‍অর্থনীতি ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২

‍অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

সিমা আক্তার একজন গৃহিণী। তার ব্যক্তিগত মোবাইলে স্কুলপড়ুয়া সন্তানের বৃত্তির টাকা পেয়ে থাকেন। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট বিলও তিনি মোবাইলের মাধ্যমে পরিশোধ করেন। সম্প্রতি তিনি জানতে পারলেন যে, 'মোবাইলের মাধ্যমে মাসিক সঞ্চয় জমা করা যায়।

  1. ক)

    অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক নগদ জমার হার পদ্ধতিতে কীভাবে ঋণ নিয়ন্ত্রণ করে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কোন ধরনের ব্যাংকিং ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার আর্থসামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্থ হলো এমন একটি মাধ্যম যা বিনিময়ের মাধ্যম, মূল্যের পরিমাপক, দেনা-পাওনা নিষ্পত্তির মাধ্যম এবং মূল্যের সঞ্চয়ের বাহন হিসেবে সর্বজনগ্রাহ্য।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ নিজের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে জমা রাখে, যাকে নগদ জমার হার (Cash Reserve Ratio - CRR) বলে। অর্থনীতিতে ঋণের পরিমাণ কমাতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নগদ জমার হার বৃদ্ধি করে; ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণদান ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং ঋণ সংকোচন ঘটে। বিপরীতভাবে, বাজারে মুদ্রা বা ঋণের জোগান বাড়াতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জমার হার কমিয়ে দেয়, যার ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণদান ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'মোবাইল ব্যাংকিং' বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।

    ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অনুমোদিত মোবাইল নেটওয়ার্ক ও প্রযুক্তির সাহায্যে গ্রাহকের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন, অর্থ স্থানান্তর ও অন্যান্য সেবা প্রদানকে মোবাইল ব্যাংকিং বলে।
    উদ্দীপকে দেখা যায়, সিমা আক্তার ব্যাংকে না গিয়েই তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সন্তানের বৃত্তির টাকা গ্রহণ করছেন, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট বিল পরিশোধ করছেন এবং মাসিক সঞ্চয় (ডিপিএস) জমা করার সুযোগ পাচ্ছেন। এসব কার্যক্রম সরাসরি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং, এখানে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থার কথাই তুলে ধরা হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলছে। নিচে এর প্রভাব মূল্যায়ন করা হলো:

    ১. আর্থিক অন্তর্ভুক্তি: মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ফলে দেশের সুবিধাবঞ্চিত, ব্যাংকিং সেবাবহির্ভূত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় এসেছে। ঘরে বসেই অ্যাকাউন্ট খোলা ও লেনদেন করা সম্ভব হচ্ছে।
    ২. সময় ও খরচ সাশ্রয়: সরাসরি ব্যাংকে বা বিদ্যুৎ অফিসে না গিয়ে ঘরে বসেই বিল পরিশোধ, বৃত্তির টাকা গ্রহণ এবং অর্থ স্থানান্তর করা যাচ্ছে, যা যাতায়াত খরচ ও মূল্যবান সময় বাঁচায়।
    ৩. সঞ্চয় প্রবণতা বৃদ্ধি: উদ্দীপকে উল্লেখিত মাসিক সঞ্চয়ের মতো সুবিধার ফলে সাধারণ জনগণ ও গৃহিণীদের মধ্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জাতীয় সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক।
    ৪. নারীর ক্ষমতায়ন: গৃহিণী সিমা আক্তারের মতো বহু নারী এখন নিজেদের আর্থিক সিদ্ধান্ত স্বাধীনভাবে নিতে পারছেন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারছেন।
    ৫. সামাজিক নিরাপত্তা ও সরকারি সেবা বিতরণ: সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভাতা, উপবৃত্তি ইত্যাদি কোনো প্রকার মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি প্রকৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাচ্ছে, যা দুর্নীতি প্রতিরোধ করে।

    অতএব, মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থা দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনকে সহজতর করে দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক অগ্রযাত্রায় যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন