গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • বাংলাদেশ নৌবাহিনী কলেজ, চট্টগ্রাম • বাংলাদেশ নৌবাহিনী কলেজ, চট্টগ্রাম টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

রহিমা মাছ কাটার সময় হাত কেটে যাওয়ায় তার জামায় রক্তের দাগ লেগে যায়। সে সঠিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে দাগ তুলতে সক্ষম হয়। কিন্তু দুপুরে খাবার পরিবেশনের সময় রহিমার স্বামী সুমনের পাঞ্জাবিতে মাছের ঝোল পড়ে যায়। রহিমা তাড়াতাড়ি একই পদ্ধতিতে ঝোলের দাগ তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

  1. ক)

    উদ্ভিজ্জ দাগ কী?

    (1)
  2. খ)

    অ্যাপ্লিক কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে সুমনের পাঞ্জাবিতে দাগের উৎস কী? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে রহিমার দাগ তোলার পদ্ধতি সম্বন্ধে তোমার মতামত উপস্থাপন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ভিদ জগৎ থেকে প্রাপ্ত বা উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে সৃষ্ট দাগকে উদ্ভিজ্জ দাগ বলে; যেমন—চা, কফি, ফলমূল, ঘাস ইত্যাদির দাগ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অ্যাপ্লিক হলো কাপড়ের ওপর বিভিন্ন রঙের ও আকারের অন্য কাপড় নকশা অনুযায়ী কেটে সুঁই-সুতা দিয়ে সেলাই করে বসিয়ে অলঙ্করণ করার একটি ঐতিহ্যবাহী সূচিশিল্প পদ্ধতি।

    অ্যাপ্লিক করার সময় মূল কাপড়ের ওপর পছন্দসই নকশাকৃত কাপড় সুন্দরভাবে খাঁজ বা হেম সেলাই দিয়ে আটকে নান্দনিক রূপ দেওয়া হয়। এটি সাধারণত পোশাক, কুশন কভার, চাদর ইত্যাদি আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন করার কাজে ব্যবহৃত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সুমনের পাঞ্জাবিতে পড়া দাগের উৎস হলো প্রাণিজ ও স্নেহজাতীয় উপাদান এবং উদ্ভিজ্জ মসলা মিশ্রিত এক প্রকার মিশ্র দাগ।

    মাছের ঝোলে মাছের চর্বি ও প্রোটিনের পাশাপাশি রান্নায় ব্যবহৃত তেল/ঘি এবং হলুদ, মরিচ ইত্যাদি উদ্ভিজ্জ মসলা থাকে। কাপড়ে দাগের উৎস অনুযায়ী দাগ বিভিন্ন ধরনের হয়—যেমন প্রোটিনজাত বা প্রাণিজ দাগ, স্নেহজাতীয় দাগ ও উদ্ভিজ্জ দাগ। সুমনের পাঞ্জাবিতে পড়া মাছের ঝোল হলো প্রোটিন, তেল ও হলুদের এক জটিল মিশ্রণ। তেলযুক্ত এবং হলুদযুক্ত উপাদান কাপড়ের তন্তুর গভীরে প্রবেশ করে দ্রুত স্থায়ী দাগের সৃষ্টি করে। তাই এর উৎস মূলত তেল বা স্নেহ ও মিশ্র উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রহিমার দাগ তোলার পদ্ধতিটি দাগের প্রকৃতি বিবেচনা না করায় ব্যর্থ হয়েছে, যা বাস্তবসম্মত ও বিজ্ঞানসম্মত নয়।

    রহিমার জামায় লেগেছিল রক্তের দাগ, যা একটি প্রাণিজ বা প্রোটিনজাত দাগ। প্রোটিনজাত দাগ সাধারণত ঠান্ডা পানি ও মৃদু ক্ষারযুক্ত সাবান বা অ্যামোনিয়া দিয়ে ধুয়ে সহজে তোলা যায়। কিন্তু গরম পানি দিলে প্রোটিন জমাট বেঁধে কাপড়ে স্থায়ী হয়ে যায়। রহিমা সফলভাবে ঠান্ডা পানি বা উপযুক্ত উপায়ে রক্তের দাগ তুলেছিল।

    অন্যদিকে, সুমনের পাঞ্জাবিতে মাছের ঝোলের দাগ লেগেছিল, যা প্রধানত স্নেহজাত বা চর্বিযুক্ত এবং হলুদের মতো রঞ্জক পদার্থ মিশ্রিত দাগ। তেল বা স্নেহজাত দাগ ঠান্ডা পানিতে কখনোই দ্রবীভূত হয় না; বরং তা তোলার জন্য গরম পানি, সাবান বা ডিটারজেন্ট এবং দাগ শোষক পদার্থ (যেমন ট্যালকম পাউডার) কিংবা ব্লিচিং ও রোদে শুকানোর প্রয়োজন হয়। রহিমা রক্তের দাগ তোলার একই পদ্ধতি মাছের ঝোলের দাগে প্রয়োগ করায় তা ব্যর্থ হয়েছে। দাগ তোলার ক্ষেত্রে দাগের ধরন বুঝে নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও দ্রাবক ব্যবহার করা আবশ্যক। সুতরাং রহিমার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন