রসায়ন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

রসায়ন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    পরম শূণ্য তাপমাত্রা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    তড়িৎ রাসায়নিক কোষে লবণ সেতু ব্যবহার করা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    শিল্প কাঁচা মালটির প্রক্রিয়াজাতকরনের Na2Cr2O7 এর ভূমিকা সমীকরণ আকারে লিখ।

    (3)
  4. ঘ)

    কোন উৎস থেকে অধিক পরিমাণ নদী দূষণ ঘটবে? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তন তাত্ত্বিকভাবে শূন্য হয়ে যায়, তাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে। সেলসিয়াস স্কেলে এর মান -২৭৩.১৫°C (বা -২৭৩°C) এবং কেলভিন স্কেলে ০ K।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তড়িৎ রাসায়নিক কোষে লবণ সেতু মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়:
    ১. তড়িৎ নিরপেক্ষতা বজায় রাখা: অ্যানোড ও ক্যাথোড উভয় অর্ধকোষের দ্রবণ থেকে অতিরিক্ত ধনাত্মক বা ঋণাত্মক আয়ন প্রশমিত করতে লবণ সেতু প্রয়োজনীয় ক্যাটায়ন বা অ্যানায়ন সরবরাহ করে, ফলে দ্রবণদ্বয় সার্বিক তড়িৎ নিরপেক্ষ থাকে।
    ২. বর্তনী পূর্ণ করা: দুটি অর্ধকোষের দ্রবণকে সরাসরি মিশ্রিত হতে না দিয়ে তাদের মধ্যে পরোক্ষ সংযোগ স্থাপন করে তড়িৎ প্রবাহ অব্যাহত রাখে এবং তরল-তরল সংযোগ বিভব ন্যূনতম পর্যায়ে রাখে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শিল্প কারখানাটি হলো একটি ট্যানারী এবং এর প্রধান কাঁচামাল হলো পশুর কাঁচা চামড়া। চামড়া ট্যানিং প্রক্রিয়ায় Na2Cr2O7 (সোডিয়াম ডাইক্রোমেট) ব্যবহার করে বেসিক ক্রোমিয়াম সালফেট [Cr(OH)SO4] প্রস্তুত করা হয়, যা ক্রোম ট্যানিংয়ে চামড়ার কোলাজেন প্রোটিনের সাথে ক্রস-লিংক গঠন করে চামড়াকে ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী ও দীর্ঘস্থায়ী করে।

    প্রক্রিয়াজাতকরণের সমীকরণসমূহ:
    ১. অম্লীয় মাধ্যমে সোডিয়াম ডাইক্রোমেটকে সালফার ডাই-অক্সাইড (SO2) দ্বারা বিজারিত করে বেসিক ক্রোমিয়াম সালফেট তৈরি করা হয়:
    Na2Cr2O7 + 3SO2 + H2O → 2Cr(OH)SO4 + Na2SO4

    ২. উৎপন্ন বেসিক ক্রোমিয়াম সালফেট চামড়ার কোলাজেন প্রোটিনের কার্বক্সিলিক মূলকের (-COOH) সাথে জটিল বন্ধন তৈরি করে:
    2(Collagen-COOH) + Cr(OH)SO4 → (Collagen-COO)2Cr(OH) + H2SO4

    এভাবে Na2Cr2O7 চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে বা ট্যানিং প্রক্রিয়ায় স্থায়ী সংযোগকারী উপাদান হিসেবে মূল ভূমিকা পালন করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নদী দূষণের দুটি সম্ভাব্য উৎস দেখানো হয়েছে:
    ১. ট্যানারীর অপরিশোধিত তরল ও কঠিন বর্জ্য (ড্রেনের মাধ্যমে সরাসরি নদীতে পতিত হচ্ছে)।
    ২. নদীর তীরবর্তী আর্সেনিক আকরিকযুক্ত মাটি।

    উৎস দুটির মধ্যে 'ট্যানারী' থেকে অধিক পরিমাণ নদী দূষণ ঘটবে। এর সপক্ষে কারণসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. বর্জ্যের মাত্রা ও প্রবাহ: ট্যানারী থেকে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত তরল বর্জ্য সরাসরি ড্রেনের মাধ্যমে নদীতে নিক্ষিপ্ত হয়। পক্ষান্তরে, ভূ-তাত্ত্বিক আর্সেনিক মূলত আকরিক আকারে মাটিতে স্থিতিশীল অবস্থায় থাকে এবং তা কেবল ধীরগতিতে বৃষ্টির পানির মাধ্যমে বা ভূগর্ভস্থ পানির মাধ্যমে সামান্য দ্রবীভূত হয়ে নদীতে আসতে পারে।

    ২. ভারী ধাতুর উপস্থিতি: ট্যানারী বর্জ্যে অত্যন্ত বিষাক্ত ক্রোমিয়াম (Cr³⁺ এবং ক্যান্সার সৃষ্টিকারী Cr⁶⁺) উচ্চ মাত্রায় থাকে। এটি নদীর জলজ বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতি করে।

    ৩. জৈব দূষণ ও BOD/COD বৃদ্ধি: চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের ফলে চর্বি, মাংসপেশি, প্রোটিন ইত্যাদির বিপুল জৈব বর্জ্য নদীতে মেশে। ফলে নদীর পানির BOD এবং COD মাত্রা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায় এবং দ্রবীভূত অক্সিজেন (DO) আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পায়।

    ৪. ক্ষতিকর রাসায়নিকের সমাহার: ট্যানারীর বর্জ্যে ক্রোমিয়াম ছাড়াও উচ্চ ঘনমাত্রার সালফাইড, সালফেট, ক্লোরাইড, অ্যাসিড, ক্ষার ও ক্ষতিকর কৃত্রিম রঙ থাকে, যা নদীর পানিকে অত্যন্ত বিষাক্ত করে তোলে।

    সুতরাং, রাসায়নিকের বৈচিত্র্য, বিষাক্ততার মাত্রা এবং সরাসরি অবিরত নিঃসরণের পরিমাণের দিক বিবেচনা করলে আর্সেনিকযুক্ত মাটির তুলনায় ট্যানারীর বর্জ্য থেকেই নদীতে অনেক বেশি মাত্রায় দূষণ ঘটবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন