বিজ্ঞান • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২০

বিজ্ঞান প্রশ্ন

রুমাইতা গাড়িতে ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জ যাচ্ছিল। পথিমধ্যে তাদের গাড়িটি সিএনজি পাম্প স্টেশনে এক ধরনের জ্বালানি নেওয়ার জন্য থামে। তাদের বাসায় রান্নার জন্য জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত উপকরণের সঙ্গে সে এর মিল খুঁজে পেল। সে যাওয়ার পথে বাস থেকেই লক্ষ করলো একজন লোক দা, বটি তৈরির জন্য কালো বর্ণের আর এক ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করছে।

  1. ক)

    মাটির বায়বায়ন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    কাদা মাটি দিয়ে কেন ঘর সাজানোর তৈজসপত্র তৈরি করা হয়?

    (2)
  3. গ)

    উল্লিখিত প্রথম জ্বালানিটির প্রক্রিয়াকরণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উল্লিখিত দুইটি জ্বালানির মধ্যে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎক্ষেত্রে একটির ব্যবহার বেশি হলেও পৃথিবীর সব দেশেই অন্যটির ব্যবহার বেশি-বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    মাটির কণাগুলোর মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গা দিয়ে বাতাস চলাচল করা এবং বাতাস ধারণ করার প্রক্রিয়াকে মাটির বায়বায়ন বলে।

  2. খ)

    কাদা মাটির কণাগুলো খুব সূক্ষ্ম, তাই এটি প্রচুর পানি ধারণ করতে পারে এবং অনেকটা আঠালো হয়। ফলে ভেজা অবস্থায় এই মাটিকে সহজে নানা আকার দেওয়া যায়। শুকিয়ে বা পুড়িয়ে নিলে তা শক্ত ও টেকসই হয়। এজন্য কাদা মাটি দিয়ে ঘর সাজানোর তৈজসপত্র তৈরি করা হয়।

  3. গ)

    সিএনজি পাম্পে নেওয়া জ্বালানি হলো প্রাকৃতিক গ্যাস। গ্যাসকূপ যেখানে পাওয়া যায় সাধারণত সেখানেই এর প্রক্রিয়াকরণ করা হয়:

    ১. গ্যাসকূপে গ্যাসের সাথে তেল থাকে, তাই প্রথমে তেলকে গ্যাস থেকে আলাদা করা হয়।
    ২. এরপর গ্যাসে থাকা বেনজিন ও বিউটেন ঘনীভূত করে আলাদা করা হয়।
    ৩. পানি দূর করার জন্য গ্যাসকে নিরুদকের মধ্য দিয়ে চালনা করা হয়।
    ৪. অতঃপর দূষক পদার্থ (H2SH_2S, CO2CO_2) পৃথক করা হয়।
    ৫. সবশেষে নাইট্রোজেন আলাদা করা হয়।

    এই অবস্থায় পাওয়া বিশুদ্ধ মিথেন গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে সঞ্চালন করা হয়।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের দুটি জ্বালানি হলো প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) এবং কয়লা (কর্মকারের কালো জ্বালানি)।

    ১. বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস: আমাদের দেশে বেশিরভাগ বিদ্যুৎ প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে উৎপন্ন হয়। প্রায় ৫১ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাসই বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
    ২. বাংলাদেশে কয়লা: বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি কয়লা ব্যবহৃত হয় ইটের ভাটায়; বিদ্যুৎ উৎপাদনে এর ব্যবহার এখনো তুলনামূলক কম।
    ৩. বিশ্বব্যাপী কয়লা: পৃথিবীর সব দেশেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার খুবই বেশি, কারণ কয়লার মজুত বিশাল ও বেশি দেশে সহজলভ্য।

    সুতরাং, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার বেশি হলেও পৃথিবীর সব দেশেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার বেশি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন