বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
মাসুম টিভিতে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখছিল। সে দেখতে পায় একটি যুগের মুসলমান শাসকরা অভিজাত সম্প্রদায়ভুক্ত এবং জমকালো প্রাসাদে বাস করতেন। তাদের রাজধানীও নানা মনোমুগ্ধকর অট্টালিকায় সুসজ্জিত থাকত। শাসকগণ জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পসংস্কৃতির উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- ক)(1)
কাদেরকে 'মামলুক' বলা হয়?
- খ)(2)
'কদম রসুল' নির্মিত হয়েছিল কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
মাসুমের দেখা শাসক শ্রেণির সাথে বাংলার যে যুগের মিল রয়েছে সেই যুগের মানুষের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত যুগে বাংলার শাসকগণ কেবল রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেই নয়, শিক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ক্রীতদাসদের আরবি ভাষায় ‘মামলুক’ বলা হয়।
- খ)
হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর পদচিহ্নের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য ‘কদম রসুল’ ভবন নির্মিত হয়েছিল। সুলতান নুসরত শাহ ১৫৩১ সালে গৌড়ে এটি নির্মাণ করেন। ভবনের এক কক্ষে একটি কালো কারুকার্যখচিত মর্মর বেদির ওপর মহানবি (স.)-এর পদচিহ্ন সংবলিত একখণ্ড প্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল। ফলে এটি মুসলমানদের কাছে একটি পবিত্র স্থাপনা হিসেবে বিখ্যাত।
- গ)
মাসুমের দেখা শাসক শ্রেণির সাথে বাংলার মধ্যযুগের (সুলতানি আমলের) মিল রয়েছে।
সামাজিক জীবন: মধ্যযুগে মুসলমান সমাজ উচ্চ, মধ্যম ও নিম্ন, এই তিন শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। যোগ্যতা ও জ্ঞানের ভিত্তিতে একটি অভিজাত সম্প্রদায় গড়ে ওঠে। অভিজাতরা ভোজনবিলাসী ছিলেন এবং কাবাব, রেজালা, কোর্মা খেতেন। তাঁরা পাগড়ি, মণিমুক্তাখচিত আংটি ও রেশমি জুতা ব্যবহার করতেন। হিন্দু সমাজে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র, এই চার বর্ণ ছিল। ঈদ, নববর্ষ প্রভৃতি উৎসবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই অংশ নিত।
সাংস্কৃতিক জীবন: শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা সাহিত্যের বিকাশ ঘটে। শাহ মুহম্মদ সগীর ‘ইউসুফ-জুলেখা’ রচনা করেন, মালাধর বসু ‘শ্রীমদ্ভাগবত’ অনুবাদ করেন। আদিনা মসজিদ, ছোট সোনা মসজিদ, কদম রসুলের মতো স্থাপত্যও গড়ে ওঠে।
- ঘ)
মধ্যযুগে বাংলার শাসকগণ রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রের পাশাপাশি শিক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন— উক্তিটি যথার্থ।
১. মধ্যযুগে শিক্ষার দ্বার হিন্দু-মুসলমান সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। আগে জ্ঞানচর্চায় ব্রাহ্মণদের একচেটিয়া অধিকার ছিল, এ যুগে সব শ্রেণির জন্য তা খুলে দেওয়া হয়।
২. মসজিদের সাথে মক্তব ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। বখতিয়ার খলজির শাসনকালেই মাদ্রাসা-মক্তব নির্মিত হয়েছিল। হুসেন শাহ অনেক খানকাহ্ ও মাদ্রাসা নির্মাণ করেন এবং মালদহে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। নুসরত শাহ জ্ঞান প্রসারে বিভিন্ন স্থানে লাইব্রেরি স্থাপন করেন।
৩. সুলতানি আমলে সোনারগাঁয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছোট সোনা মসজিদের কাছে ‘দারসবাড়ী’ নামে আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠে। হিন্দুদের জন্য পাঠশালা ও উচ্চশিক্ষার জন্য টোল ছিল। শাসকদের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যও সমৃদ্ধ হয়।
সুতরাং, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, সবার জন্য শিক্ষার সুযোগ ও ভাষা-সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে শাসকরা শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও