হিন্দু ধর্ম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: শিশির ছোটবেলা থেকেই তার মায়ের সাথে বিভিন্ন ধর্মীয় বই পড়েছে। এভাবে সে সৃষ্টির রহস্য ও সৃষ্টির দেবতাকে নিয়ে বিশেষভাবে লেখা বই সম্পর্কে জেনেছে।দৃশ্যকল্প-২: নীতিহীন ও ছলনাকারী তিমির বাবু তার বড় ভাই মৃত সমীর বাবুর ছেলেকে ঠকিয়ে তার সম্পত্তি আত্মসাৎ করার চেষ্টা করলে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। তিমির বাবু মৃত সমীর বাবুর ধার্মিক ছেলের কাছে পরাজিত হয় এবং ধর্মের জয় হয়।
- ক)(1)
বৈদিক সাহিত্য কাকে বলে?
- খ)(2)
কোন শিক্ষা মানুষকে জীবনবিমুখ করে না? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ যে বই সম্পর্কে জেনেছে তার পরিচিতি পাঠ্যবইয়ের আলোকে সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এর শিক্ষা পাঠ্যবইয়ের আলোকে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বেদ, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ—এই চার প্রকার রচনার সমষ্টিকে বৈদিক সাহিত্য বলে। (মন্ত্র বা সংহিতা, ব্রাহ্মণ, আরণ্যক ও উপনিষদ)
- খ)
উপনিষদের শিক্ষা মানুষকে জীবনবিমুখ করে না। উপনিষদ পরিপূর্ণ জীবনের কথা বলে, যে জীবন জ্ঞান, কর্ম ও ভক্তি বা প্রেমের দ্বারা ব্রহ্মের সঙ্গে সর্বদা যুক্ত। উপনিষদের মতে জগতের সবকিছুই ব্রহ্মময় এবং সবই এক, তাই কাউকে হিংসা করা মানে নিজেকেই হিংসা করা। এ কারণে সবাইকে সাহায্য-সহযোগিতা করতে এবং নিজের মতো করে দেখতে শেখায়।
- গ)
দৃশ্যকল্প-১-এ শিশির যে বইয়ের কথা জেনেছে, তা উপনিষদ। কারণ সৃষ্টির রহস্য ও সৃষ্টিকর্তাকে নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা উপনিষদ গ্রন্থের বৈশিষ্ট্য।
উপনিষদের পরিচয়: বৈদিক সাহিত্য কর্মকাণ্ড ও জ্ঞানকাণ্ড—এই দুই ভাগে বিভক্ত। কর্মকাণ্ডে আছে মন্ত্র, যাগযজ্ঞ ও আচার-নিয়মের নির্দেশনা। আর জ্ঞানকাণ্ডে রয়েছে ঈশ্বর, ব্রহ্ম, সৃষ্টিকর্তা ও সৃষ্টিরহস্যের কথা। উপনিষদ এই জ্ঞানকাণ্ডেরই অংশ। এতে ব্রহ্মকে নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা করা হয়েছে। ব্রহ্মবিদ্যা গুহ্যতম বিদ্যা বলে উপনিষদের এক নাম রহস্য। বেদের শেষ লক্ষ্য বা সিদ্ধান্ত এতে আছে বলে একে বেদান্তও বলা হয়। অবিদ্যা বা অজ্ঞান নাশ করে এটি জ্ঞান ও মুক্তিকামী মানুষকে পরমব্রহ্মের কাছে নিয়ে যায়।
সংখ্যা: উপনিষদের সংখ্যা দুই শতাধিক, তার মধ্যে বারোটি প্রসিদ্ধ—ঐতরেয়, কৌষীতকি, বৃহদারণ্যক, ঈশ, তৈত্তিরীয়, কঠ, শ্বেতাশ্বতর, ছান্দোগ্য, কেন, প্রশ্ন, মুণ্ডক ও মাণ্ডুক্য।
উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: শিশির মায়ের সঙ্গে ধর্মীয় বই পড়ে সৃষ্টির রহস্য ও সৃষ্টির দেবতা সম্পর্কে বিশেষভাবে লেখা যে বইয়ের কথা জেনেছে, তা উপনিষদের পরিচয়ের সঙ্গে মিলে যায়।
সুতরাং শিশিরের জানা বইটি উপনিষদ।
- ঘ)
দৃশ্যকল্প-২-এ নীতিহীন ও ছলনাকারী তিমির বাবু ভাইপোকে ঠকিয়ে সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ধার্মিক ভাইপোর কাছে পরাজিত হন। এ ঘটনা থেকে শিক্ষা হলো ধর্মের জয় ও অধর্মের পরাজয়—যা পাঠ্যবইয়ের 'ধর্মের জয়' উপাখ্যানের মূল শিক্ষা।
পাঠ্যবইয়ের আলোকে ধারণা: মনুসংহিতায় বলা হয়েছে, ধর্ম নষ্ট হলে ধর্মই ধর্মনাশকারীকে বিনাশ করে, আর ধর্ম রক্ষিত হলে ধর্মই ধার্মিককে রক্ষা করে। ধার্মিক সাময়িকভাবে কষ্ট পেতে পারেন, কিন্তু পরিণামে ধর্মের জয় হয়।
১. ধার্মিকের স্বরূপ: যিনি ধৃতি, ক্ষমা, সত্য, অস্তেয় প্রভৃতি ধর্মের লক্ষণ অনুসরণ করেন, তিনিই ধার্মিক। উদ্দীপকে সমীর বাবুর ছেলে ধার্মিক; সে সত্য ও ন্যায়ের পথে থেকেছে বলেই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছে।
২. অধর্মের পরিণতি: অধার্মিক ব্যক্তি লোভ ও ক্রোধে তাড়িত হয়ে কুকর্মে লিপ্ত হন এবং দণ্ডিত হন। তিমির বাবু লোভের বশে ভাইপোর সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে গিয়ে পরাজিত হয়েছেন। চুরি না করা (অস্তেয়) ধর্মের একটি লক্ষণ, অথচ তিনি তা লঙ্ঘন করেছেন।
৩. উপাখ্যানের সঙ্গে মিল: পাঠ্যবইয়ে হিরণ্যকশিপু ভক্ত পুত্র প্রহ্লাদকে নানাভাবে হত্যার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন এবং শ্রীহরি নৃসিংহ অবতাররূপে তাঁকে বধ করেন। ধর্মই প্রহ্লাদকে রক্ষা করেছিল। তিমির বাবু ও ধার্মিক ভাইপোর ঘটনাও একইভাবে ধর্মের জয়ের দৃষ্টান্ত।
৪. সামাজিক শিক্ষা: অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ কেড়ে নিলে সাময়িক সুবিধা মিললেও পরিণামে অপমান ও পরাজয় আসে। তাই সমাজে ন্যায়, সততা ও ধর্মপথ অনুসরণ করা উচিত।
সুতরাং, দৃশ্যকল্প-২ থেকে বোঝা যায়, ধর্মের পথে থাকলে ধর্মই ধার্মিককে রক্ষা করে এবং অধর্মের পথে চললে পরাজয় অবশ্যম্ভাবী; আমাদের তাই সর্বদা ধর্মপথে চলা উচিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও