‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    ছয়দফা কর্মসূচি কে উত্থাপন করেন?

    (1)
  2. খ)

    মুজিবনগর সরকার কী? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    ছকে প্রশ্ন চিহ্নিত (?) স্থানের ঘটনার প্রেক্ষাপট তুলে ধর।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত ঘটনায় বাঙালির বিজয়ের ইতিহাস বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ছয়দফা কর্মসূচি উত্থাপন করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকারই মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।

    ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এই সরকার গঠিত হয় এবং ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার (বর্তমান মুজিবনগর) ভবেরপাড়া গ্রামের আমবাগানে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি (বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি) এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে এই সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা, বহির্বিশ্বের সমর্থন অর্জন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সুসংগঠিত করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ছকে প্রশ্নচিহ্নিত (?) স্থানে ইঙ্গিত করা ঘটনাটি হলো ১৯৭১ সালের 'মহান মুক্তিযুদ্ধ'।

    এই রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট ছিল অত্যন্ত দীর্ঘ ও বৈষম্যমূলক। ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিদের ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শোষণ চালাতে থাকে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয়দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাঙালি স্বাধিকার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়।

    ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায় এবং ষড়যন্ত্র শুরু করে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণে বাঙালিদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। সবশেষে ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত গণহত্যা ('অপারেশন সার্চলাইট') শুরু করলে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং বাঙালি জাতি মরণপণ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ছকে নির্দেশিত ঘটনাটি হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, যার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি দীর্ঘ শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্ত হয়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।

    ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার পর সমগ্র বাংলায় প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হয়। ১০ এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ সুসংগঠিত রূপ লাভ করে। যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং কর্নেল এম. এ. জি. ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়। নিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ জনতার সমন্বয়ে গঠিত 'মুক্তিবাহিনী' বা গেরিলা দল পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

    দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ, নারী নির্যাতন ও বুদ্ধিজীবী হত্যার মুখেও বাঙালি মনোবল হারায়নি। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ভারত মিত্রবাহিনী গঠন করে সার্বিক সহায়তা দেয়। ৪ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ কমান্ড গঠিত হলে পাকিস্তানি সেনারা কোণঠাসা হয়ে পড়ে।

    অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনীর ৯৩ হাজার সৈন্য মিত্রবাহিনীর কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। এর মাধ্যমে বাঙালি জাতি ৩০ লাখ শহীদ এবং দুই লক্ষাধিক মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বিশ্ব মানচিত্রে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটিয়ে বিজয়ের গৌরব অর্জন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন