনিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে এবং সামাজিক প্রেষণা মানুষের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন