হিন্দু ধর্ম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২০
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: একদিন সন্ধ্যায় অসীম দেখে প্রচণ্ড শীতে এক ভিক্ষুক কাঁপছে। তখন অসীম শীতের ভয়াবহতা উপেক্ষা করে নিজের গায়ের দামি চাদরটি খুলে ভিক্ষুককে দিয়ে দিল। চাদরটি পেয়ে ভিক্ষুক অসীমকে প্রাণভরে আশীর্বাদ করল।দৃশ্যকল্প-২: তমাল নদীর পাড় দিয়ে হাঁটার সময় দেখল কিছু লোক নদী পার হচ্ছে। হঠাৎ একটা শিশু মায়ের কোল থেকে জলে পড়ে গেল। শিশুটিকে কেউ জল থেকে তুলছে না। তমাল জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিল। ফলে শিশুটির মা তমালকে প্রাণভরে আশীর্বাদ করল।
- ক)(1)
মানবতা কাকে বলে?
- খ)(2)
মানুষকে শ্রেষ্ঠ জীব বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ অসীমের চরিত্রের সাথে পাঠ্যপুস্তকের যে চরিত্রের মিল আছে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ তমালের কর্মকাণ্ডের শিক্ষা সমাজ ও পারিবারিক জীবনে কতটুকু তাৎপর্যপূর্ণ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মানুষের প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা বা মমত্ববোধ, তাকে মানবতা বলে।
- খ)
মানুষের মধ্যে ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ক্রোধ, লোভ, হিংসার মতো সহজাত প্রবৃত্তি পশুদেরও আছে। কিন্তু মানুষের মধ্যে মানবতা নামে একটি বিশেষ গুণ আছে, যা অন্য জীব থেকে তাকে আলাদা করে। সহিষ্ণুতা, ক্ষমা, দয়া, সত্য, ইন্দ্রিয় সংযম প্রভৃতি মানবিক গুণ মানুষকে মহান করে। মানবতার জন্যই মানুষকে শ্রেষ্ঠ জীব বলা হয়।
- গ)
দৃশ্যকল্প-১ এ অসীমের চরিত্রের সাথে পাঠ্যপুস্তকের রন্তিবর্মা চরিত্রের মিল আছে।
পাঠ্যপুস্তক অনুযায়ী মানবতা হলো মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও মমত্ববোধ। নিরন্নকে অন্ন, বস্ত্রহীনকে বস্ত্র, রুগ্ণকে ওষুধ, বিপন্নকে আশ্রয় দেওয়া মানবতারই আরেক নাম। রন্তিবর্মা ছিলেন প্রজাবৎসল, কৃষ্ণভক্ত সম্রাট। তিনি অযাচক বৃত্তি গ্রহণ করে আটচল্লিশ দিন অনাহারে থাকার পর উনপঞ্চাশতম দিনে ভক্তের দেওয়া খাবার পান। সে সময় ক্ষুধার্ত এক ভিক্ষুক ও তার কুকুর এলে তিনি নিজের পুরো খাবার তাদের দিয়ে দেন এবং নিজে অভুক্ত থাকেন।
উদ্দীপকে অসীম প্রচণ্ড শীতে কম্পমান ভিক্ষুককে দেখে শীতের কষ্ট উপেক্ষা করে নিজের দামি চাদরটি খুলে দিয়েছে। রন্তিবর্মা যেমন নিজের কষ্ট সহ্য করে ক্ষুধার্তকে খাবার দিয়েছেন, অসীমও তেমনি নিজের কষ্ট মেনে নিয়ে শীতার্তকে বস্ত্র দিয়েছে। দুজনেরই কাজের মূলে আছে মানবতাবোধ।
সুতরাং, ত্যাগ ও মানবতার দিক থেকে অসীমের সাথে রন্তিবর্মার মিল রয়েছে।
- ঘ)
দৃশ্যকল্প-২ এ তমাল জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়া শিশুকে উদ্ধার করেছে। তার এ কর্মকাণ্ডে সৎসাহস ও মানবতা প্রকাশ পেয়েছে। পাঠ্যপুস্তক অনুযায়ী নিজের জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেও অন্যের মঙ্গলের জন্য যে ব্যক্তি নিজের শক্তিতে যথাসাধ্য চেষ্টা করে, তাকে বলে সৎসাহস। আর মানুষের প্রতি মানুষের মমত্ববোধ হলো মানবতা।
১. পারিবারিক তাৎপর্য: তমাল শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে। একটি পরিবারকে সে বড় শোক থেকে রক্ষা করেছে। এ শিক্ষা আমাদের শেখায়, পরিবারের সদস্যদের বিপদে পাশে দাঁড়ানো ও তাদের প্রতি দায়িত্ববোধ থাকা উচিত।
২. সামাজিক তাৎপর্য: নদী পার হওয়া বহু লোক শিশুটিকে তুলছিল না। তমাল সবার মতো নীরব থাকেনি। এ শিক্ষা বলে, সমাজে ভীরু-কাপুরুষের স্থান নেই। যারা সৎসাহসী, তারা সমাজ, দেশ ও জাতির অহংকার এবং বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়তে দ্বিধা করে না।
৩. নৈতিক ও মানবিক বিকাশ: তমালের কাজ পরের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার দৃষ্টান্ত। এতে সমাজে সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে। পাঠ্যপুস্তকে তরণীসেনের মতো সৎসাহসী চরিত্রও এ আদর্শ শেখায়।
৪. পুরস্কার: শিশুটির মায়ের আশীর্বাদ তমালের মনে প্রশান্তি ও আত্মতৃপ্তি এনেছে, যা অন্যদেরও ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করে।সুতরাং, তমালের কর্মকাণ্ডের শিক্ষা সমাজ ও পারিবারিক জীবনে সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ ও সৎসাহসের চর্চা বাড়িয়ে একটি সুন্দর সমাজ গড়তে সহায়তা করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও