পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
রায়হান সাহেব 'সুন্দরপুর' গ্রামের একজন বলিষ্ঠ, ত্যাগী, প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা। তিনি এলাকার শোষিত, নিপীড়িত ও অসহায় বঞ্চিত মানুষের পাশে সবসময় দাঁড়িয়ে তাদের দুঃখ-কষ্ট নিবারণের আশায় স্বার্থ-সম্বলিত একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব পেশ করেন। প্রথমে গ্রহণ না করলেও পরবর্তীতে তা গৃহীত ও কার্যকরের মাধ্যমে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। এর প্রেক্ষিতে পূর্ব ও পশ্চিমের দুটি অঞ্চল নিয়ে একটি রাষ্ট্র গঠিত হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সমস্যার জন্য প্রথম বৈষম্যমূলক আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
- ক)(1)
মুজিবনগর সরকার কী?
- খ)(2)
গেরিলা যুদ্ধ কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
রায়হান সাহেবের দাবিটি ঐতিহাসিক যে প্রস্তাবকে মনে করিয়ে দেয় তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের প্রথম বৈষম্যমূলক আচরণটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত এবং ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের আম্রকাননে শপথ গ্রহণকারী বাংলাদেশের প্রথম সরকারকে মুজিবনগর সরকার বলা হয়।
- খ)
গেরিলা যুদ্ধ হলো ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে শত্রুর ওপর হঠাৎ আক্রমণ চালিয়ে দ্রুত সরে পড়ার কৌশল।
এ যুদ্ধে যোদ্ধারা স্থানীয় জনগণের সহায়তায় লুকিয়ে থেকে শত্রুর রসদ, সেতু, যোগাযোগ ও ঘাঁটিতে আঘাত করে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা কৌশল ব্যবহার করে সফলতা পেয়েছিলেন।
- গ)
রায়হান সাহেবের দাবিটি ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবকে মনে করিয়ে দেয়।
উদ্দীপকে তিনি শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের দুঃখ-কষ্ট নিবারণে একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব পেশ করেন এবং তা পরে গৃহীত হয়। লাহোর প্রস্তাবও ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের অধিবেশনে এ কে ফজলুল হক উত্থাপন করেন। এতে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম-প্রধান এলাকাগুলোর জন্য স্বায়ত্তশাসন ও স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের দাবি করা হয়। এ প্রস্তাবের ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালে পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চল নিয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হয়, যা উদ্দীপকের বর্ণনার সাথে মেলে।
- ঘ)
উদ্দীপকে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের পর পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে প্রথম বৈষম্যমূলক আচরণের কথা বলা হয়েছে। বাস্তবে তা ছিল ভাষাগত বৈষম্য।
১. বাংলাকে অবহেলা: পাকিস্তানের জনসংখ্যার অধিকাংশ বাংলাভাষী হওয়া সত্ত্বেও ১৯৪৮ সালে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করা হয়।
২. সংস্কৃতির ওপর আঘাত: এটি বাঙালির মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির ওপর সরাসরি আঘাত ছিল এবং শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে বাঙালিদের পিছিয়ে দেওয়ার উপায় হয়ে ওঠে।
৩. প্রতিবাদ ও আন্দোলন: এ বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালিরা প্রতিবাদ জানায়, যা ভাষা আন্দোলনে রূপ নেয়। ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি অনেকে শহীদ হন।
৪. পরবর্তী বৈষম্যের সূচনা: ভাষা-বৈষম্যই পরবর্তী অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈষম্যের সূচনা এবং স্বাধিকার আন্দোলনের প্রথম ধাপ।সুতরাং, প্রথম বৈষম্যমূলক আচরণ ছিল ভাষার ক্ষেত্রে, যা পূর্ব বাংলার মানুষকে জাগিয়ে তোলে এবং পরবর্তী আন্দোলনের পথ প্রস্তুত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও