হিন্দু ধর্ম • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

কনক একজন মহান চিকিৎসক। তিনি মানব শরীরে কাটা-ছেঁড়া বিদ্যায় পারদর্শী। তিনি ঔষধি গাছগাছড়ার মাধ্যমে মানুষের চিকিৎসা দেন। ভেষজবিদ্যার চিকিৎসা সংক্রান্ত গ্রন্থ রচনা করে তিনি মানব জাতির বিশেষ কল্যাণ সাধন করেন। অন্যদিকে, মানিকের স্মরণশক্তি ছিল প্রখর। মানিকের মা, ছেলের ভবিষ্যৎ জানার জন্য এক সন্ন্যাসীকে দিয়ে হাতের রেখা পরীক্ষা করান। এতে করে জানতে পারেন, তার ছেলের আয়ু খুবই কম। তার ষোল অথবা বত্রিশ বছরে মৃত্যুর যোগ আছে। এ কথা শুনে মানিক বাকি জীবন ব্রহ্ম সাধনায় কাটাবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

  1. ক)

    অংশাবতার কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    কুবেরের নাম কীভাবে নিত্যানন্দ হলো? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    কনকের মধ্যে যে মহান চিকিৎসকের আদর্শ ফুটে উঠেছে তা পাঠের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের মানিকের মধ্যে যে মহাপুরুষের আদর্শ লুকায়িত আছে তার শিক্ষার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যে মহান অবতার ভগবানের অপূর্ণাঙ্গ রূপে আবির্ভূত হন এবং যাঁর মধ্যে ভগবানের সমস্ত শক্তি ও গুণ থাকে না, তাঁকে অংশাবতার বলে।

  2. খ)

    নিত্যানন্দের প্রকৃত নাম ছিল কুবের। তিনি শ্রীকৃষ্ণদর্শনের আশায় বৃন্দাবনে আসেন। একদিন স্বপ্নে কৃষ্ণ তাঁকে নবদ্বীপে গিয়ে নিমাই পণ্ডিতের সাথে যোগ দিতে বলেন। কুবের নবদ্বীপে নন্দন আচার্যের গৃহে নিমাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করলে দুজন দুজনকে চিনতে পারেন। জীবোদ্ধারের জন্য যেন দুই দেহে তাঁদের আবির্ভাব। সেদিন থেকেই কুবেরের নতুন নাম হয় নিত্যানন্দ, সংক্ষেপে নিতাই।

  3. গ)

    উদ্দীপকের কনকের মধ্যে প্রাচীন ভারতের মহান চিকিৎসক সুশ্রুত এর আদর্শ ফুটে উঠেছে।

    সুশ্রুতের পরিচয়: সুশ্রুত প্রাচীন ভারতের একজন মহান চিকিৎসক ছিলেন। তাঁর পিতার নাম বিশ্বামিত্র মুনি। দেববৈদ্য ধন্বন্তরী কাশীরাজের পুত্র দিবোদাস রূপে জন্ম নিলে সুশ্রুত তাঁর কাছে আয়ুর্বেদ শিক্ষা লাভ করেন। তিনি বারাণসীতে গঙ্গার তীরে বাস করে চিকিৎসাবিদ্যা চর্চা করতেন। প্রধানত শল্যবিদ্যার চর্চা করার কারণে তাঁকে ‘ভারতীয় শল্যবিদ্যার জনক’ বলা হয়। তিনি ‘সুশ্রুতসংহিতা’ নামে একখানা চিকিৎসাগ্রন্থ রচনা করেন। এতে শল্যবিদ্যার ৩০০ প্রকার পদ্ধতি ও ১২০টি চিকিৎসাযন্ত্রের বর্ণনা আছে।

    উদ্দীপকের সাথে সম্পর্ক: কনক মানব শরীরে কাটা-ছেঁড়া বিদ্যা বা শল্যচিকিৎসায় পারদর্শী, যা সুশ্রুতের শল্যবিদ্যা চর্চার সাথে মিলে যায়। কনক ঔষধি গাছগাছড়ার মাধ্যমে মানুষের চিকিৎসা দেন, যা আয়ুর্বেদ চিকিৎসার বৈশিষ্ট্য। তিনি ভেষজবিদ্যার চিকিৎসা-সংক্রান্ত গ্রন্থ রচনা করে মানবজাতির কল্যাণ সাধন করেছেন। সুশ্রুতও সুশ্রুতসংহিতা রচনা করে মানবজাতির বিশেষ মঙ্গল সাধন করেছেন।

    সুতরাং, কনকের মধ্যে মহান চিকিৎসক সুশ্রুতের আদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের মানিকের মধ্যে মহাপুরুষ শ্রীশঙ্করাচার্য এর আদর্শ লুকায়িত আছে। তাঁর শিক্ষা আমাদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    শঙ্করাচার্যের পরিচয়: ৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে কেরলের কালাড়ি গ্রামে শঙ্করাচার্যের জন্ম। তাঁর অসাধারণ মেধা ও স্মৃতিশক্তি ছিল। কোষ্ঠী দেখে পণ্ডিতেরা জানান, ষোল বা বত্রিশ বছরে তাঁর মৃত্যুর যোগ আছে। এ কথা শুনে তিনি মোক্ষলাভকেই জীবনের চরম লক্ষ্য ভেবে ব্রহ্মসাধনায় বাকি জীবন কাটাতে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। উদ্দীপকে মানিকও ঠিক একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    ১. অদ্বৈতবাদের শিক্ষা: শঙ্করাচার্য প্রচার করেন, ‘ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা। জীব ও ব্রহ্মে কোনো পার্থক্য নেই।’ এ শিক্ষা মানুষকে সবার মধ্যে ঈশ্বরকে দেখতে শেখায়।
    ২. জীবপ্রেম ও অহিংসা: জীব ও ব্রহ্ম অভিন্ন বলে তিনি মানুষ ও জীবের প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তোলেন। এর ফলে জীবহিংসা কমে যায়, যা সমাজে শান্তি আনে।
    ৩. ধর্মের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও ঐক্য: তিনি কুসংস্কার ও যাগযজ্ঞের প্রাধান্যের যুগে হিন্দুধর্মের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনেন। ভারতের চার প্রান্তে চারটি মঠ প্রতিষ্ঠা করে সন্ন্যাসীদের ঐক্যবদ্ধ করেন।
    ৪. জীবনের অনিত্যতার শিক্ষা: তাঁর ‘মোহমুদ্গর’ কাব্যে বলা হয়েছে, জীবন পদ্মপত্রে জলবিন্দুর মতো চঞ্চল। এ শিক্ষা আমাদের লোভ-মোহ ত্যাগ করে সৎকর্মে মন দিতে প্রেরণা দেয়।
    ৫. মাতৃভক্তি: তিনি মাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, মায়ের অন্তিম সময়ে পাশে থাকবেন এবং তা রক্ষা করেছেন।

    সুতরাং, শঙ্করাচার্যের শিক্ষা ধর্মীয়, নৈতিক ও সামাজিক জীবনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন