কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

“ভালো বীজে ভালো ফসল”—এই উক্তিটি চিন্তা করে সোহান পেঁয়াজ, সরিষা ও আলু বীজ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। প্রথম বার সে বিশুদ্ধ বীজ উৎপাদনে ব্যর্থ হয়। কারণ এ বিষয়ে তার ভালো ধারণা ছিল না। পরে তিনি কৃষি অফিসারের নিকট পরামর্শ গ্রহণ করেন। কৃষি অফিসার তাকে রোগিং ও আন্তঃপরিচর্যাসহ বীজ উৎপাদনের বিভিন্ন বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেন। পরবর্তীতে পরামর্শ অনুযায়ী বীজ উৎপাদন করে সোহান স্বাবলম্বী হন।

  1. ক)

    বায়োফার্টিলাইজার কী?

    (1)
  2. খ)

    কৃত্রিম প্রজননের সুবিধাগুলো কী কী?

    (2)
  3. গ)

    বীজ উৎপাদনে কী ধরনের পদক্ষেপ নিলে সোহান প্রথম বার সফল হতো? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত যে উক্তিটি চিন্তা করে সোহান বীজ উৎপাদনে আগ্রহী হয়, সেটি বাস্তবতার সাথে কতটুকু যৌক্তিক? মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব অণুজীবঘটিত সার প্রাকৃতিকভাবে বা কৃত্রিমভাবে মাটিতে প্রয়োগ করে ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধন অথবা ফসফরাস ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের সহজলভ্যতা বৃদ্ধি করা হয়, তাকে বায়োফার্টিলাইজার বা জৈব-অণুজীব সার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃত্রিম প্রজনন হলো এমন একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি যেখানে উন্নত জাতের পুরুষ পশুর শুক্রাণু কৃত্রিম উপায়ে সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করে উপযুক্ত সময়ে স্ত্রী পশুর জননতন্ত্রে স্থাপন করা হয়। এর প্রধান সুবিধাগুলো হলো:
    ১. একটি উন্নত জাতের ষাঁড়ের শুক্রাণু দিয়ে বহুসংখ্যক গাভীকে প্রজনন করানো যায়, ফলে ষাঁড়ের অপচয় রোধ হয়।
    ২. যৌনবাহিত ও সংক্রামক রোগ বিস্তার রোধ করা যায়।
    ৩. বিদেশে বা দূর-দূরান্ত থেকে উন্নত জাতের জীবন্ত পশুর পরিবর্তে সহজে শুক্রাণু আমদানি ও পরিবহন করা সম্ভব হয়।
    ৪. দুর্বল বা শারীরিক প্রতিবন্ধী স্ত্রী প্রাণীকেও সফলভাবে গর্ভবতী করা যায় এবং জাত দ্রুত উন্নত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বীজ উৎপাদনে সঠিক প্রযুক্তিগত ও ব্যবহারিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে সোহান প্রথম বারই সফল হতে পারত।
    উদ্দীপকে দেখা যায়, সোহান বীজ উৎপাদনের নিয়মাবলি সম্পর্কে না জানার কারণে প্রথমবার বিশুদ্ধ বীজ উৎপাদনে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে কৃষি অফিসারের পরামর্শে সে রোগিং ও আন্তঃপরিচর্যা সম্পন্ন করে সফল হয়।

    প্রথমবার সফল হতে সোহানের নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো নেওয়া আবশ্যক ছিল:
    ১. বিশুদ্ধ ও প্রত্যয়িত মৌল/ভিত্তি বীজ সংগ্রহ: বীজ উৎপাদনের প্রথম শর্ত হলো প্রত্যয়িত ও বিশ্বস্ত উৎস থেকে রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার করা।
    ২. পৃথকীকরণ দূরত্ব বজায় রাখা: সমজাতীয় অন্য কোনো জাতের পরাগরেণু যেন বাতাসের মাধ্যমে এসে ক্রস-পলিনেট না করে, সেজন্য নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি ছিল।
    ৩. রোগিং বা অপরিকল্পিত চারা বাছাইকরণ: ফুল আসার পূর্বে, ফুল আসার সময় এবং ফসল কাটার আগে—এই তিন ধাপে অনাকাঙ্ক্ষিত জাতের গাছ, রোগাক্রান্ত গাছ ও আগাছা শিকড়সহ উপড়ে ফেলা (রোগিং) দরকার ছিল।
    ৪. সঠিক আন্তঃপরিচর্যা: সঠিক সময়ে আগাছা দমন, প্রয়োজনীয় সেচ, সুষম সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের উপযুক্ত দমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
    ৫. পরিপক্বতার সঠিক সময়ে ফসল কর্তন ও শুকানো: সঠিক আর্দ্রতায় বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা।
    এসব পদক্ষেপ নিলে সে প্রথমবারেই সফল হতো।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “ভালো বীজে ভালো ফসল”—উক্তিটি কৃষি বিজ্ঞানের সার্বজনীন সত্য এবং উদ্দীপক ও বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত যৌক্তিক ও যথার্থ।

    বীজ হলো ফসলের বংশগতির ধারক ও বাহক। উন্নত মানের বীজের মধ্যে রয়েছে উচ্চ অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা, সতেজতা, বিশুদ্ধতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। একটি ভালো মানের সুস্থ-সবল বীজ থেকে গজানো চারা প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করে দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং সর্বোচ্চ ফলন নিশ্চিত করে। অপরদিকে নিম্নমানের, মিশ্রিত বা রোগাক্রান্ত বীজ ব্যবহার করলে সার, সেচ, জমি চাষ ও শ্রমের সকল খরচ অপচয় হয় এবং ফলন মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়।

    উদ্দীপকে সোহান ভালো ফসলের আশায় পেঁয়াজ, সরিষা ও আলুর বীজ উৎপাদন করতে চেয়েছিল। কিন্তু কারিগরি জ্ঞান না থাকায় সে ব্যর্থ হয়। পরবর্তী সময়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে রোগিং, রোগবালাই দমন ও যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করে উন্নত ও বিশুদ্ধ বীজ উৎপাদনের মাধ্যমে সে স্বাবলম্বী হয়। এটি প্রমাণ করে যে, বিশুদ্ধ ও মানসম্মত বীজই ফসলের উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক সাফল্য নিশ্চিত করে।

    সুতরাং বলা যায়, কৃষি উৎপাদনের প্রথম ও প্রধান মৌলিক উপাদান হলো বীজ। মানসম্মত বীজ নিশ্চিত করতে না পারলে কোনোভাবেই ভালো ফসল বা ফলন আশা করা যায় না। অতএব, উক্তিটি শতভাগ বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন