অর্থনীতি ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. আওলাদ হোসেন পৈতৃকসূত্রে ৩ বিঘা জমি পেলেন। তার জমির অবস্থানের পার্থক্যের কারণে উর্বরতাও ভিন্ন হয়। এতে তার জমির প্রাপ্ত আয়ও ভিন্ন হয়। তার বন্ধু জাহেদুল ইসলাম রবি শস্যের সময় ট্রাক্টর ও পানির সেচ মেশিন ভাড়া দিয়েও কম সময়ের মধ্যে প্রচুর আয় করে থাকেন ।
- ক)(1)
নিট খাজনা কী?
- খ)(2)
খাজনা দামের অন্তর্ভুক্ত কি? ব্যাখ্যা করো।'
- গ)(3)
জাহেদুল ইসলামের খাজনার প্রকৃতি চিত্রের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে মি. আওলাদ হোসেন ও জাহেদুল ইসলামের খাজনার পার্থক্য লেখো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কেবলমাত্র প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে জমির ব্যবহারের জন্য জমির মালিককে যে অর্থ প্রদান করা হয়, তাকে নিট খাজনা বা অর্থনৈতিক খাজনা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ডেভিড রিকার্ডোর মতে, খাজনা দামের অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, "ফসলের দাম বেশি বলেই খাজনা প্রদান করা হয়, খাজনা প্রদান করতে হয় বলে ফসলের দাম বেশি হয় না।" অর্থাৎ ভূমির দুষ্প্রাপ্যতার কারণে উৎপাদিত দ্রব্যের মূল্য বাড়ে এবং সেই বর্ধিত মূল্য থেকেই খাজনার উদ্ভব ঘটে। তাই রিকার্ডোর তত্ত্বে খাজনা দামের অন্তর্ভুক্ত হয় না, বরং দাম দ্বারা নির্ধারিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাহেদুল ইসলামের প্রাপ্ত খাজনার প্রকৃতি হলো 'নিম-খাজনা' বা 'উপ-খাজনা' (Quasi-rent)। মানুষ-সৃষ্ট মূলধনী সামগ্রীর (যেমন- ট্রাক্টর, সেচ মেশিন) যোগান স্বল্পকালে সীমাবদ্ধ বা অস্থিতিস্থাপক হওয়ার কারণে সাময়িকভাবে তা থেকে যে অতিরিক্ত উদ্বৃত্ত আয় অর্জিত হয়, তাকে আলফ্রেড মার্শাল নিম-খাজনা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
চিত্রে এর প্রকৃতি ব্যাখ্যা করা হলো:
অঙ্কিত চিত্রে ভূমি অক্ষে মূলধনী সামগ্রীর (ট্রাক্টর/সেচ পাম্পের) পরিমাণ এবং লম্ব অক্ষে সেগুলোর ভাড়া ও আয় দেখানো হয়। স্বল্পকালে মূলধনী দ্রব্যের যোগান রেখা () উল্লম্ব বা পূর্ণ অস্থিতিস্থাপক। রবি শস্যের মৌসুমে সেচ পাম্প ও ট্রাক্টরের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে চাহিদা রেখা ডানদিকে স্থানান্তরিত হলে এর ভাড়া বা বাজার দর উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। ফলে ফার্মের মোট পরিবর্তনীয় ব্যয় () বাদে মোট আয় () থেকে যে অতিরিক্ত উদ্বৃত্ত () সৃষ্টি হয়, তা-ই হলো জাহেদুল ইসলামের নিম-খাজনা। দীর্ঘকালে এই যন্ত্রপাতির যোগান বৃদ্ধি পেলে এই অতিরিক্ত আয় আর থাকে না। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে মি. আওলাদ হোসেন ও জাহেদুল ইসলামের অর্জিত আয়ের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হলো 'অর্থনৈতিক খাজনা' ও 'নিম-খাজনা'র পার্থক্য।
নিচে এদের পার্থক্যসমূহ আলোচনা করা হলো:
১. প্রকৃতিগত পার্থক্য: আওলাদ হোসেনের জমির আয় হলো প্রকৃত বা বিশুদ্ধ অর্থনৈতিক খাজনা, যা সম্পূর্ণভাবে প্রকৃতির দান জমির উর্বরতা ও অবস্থানের পার্থক্যের কারণে সৃষ্টি হয়। পক্ষান্তরে, জাহেদুল ইসলামের আয় হলো মানুষের তৈরি উপাদান (ট্রাক্টর ও সেচ মেশিন) ব্যবহারের জন্য প্রাপ্ত নিম-খাজনা।
২. উপাদানের স্থায়িত্ব: জমি একটি অবিনশ্বর প্রাকৃতিক সম্পদ, যার যোগান সর্বদা অস্থিতিস্থাপক। কিন্তু ট্রাক্টর ও সেচ পাম্প মনুষ্যনির্মিত মূলধন সামগ্রী, যার যোগান কেবল স্বল্পকালেই অস্থিতিস্থাপক থাকে।
৩. সময়কাল: আওলাদ হোসেনের অর্থনৈতিক খাজনা স্বল্পকাল এবং দীর্ঘকাল উভয় সময়েই অস্তিত্বশীল থাকে। কিন্তু জাহেদুল ইসলামের নিম-খাজনা কেবল স্বল্পকালের জন্য সৃষ্টি হয়; দীর্ঘকালে যোগান বৃদ্ধি পেলে নিম-খাজনা বিলুপ্ত হয়।
৪. মূল তত্ত্ব: রিকার্ডোর খাজনা তত্ত্ব আওলাদ হোসেনের জমির আয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আর আলফ্রেড মার্শালের নিম-খাজনা তত্ত্ব জাহেদুল ইসলামের অর্জিত আয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।সুতরাং, আওলাদ হোসেনের আয় প্রকৃত খাজনা হলেও জাহেদুল ইসলামের আয় স্বল্পকালীন মানুষ-সৃষ্ট উপাদানের নিম-খাজনা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও