গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৬
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন
হোমায়রা ও রুহি দুই বান্ধবী। তারা নবম শ্রেণিতে পড়ে। স্কুল থেকে ফেরার পথে হোমায়রা সফট ড্রিংকস এবং সন্ধ্যায় পড়তে বসার আগে ফাস্টফুড জাতীয় খাবার খায়। অবসর সময়ে কম্পিউটারে গেমস খেলে সময় কাটায়। অপরদিকে রুহির খাবারের প্রতি ততটা আগ্রহ নেই। সে ডিম ও দুধ খেতে চায় না। মা চেষ্টা করেন প্রতিদিনই তাকে দুধ বা ডিম জাতীয় খাদ্য খাওয়াতে। তা ছাড়া মা যকৃত, ছোট মাছ, সবুজ শাকসবজি, ডাল ও ফল ইত্যাদির মধ্যে প্রতিদিনই দুইটি বা তিনটি খাবার খাদ্য তালিকায় রাখেন।
- ক)(1)
পরিপাকতন্ত্র কাকে বলে?
- খ)(2)
পরিপাক ধারাবাহিক প্রক্রিয়া—ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
হোমায়রার উপযোগী একদিনের একটি খাদ্যতালিকা তৈরি করো।
- ঘ)(4)
রুহির ক্ষেত্রে মায়ের খাদ্য সচেতনতার মূল লক্ষ্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
খাদ্য গ্রহণ, পরিপাক, শোষণ ও বর্জ্য নিষ্কাশনের কাজে অংশ নেওয়া যেসব অঙ্গ ও গ্রন্থি একসাথে কাজ করে, সেগুলোর সমষ্টিকে পরিপাকতন্ত্র বলে।
- খ)
খাদ্য পরিপাক একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, কারণ এটি মুখ থেকে শুরু হয়ে ধাপে ধাপে বৃহদন্ত্র পর্যন্ত চলে।
মুখে চর্বণ ও লালার মাধ্যমে শ্বেতসার ভাঙা শুরু হয়। এরপর পাকস্থলীতে জারক রসের কাজে আমিষের পরিপাক হয়। ক্ষুদ্রান্ত্রে অগ্ন্যাশয় রস, পিত্তরস ও অন্ত্ররসের সাহায্যে পরিপাক সম্পূর্ণ হয় এবং খাদ্যসার রক্তে শোষিত হয়। অবশিষ্ট অংশ বৃহদন্ত্রে গিয়ে বর্জ্য হিসেবে বের হয়। কোনো ধাপ ব্যাহত হলে পরের ধাপে সমস্যা হয়।
- গ)
হোমায়রা নবম শ্রেণির কিশোরী। এ বয়সে দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে, তাই আমিষ, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিনসমৃদ্ধ সুষম খাদ্য প্রয়োজন। ফাস্টফুড ও সফট ড্রিংকস পরিহার করে একদিনের খাদ্যতালিকা নিচে দেওয়া হলো:
সময় খাবার সকালের নাস্তা আটার রুটি, সবজি, সিদ্ধ ডিম, এক গ্লাস দুধ মধ্যাহ্ন ভোজ ভাত, ডাল, ছোট মাছ বা মুরগির মাংস, শাক, সবজি ভাজি, সালাদ বিকেলের নাস্তা মৌসুমি ফল, মুড়ি-বাদাম বা ঘরে তৈরি পিঠা, লেবুর শরবত (সফট ড্রিংকসের বদলে) রাতের খাবার ভাত বা রুটি, ডাল, মাছ বা ডিম, সবজি শোয়ার আগে এক গ্লাস দুধ এর সাথে দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে এবং কম্পিউটার গেমসের পরিবর্তে নিয়মিত খেলাধুলা বা ব্যায়াম করা উচিত।
- ঘ)
রুহি ডিম ও দুধ খেতে চায় না। ফলে তার আমিষ ও ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হতে পারে। মায়ের খাদ্য সচেতনতার মূল লক্ষ্য হলো রুহির জন্য সুষম খাদ্য নিশ্চিত করে পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করা। এর বিশ্লেষণ:
১. আমিষ ও ক্যালসিয়ামের জোগান: মা প্রতিদিন দুধ বা ডিম খাওয়ানোর চেষ্টা করেন এবং ডাল ও ছোট মাছ দেন। এগুলো আমিষ ও ক্যালসিয়ামের উৎস, যা হাড় ও পেশির গঠনে প্রয়োজন।
২. রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ: যকৃত, শাকসবজি ও ডালে আয়রন থাকে। কৈশোরে বিশেষ করে মেয়েদের রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে এগুলো জরুরি।
৩. ভিটামিন ও খনিজের চাহিদা পূরণ: ছোট মাছ, যকৃত, সবুজ শাকসবজি ও ফল থেকে ভিটামিন এ, সি ও খনিজ পাওয়া যায়। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
৪. খাদ্যে বৈচিত্র্য: প্রতিদিন দুই-তিনটি ভিন্ন খাবার তালিকায় রাখায় কোনো একটি খাবার পছন্দ না হলেও অন্য খাবার থেকে পুষ্টি পাওয়া যায়।সুতরাং, মায়ের খাদ্য সচেতনতার ফলে রুহি বয়সোপযোগী সুষম পুষ্টি পাবে, যা তার সুস্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও