কৃষিশিক্ষা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩

কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন

কৃষক গণি মিঞার ক্রয়কৃত উপরিউক্ত বীজ ১০ শতক জমিতে লাগানোর আশায় চোখসহ কেটে কেটে ভাগ করে নেয়া হলো। কাটা শেষ হলে সে বীজগুলোকে নির্বাচন ও তৈরিকৃত জমিতে ১০-১৫ সে.মি. দূরত্বে রোপণ করেন। এ বছর এলাকায় জৈব সারের ঘাটতি থাকার কারণে সে তার জমিতে একটু বেশি পরিমাণে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করেন।

  1. ক)

    কৃষিতাত্ত্বিক বীজ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বীজ সংগ্রহ বীজ উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ - ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    গণি মিঞার ক্রয়কৃত বীজ উৎপাদন পদ্ধতি বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    কৃষক গণি মিঞা তার চাষকৃত জমিতে যে ধরনের সার ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেছিল, তা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ফসলের উৎপাদনে বীজ হিসেবে যেসব অংশ (দানা, কন্দ, কাণ্ড, শিকড় ইত্যাদি) ব্যবহার করা হয় এবং যা থেকে নতুন গাছ জন্মে, তাকে কৃষিতাত্ত্বিক বীজ বলে।

  2. খ)

    ভালো ফসল পেতে ভালো মানের বীজ দরকার। বীজ সংগ্রহের সময় ভালো জাতের, রোগমুক্ত, পরিপক্ক ও পুষ্ট গাছ বা কন্দ বেছে নিতে হয় এবং ঠিক সময়ে সংগ্রহ করতে হয়। সংগ্রহের পর শুকিয়ে ও পরিষ্কার করে সংরক্ষণ করা হয়। এতে বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা ও জীবনীশক্তি বজায় থাকে। তাই বীজ সংগ্রহ বীজ উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

  3. গ)

    চিত্রের বীজ আলুর কন্দ, যাতে অঙ্কুর বা চোখ দেখা যাচ্ছে। আলুর বীজ কন্দ থেকে অঙ্গজ বা কায়িক পদ্ধতিতে উৎপাদন করা হয়।

    উৎপাদন পদ্ধতি:
    ১. নির্দিষ্ট জাতের রোগমুক্ত, সুস্থ বীজ আলু সংগ্রহ করে ঠান্ডা ও আলোবাতাসযুক্ত স্থানে অঙ্কুরিত করা হয়।
    ২. জমি ভালোভাবে চাষ ও মই দিয়ে সমতল করে জৈব ও রাসায়নিক সার মিশিয়ে প্রস্তুত করা হয়।
    ৩. পুরো আলু বা চোখসহ কাটা অংশ সারিতে নির্দিষ্ট দূরত্বে রোপণ করা হয়।
    ৪. সেচ, আগাছা দমন, মাটি তুলে দেওয়া এবং পোকা ও রোগ দমন করা হয়।
    ৫. অন্য জাত বা রোগাক্রান্ত গাছ তুলে ফেলে (রোগিং) গাছ পরিপক্ক হলে কন্দ তুলে শুকিয়ে বাছাই করে সংরক্ষণ করা হয়।

  4. ঘ)

    গণি মিঞা জৈব সারের ঘাটতির কারণে বেশি পরিমাণে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করেছেন। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে এটি সঠিক সার ব্যবস্থাপনা নয়।

    ১. সমন্বিত সার ব্যবস্থাপনা: পাঠ্যবই অনুযায়ী জৈব ও রাসায়নিক সার একসাথে সুষম মাত্রায় ব্যবহার করতে হয়। আলুর জন্য গোবর বা কম্পোস্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ।
    ২. শুধু রাসায়নিক সারের ক্ষতি: অতিরিক্ত রাসায়নিক সার মাটির জৈব পদার্থ কমায়, মাটির গঠন ও অণুজীব নষ্ট করে এবং দীর্ঘমেয়াদে উর্বরতা কমায়। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ে এবং পরিবেশ দূষিত হয়।
    ৩. বিকল্প: জৈব সারের ঘাটতি থাকলে সবুজ সার বা খৈল ব্যবহার করে ঘাটতি পূরণ করা যেত।

    সুতরাং, গণি মিঞার সার ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি যথাযথ নয়। জৈব সার যুক্ত করে সুষম মাত্রায় রাসায়নিক সার দেওয়াই উত্তম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন