ইসলাম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩

ইসলাম প্রশ্ন

জাহাঙ্গীর ও ইমরান দুই ভাই। জাহাঙ্গীর সাহেবের জন্মের পূর্বে পিতা মারা যান। তিনি তার চাচার অধীনে লালিত পালিত হন। চাচার সংসারে অভাব থাকায় তিনি চাচার কাজে সাহায্য করতেন। জনাব ইমরান সাহেবকে তার প্রতিবেশী সালমান, সাহেব মারাত্মকভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। কিছু দিন পর ইমরান সাহেব প্রতিশোধ নেয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও তিনি সালমান সাহেবকে ক্ষমা করে দেন।

  1. ক)

    আইয়ামে জাহিলিয়া কী?

    (1)
  2. খ)

    হিলফুল ফুযুল গঠনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    জাহাঙ্গীর সাহেবের জন্ম ও শৈশবের সাথে যে মহামানবের জীবনের মিল পরিলক্ষিত হয়, সেই মহামানবের শৈশবকাল ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ইমরান সাহেবের আচরণে মহানবি (স)-এর জীবনের কোন গুরুত্বপূর্ণ আদর্শ ফুটে উঠেছে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ইসলামপূর্ব আরবের অজ্ঞতা, বর্বরতা ও অনাচারের যুগকে আইয়ামে জাহিলিয়া (অজ্ঞতার যুগ) বলে।

  2. খ)

    আইয়ামে জাহিলিয়ায় আরবে জুলুম, লুটপাট ও অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছিল। এই অবস্থা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে কিছু যুবক হিলফুল ফুযুল (শান্তি-সংঘ) গঠন করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল নির্যাতিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অত্যাচারীকে বাধা দেওয়া, ব্যবসায়ী ও মুসাফিরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা। কিশোর মুহাম্মদ (স) এতে অংশ নিয়েছিলেন।

  3. গ)

    জাহাঙ্গীর সাহেবের জন্ম ও শৈশবের সাথে মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স)-এর জীবনের মিল পরিলক্ষিত হয়।

    মহানবি (স)-এর শৈশবকাল:

    ১. এতিম অবস্থায় জন্ম: তাঁর জন্মের আগেই পিতা আবদুল্লাহ ইন্তেকাল করেন।
    ২. ধাত্রীমাতার কাছে লালন: জন্মের পর কিছুকাল তিনি ধাত্রীমাতা হালিমার কাছে লালিত-পালিত হন।
    ৩. মাতা ও দাদার মৃত্যু: ছয় বছর বয়সে মাতা আমিনা এবং আট বছর বয়সে দাদা আবদুল মুত্তালিব ইন্তেকাল করেন।
    ৪. চাচার অভিভাবকত্ব: এরপর তিনি চাচা আবু তালিবের তত্ত্বাবধানে বড় হন। চাচার সংসারে অভাব থাকায় তিনি ছাগল চরিয়ে সাহায্য করতেন।

    জাহাঙ্গীর সাহেবও পিতার মৃত্যুর পর চাচার অধীনে লালিত হয়ে চাচার কাজে সাহায্য করেছেন। তাই এ দুজনের শৈশবে মিল রয়েছে।

  4. ঘ)

    ইমরান সাহেবের আচরণে মহানবি (স)-এর জীবনের ক্ষমা ও উদারতা-র আদর্শ ফুটে উঠেছে। তিনি নির্যাতনকারী সালমানের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ পেয়েও তাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।

    বিশ্লেষণ:

    ১. মক্কা বিজয়ের দৃষ্টান্ত: মক্কা বিজয়ের দিন যারা বছরের পর বছর রাসুলুল্লাহ (স) ও মুসলমানদের নির্যাতন করেছিল, তাদের তিনি বলেছিলেন, "আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই, তোমরা মুক্ত।" এভাবে তিনি সবাইকে ক্ষমা করে দেন।
    ২. প্রতিশোধের বদলে ক্ষমা: সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা করাই প্রকৃত মহত্ত্ব। ইমরানের কাজ সেই আদর্শেরই প্রতিফলন।
    ৩. সামাজিক শান্তি: ক্ষমা শত্রুতা দূর করে এবং সমাজে সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করে।
    ৪. আল্লাহর সন্তুষ্টি: কুরআনে ক্ষমাশীলদের প্রশংসা করা হয়েছে।

    সুতরাং, ইমরান সাহেবের আচরণ মহানবি (স)-এর ক্ষমার আদর্শেরই বাস্তব অনুসরণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন