পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' নামক একটি রাষ্ট্র সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীনতা অর্জনের পর দেশটি দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি সংবিধান প্রণয়ন করতে সক্ষম হয়। সংবিধানটিতে লিখিত, দুষ্পরিবর্তনীয়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যসহ নাগরিকের কিছু সুযোগ-সুবিধার উল্লেখ রয়েছে।
- ক)(1)
দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
- খ)(2)
ফরায়েজি আন্দোলন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত সংবিধানের সাথে তোমার পঠিত কোন রাষ্ট্রের সংবিধানের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত রাষ্ট্রের সংবিধানটি সুশাসন প্রতিষ্ঠার উপযোগী বক্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রবক্তা হলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উনিশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলায় হাজী শরীয়তউল্লাহ কর্তৃক পরিচালিত একটি ইসলামি ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনকে ফরায়েজি আন্দোলন বলা হয়। 'ফরায়েজি' শব্দটি এসেছে আরবি 'ফরজ' শব্দ থেকে, যার অর্থ অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। তৎকালীন মুসলিম সমাজে প্রচলিত অনৈসলামিক কুসংস্কার ও বেদায়াত দূর করে কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনার উদ্দেশ্যে এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে হাজী শরীয়তউল্লাহর পুত্র দুদু মিয়ার নেতৃত্বে এটি ব্রিটিশ ও জমিদার-নীলকরদের শোষণের বিরুদ্ধে কৃষক মুক্তি আন্দোলনে রূপ নেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সংবিধানের সাথে বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধানের সাদৃশ্য রয়েছে।
বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে নয় মাস রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে অত্যন্ত দ্রুত সময়ে মাত্র দশ মাসের মধ্যে একটি পরিপূর্ণ সংবিধান রচিত ও গৃহীত হয় (৪ নভেম্বর ১৯৭২)।
উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রটির মতো বাংলাদেশের সংবিধানও একটি লিখিত এবং দুষ্পরিবর্তনীয় দলিল। এতে মোট ১৫৩টি অনুচ্ছেদ রয়েছে এবং এটি সহজে পরিবর্তনযোগ্য নয়; সংশোধনের জন্য জাতীয় সংসদের মোট সদস্যের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া সংবিধানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং নাগরিকদের জন্য মৌলিক অধিকারের সুস্পষ্ট সন্নিবেশ ঘটানো হয়েছে। উদ্দীপকের উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যগুলো (লিখিত, দুষ্পরিবর্তনীয়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা) হুবহু বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধানের মূল বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্ত রাষ্ট্রের সংবিধানটি অর্থাৎ বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধানটি সুশাসন প্রতিষ্ঠার উপযোগী—বক্তব্যটি যথার্থ।
সুশাসনের মূল উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা। বাংলাদেশের সংবিধান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এর প্রতিটি স্তরেই সুশাসনের এই উপাদানগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রথমত, সংবিধানে আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতা নিশ্চিত করা হয়েছে (অনুচ্ছেদ ২৭) এবং তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দিয়ে সেগুলোর সংরক্ষণের ক্ষমতা বিচার বিভাগকে দেওয়া হয়েছে (অনুচ্ছেদ ৪৪ ও ১০২)। দ্বিতীয়ত, নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ ও স্বাধীনতার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে (অনুচ্ছেদ ২২), যা সুবিচার ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষার রক্ষাকবচ। তৃতীয়ত, একটি লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান হওয়ায় কোনো সরকার চাইলেই নিজের স্বার্থে হঠাৎ করে ক্ষমতার অপব্যবহার বা স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না। সর্বোপরি, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা শাসন পরিচালনার নিশ্চয়তা দিয়ে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে।
অতএব, উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যগুলোর উপস্থিতির কারণে বাংলাদেশের সংবিধানটি নিশ্চিতভাবেই দেশে কার্যকর সুশাসন প্রতিষ্ঠার সম্পূর্ণ উপযোগী একটি রূপরেখা প্রদান করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও