কৃষিশিক্ষা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪
কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন
জনাব আনিস মাছ চাষ করার উদ্দেশ্যে যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে মৎস্য চাষের একটি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁর বাবার ১ বিঘা জমিতে একটি পুকুর খনন করেন। অন্য একটি পৃতিত পুকুর সংস্কার করে মাছ চাষ শুরু করেন এবং মাছ চাষে বেশ লাভবান হন।
- ক)(1)
মৌসুমি পুকুর কাকে বলে?
- খ)(2)
পুকুরে রাক্ষুসে মাছ অপসারণ প্রয়োজন কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব আনিসের অন্য পুকুরটিকে কীভাবে মাছ চাষের উপযোগী করলেন বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
জনাব আনিসের পদক্ষেপটি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কী ধরনের ভূমিকা রাখবে বলে তোমার মনে হয়?
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যে পুকুরে বছরে চার থেকে ছয় মাস পানি থাকে এবং বাকি সময় শুকিয়ে যায়, তাকে মৌসুমি পুকুর বলে।
- খ)
রাক্ষুসে মাছ, যেমন শোল, গজার ও বোয়াল, চাষের ছোট মাছকে খেয়ে ফেলে। এতে মজুদকৃত পোনার সংখ্যা কমে যায় ও উৎপাদন কমে। এসব মাছ খাদ্য ও স্থানের জন্যও চাষের মাছের সাথে প্রতিযোগিতা করে। তাই পুকুরে রাক্ষুসে মাছ অপসারণ প্রয়োজন।
- গ)
জনাব আনিস পতিত পুকুরটিকে নিম্নোক্ত ধাপে মাছ চাষের উপযোগী করেছেন:
১. সংস্কার: পুকুরের পাড় মেরামত এবং পাড়ের গাছপালা ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা।
২. আগাছা ও কাদা অপসারণ: পুকুরের জলজ আগাছা পরিষ্কার এবং তলদেশের অতিরিক্ত কাদা তোলা।
৩. রাক্ষুসে ও অবাঞ্ছিত মাছ দূর করা: জাল টেনে বা পানি শুকিয়ে এসব মাছ অপসারণ করা।
৪. চুন ও সার প্রয়োগ: মাটি ও পানির অম্লতা কমাতে চুন এবং খাদ্য উৎপাদনের জন্য সার দেওয়া।
৫. পানি ও পোনা: পানি ভরে প্লাংকটন তৈরি হলে নির্দিষ্ট ঘনত্বে পোনা ছাড়া। - ঘ)
জনাব আনিসের পদক্ষেপ বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি। কারণ:
১. আমিষের চাহিদা পূরণ: মাছ বাংলাদেশে আমিষের প্রধান উৎস। মাছ চাষ বাড়লে পুষ্টির ঘাটতি কমবে।
২. কর্মসংস্থান ও আয়: মাছ চাষে প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বনির্ভর হওয়া যায় এবং অন্যদের জন্যও কাজের সুযোগ তৈরি হয়। আনিস লাভবান হয়েছেন।
৩. পতিত সম্পদের ব্যবহার: পতিত পুকুর সংস্কার করে উৎপাদনশীল করা গেছে।
৪. অর্থনৈতিক অবদান: মাছের উৎপাদন বাড়লে জাতীয় আয় ও রপ্তানির সম্ভাবনাও বাড়ে।সুতরাং, আনিসের মতো উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতি ও বেকারত্ব নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও