পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
বিশাল আয়তনে গঠিত অঞ্চলের প্রশাসক ছিলেন জনাব ইসমাঈল। তাঁর একার পক্ষে বিশাল অঞ্চলের উন্নয়ন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন হচ্ছিল। এর ফলে কর্তৃপক্ষ বিশাল অঞ্চল 'ক' ও 'খ' অঞ্চলে বিভক্ত করে। এতে 'ক' অঞ্চলের জনগণ খুশি হলেও 'খ' অঞ্চলের জনগণ তীব্র বিরোধিতা করে। ফলে দুই অঞ্চলকে পুনরায় একত্রীকরণ করা হয়।
- ক)(1)
প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন কাকে বলে?
- খ)(2)
মুসলিম লীগ কেন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভক্তির সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার মিল আছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভক্তিকরণ 'ক' অঞ্চলের জনজীবনে যে প্রভাব ফেলেছিল তা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কেন্দ্রের অযাচিত হস্তক্ষেপ ছাড়া সাংবিধানিকভাবে প্রাদেশিক সরকারের নিজস্ব শাসন পরিচালনার অবাধ অধিকারকে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্রিটিশ ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের প্রতিনিধিত্বকারী কংগ্রেসের আধিপত্য থেকে মুসলিমদের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে ১৯০৬ সালে অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। মুসলমানদের শিক্ষা, চাকরি ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে একটি স্বতন্ত্র প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তা ছিল এই দল প্রতিষ্ঠার মূল কারণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভক্তির সাথে ১৯০৫ সালের ঐতিহাসিক 'বঙ্গভঙ্গ' ঘটনার মিল রয়েছে।
উদ্দীপকের বিশাল অঞ্চলের প্রশাসক জনাব ইসমাঈলের মতো ব্রিটিশ ভারতের লর্ড কার্জনও বাংলা প্রেসিডেন্সির বিশাল আয়তন ও বিপুল জনসংখ্যার কারণে সুষ্ঠু প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন মনে করেছিলেন। এই প্রশাসনিক অসুবিধার অজুহাতে ১৯০৫ সালে বাংলাকে ভাগ করে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' এবং 'পশ্চিমবঙ্গ' নামে দুটি পৃথক প্রদেশ গঠন করা হয়। উদ্দীপকের 'ক' অঞ্চল পূর্ববঙ্গের এবং 'খ' অঞ্চল পশ্চিমবঙ্গের প্রতীক, যার ফলে বঙ্গভঙ্গের ঘটনাটি সরাসরি প্রতিফলিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভক্তিকরণ (১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ) 'ক' অঞ্চল অর্থাৎ পূর্ববঙ্গের মুসলিম ও সাধারণ অনগ্রসর জনগণের জীবনে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
বঙ্গভঙ্গের ফলে ঢাকা নতুন গঠিত প্রদেশ 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম'-এর রাজধানী মর্যাদা পায়। এর ফলে পূর্ববঙ্গের অবহেলিত জনগণের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়। ঢাকাকেন্দ্রিক হাইকোর্ট, সেক্রেটারিয়েট, প্রেস এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটে, যা এতদিন কলকাতাকেন্দ্রিক ছিল।
এছাড়া চাটগাঁ বন্দরের আধুনিকায়ন হয় এবং মুসলিম মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিকাশ ঘটে। শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির ফলে অনুন্নত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার পথ উন্মুক্ত হয় এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ভিত্তি রচিত হয়। ফলে এই বিভক্তি পূর্ববঙ্গের মানুষের মাঝে আত্মবিশ্বাস ও রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি করেছিল, যা তাদের পিছিয়ে পড়া অবস্থান থেকে উত্তরণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও