পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
হাবিবুর রহমান 'ক' রাষ্ট্রের অত্যন্ত জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা। তিনি তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক জনসভায় শাসকদের নিকট শর্ত দেন- সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে, সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে এবং জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।
- ক)(1)
সার্ক কী?
- খ)(2)
প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোনো ঐতিহাসিক ঘটনার সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনা জনগণকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিতে। উদ্বুদ্ধ করে- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সার্ক (SAARC) হলো দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (South Asian Association for Regional Cooperation), যা দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার লক্ষ্যে গঠিত একটি আঞ্চলিক জোট।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল হলো সরকারি কর্মচারীদের চাকুরির শর্তাবলি, পদোন্নতি, পেনশন, বরখাস্ত ইত্যাদি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গঠিত বিশেষ আদালত। সংবিধানের ১১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাধারণ আদালতের কাজের চাপ কমাতে এবং প্রশাসনিক বিরোধ দ্রুত ও দক্ষভাবে সমাধানের লক্ষ্যে এটি গঠিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে হাবিবুর রহমান তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জনসভায় শাসকদের নিকট সামরিক আইন প্রত্যাহার, সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া এবং জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের শর্ত তুলে ধরেন।
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর কাছে চারটি সুস্পষ্ট দাবি বা শর্ত তুলে ধরেছিলেন—১. সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে, ২. সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে, ৩. গণহত্যার তদন্ত করতে হবে এবং ৪. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। উদ্দীপকের শর্তগুলোর সাথে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে উত্থাপিত দাবির হুবহু মিল রয়েছে। সুতরাং, উদ্দীপকটি ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ঐতিহাসিক ঘটনাটি হলো ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, যা সমগ্র বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে গভীরভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিল—উক্তিটি যথার্থ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণে একদিকে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার শোষণের চিত্র ও অন্যায্য আচরণের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেন এবং চারটি দাবি জানান, অন্যদিকে বাঙালি জাতিকে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেন। তাঁর বজ্রকণ্ঠের "তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো", "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"—বাণী বাংলার মানুষকে রাজনৈতিক, মানসিক ও সামরিকভাবে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করে তোলে।
এই ভাষণের নির্দেশেই পূর্ব বাংলায় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন পরিচালিত হয় এবং ২৫শে মার্চের কালরাতে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী গণহত্যা শুরু করলে সাধারণ জনগণ বঙ্গবন্ধুর এই নির্দেশ মনে রেখেই সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত ঐতিহাসিক ভাষণটি বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনাকে চূড়ান্ত রূপ দিয়েছিল এবং সাধারণ মানুষকে স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রত্যক্ষ অংশ নিতে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও