বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৬
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
'ক' নদের তীরে গড়ে ওঠে এক বিশাল নগর সভ্যতা। এখানকার মানুষেরা মাটির ফলকে বর্ণ ব্যবহার করে লেখালেখি করত।
অন্যদিকে সুরমা নদীর নিয়মিত বন্যায় ঐ এলাকার মানুষেরা জীবনকে সমৃদ্ধ করেছিল। তারা বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ, স্থপতি, বিজ্ঞানে বিশেষ সাফল্য অর্জন করে।
- ক)(1)
ফার্টাইল ক্রিসেন্ট কী?
- খ)(2)
হোয়াংহো নদীকে "চীনের দুঃখ" বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রথম অংশে যে সভ্যতার মিল রয়েছে, তার নগর পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের ২য় অংশে প্রাচীন যে সভ্যতার চিত্র ফুটে উঠেছে, বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তাদের অবদান বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ফার্টাইল ক্রিসেন্ট হলো পশ্চিম এশিয়ায় নীল নদ থেকে ফোরাত-তাইগ্রিস নদী পর্যন্ত বিস্তৃত অর্ধচন্দ্রাকৃতি উর্বর অঞ্চল।
- খ)
হোয়াংহো নদীতে প্রায়ই প্রবল বন্যা হতো। বন্যায় নদীর গতিপথ বদলে যেত, ফসল নষ্ট হতো এবং বহু মানুষ ও গবাদিপশুর প্রাণহানি ঘটত। ঘরবাড়ি ও জনপদ ভেসে গিয়ে চীনা জনগণের অপরিসীম ক্ষতি হতো। এই বিপুল ধ্বংস ও দুর্ভোগের কারণে হোয়াংহো নদীকে 'চীনের দুঃখ' বলা হয়।
- গ)
উদ্দীপকের প্রথম অংশে মেসোপটেমিয়া সভ্যতার মিল রয়েছে, কারণ এখানকার মানুষ নদীর তীরে নগর গড়ে তুলেছিল এবং মাটির ফলকে বর্ণ খোদাই করে লিখত। মেসোপটেমিয়ার লিপি কীলকাকার।
মেসোপটেমিয়ার নগর পরিকল্পনা—
১. নগরগুলো ছিল ফোরাত ও তাইগ্রিস নদীর তীরে, যেমন উর, উরুক, ব্যাবিলন।
২. নগরের কেন্দ্রস্থলে থাকত জিগুরাত নামে বড় মন্দির।
৩. ঘরবাড়ি ও প্রাচীর রোদে শুকানো মাটির ইট দিয়ে তৈরি হতো।
৪. কৃষির জন্য খাল কেটে সেচের ব্যবস্থা করা হতো।এভাবে মেসোপটেমিয়ার নগরগুলো পরিকল্পিত ছিল।
- ঘ)
উদ্দীপকের ২য় অংশে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার চিত্র ফুটে উঠেছে। নীল নদের নিয়মিত বন্যা মিশরের জীবনকে সমৃদ্ধ করেছিল। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে মিশরীয়দের অবদান উল্লেখযোগ্য।
১. পঞ্জিকা: নীল নদের বন্যার সময় নির্ণয় করতে গিয়ে মিশরীয়রা জ্যোতির্বিজ্ঞানের চর্চা করে। তারা ৩৬৫ দিনে বছর গণনার সৌর পঞ্জিকা তৈরি করে।
২. জ্যামিতি ও গণিত: বন্যার পর জমির সীমানা নির্ণয় করতে গিয়ে তারা জ্যামিতি ও পাটিগণিতের উদ্ভাবন ঘটায়। পিরামিড নির্মাণে এই জ্ঞান কাজে লাগে।
৩. চিকিৎসাবিজ্ঞান: মমি তৈরির মাধ্যমে মানবদেহ সম্পর্কে তারা জ্ঞান অর্জন করে এবং চিকিৎসাশাস্ত্রে অগ্রগতি লাভ করে।সুতরাং, বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মিশরীয় সভ্যতার অবদান পরবর্তী সভ্যতাগুলোর ভিত্তি তৈরি করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও