পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত সুযোগ-সুবিধা, যা ভোগের মাধ্যমে নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। অধিকারের মূল লক্ষ্য সর্বজনীন কল্যাণ সাধন। উত্ত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশে তথ্য অধিকার আইন গৃহীত হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানের কাল হবে স্বচ্ছ, নিয়মতান্ত্রিক ও সত্যনিষ্ঠ।

  1. ক)

    অধিকার প্রধানত কয় প্রকার?

    (1)
  2. খ)

    সামাজিক অধিকার বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    "অধিকারের মূল লক্ষ্য সর্বজনীন কল্যাণ সাধন"-বক্তব্যটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে কি দুর্নীতিমুক্ত করা সম্ভবঃ উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    অধিকার প্রধানত দুই প্রকার: নৈতিক অধিকার ও আইনগত অধিকার।

  2. খ)

    সামাজিক অধিকার হলো সমাজে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা।

    যেমন জীবনের নিরাপত্তা, স্বাধীনভাবে চলাফেরা, শিক্ষা, ধর্ম পালন, পরিবার গঠন ও আইনের চোখে সমান আচরণ পাওয়ার অধিকার। এ অধিকারগুলো রাষ্ট্র ও সমাজ স্বীকার করে এবং তা সবার জন্য নিশ্চিত করা হয়।

  3. গ)

    অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত সুযোগ-সুবিধা, যা ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশে সাহায্য করে। তবে প্রত্যেকে যদি শুধু নিজের স্বার্থে অধিকার ভোগ করে, তাহলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।

    তাই অধিকার এমনভাবে ভোগ করতে হয়, যাতে অন্যের ক্ষতি না হয় এবং সবার কল্যাণ নিশ্চিত হয়। যেমন বাক স্বাধীনতা আছে, কিন্তু তা দিয়ে অন্যকে অপমান বা সমাজের ক্ষতি করা যাবে না। অধিকারের সাথে কর্তব্য যুক্ত থাকে বলেই এটি ব্যক্তির পাশাপাশি সমাজের সর্বজনীন কল্যাণ নিশ্চিত করে। তাই বলা হয়, অধিকারের মূল লক্ষ্য সর্বজনীন কল্যাণ সাধন।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আইনটি তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯। আমি মনে করি, এ আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে বহুলাংশে দুর্নীতিমুক্ত করা সম্ভব, তবে শুধু আইন যথেষ্ট নয়।

    পক্ষের যুক্তি:

    ১. স্বচ্ছতা: নাগরিক সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজ ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তথ্য চাইতে পারে, ফলে গোপনে অনিয়ম করা কঠিন হয়।

    ২. জবাবদিহিতা: কর্মকর্তারা জানেন যে তাঁদের কাজ প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে, তাই তাঁরা দায়িত্বশীল হন।

    ৩. অভিযোগের সুযোগ: তথ্য না পেলে নাগরিক তথ্য কমিশনে অভিযোগ করতে পারে।

    সীমাবদ্ধতা: আইনের সফল প্রয়োগ নির্ভর করে জনসচেতনতা, কর্মকর্তাদের সদিচ্ছা ও কার্যকর প্রশাসনের ওপর।

    সুতরাং, তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়িত হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ে এবং দুর্নীতি কমে; নাগরিকদের সচেতনতা ও নৈতিকতা যুক্ত হলে রাষ্ট্র দুর্নীতিমুক্ত হওয়া সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন