জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

ষাটোর্ধ্ব বয়সী 'S'-এর পছন্দনীয় খাবার চর্বিযুক্ত মাংস। প্যাথোলজিক্যাল পর্যবেক্ষণ শেষে ডাক্তার তাকে শারীরিক সমস্যার কারণে চর্বিযুক্ত মাংস পরিহার করার পাশাপাশি শর্করা জাতীয় খাদ্য পরিমিত গ্রহণ করার পরামর্শ দিলেন। তিনি আরও বললেন- " খাদ্য পরিপাকে শুধুমাত্র এনজাইম নয় বরং হরেমোনও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।"

  1. ক)

    ওমাটিডিয়াম কী?

    (1)
  2. খ)

    যকৃতকে জৈব রসায়নাগার বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ডাক্তার যে খাদ্য পরিমিত গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছিল সে খাদ্যের মানুষের ক্ষুদ্রান্তে পরিপাক বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে ডাক্তারের শেষোক্ত উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ঘাসফড়িং বা আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের পুঞ্জাক্ষির গঠন ও কাজের একককে ওমাটিডিয়াম বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যকৃতে একই সাথে বিভিন্ন ধরনের জৈব-রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। এটি খাদ্য পরিপাকজনিত বিপাকীয় ক্রিয়া, যেমন—গ্লাইকোজেনেসিস, গ্লাইকোজেনোলাইসিস, গ্লুকোনিওজেনেসিস, ডিঅ্যামিনেশন, প্লাজমা প্রোটিন সংশ্লেষণ, লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস ও উৎপাদন, পিত্তরস নিঃসরণ এবং ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ নিষ্ক্রিয়করণের মতো অসংখ্য বিপাকীয় কার্যাবলি পরিচালনা করে। এজন্য যকৃতকে মানবদেহের 'জৈব রসায়নাগার' (Organic Laboratory) বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ডাক্তার যে খাদ্যটি পরিমিত গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছিলেন তা হলো শর্করা জাতীয় খাদ্য। নিচে মানুষের ক্ষুদ্রান্তে শর্করার পরিপাক প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো:

    ১. অগ্ন্যাশয়রস দ্বারা পরিপাক:
    ক্ষুদ্রান্ত্রের ডিওডেনামে অম্লীয় কাইম প্রবেশ করলে অগ্ন্যাশয় থেকে ক্ষারীয় অগ্ন্যাশয়রস নিঃসৃত হয়। এতে থাকা 'অ্যামাইলেজ' এনজাইম অপাচ্য সিদ্ধ শ্বেতসার ও গ্লাইকোজেনকে আর্দ্রবিশ্লেষিত করে মল্টোজ, মল্টোট্রায়োজ ও ক্ষুদ্র ডেক্সট্রিনে পরিণত করে।

    ২. অন্ত্ররস দ্বারা পরিপাক:
    ক্ষুদ্রান্ত্রের ইলিয়াম ও জেজুনামের প্রাচীরস্থিত আন্ত্রিক গ্রন্থি থেকে অন্ত্ররস নিঃসৃত হয়, যাতে বিভিন্ন কার্বোহাইড্রেট পরিপাককারী এনজাইম থাকে:

    • মল্টেজ: মল্টোজকে ভেঙে দুই অণু গ্লুকোজে পরিণত করে।
    • সুক্রেজ: সুক্রোজকে আর্দ্রবিশ্লেষিত করে এক অণু গ্লুকোজ ও এক অণু ফ্রুক্টোজে পরিণত করে।
    • ল্যাক্টেজ: দুগ্ধ শর্করা ল্যাক্টোজকে ভেঙে গ্লুকোজ ও গ্যালাক্টোজে পরিণত করে।
    • আইসোমল্টেজ: আইসোমল্টোজকে ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত করে।

    এভাবে ক্ষুদ্রান্তে শর্করা জাতীয় খাদ্যের চূড়ান্ত পরিপাকের মাধ্যমে তা শোষণযোগ্য সরল উপাদান গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ডাক্তারের বক্তব্যটি ছিল—"খাদ্য পরিপাকে শুধুমাত্র এনজাইম নয় বরং হরমোনও বিশেষ ভূমিকা পালন করে।" উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ।

    খাদ্য পরিপাক প্রক্রিয়ায় এনজাইম সরাসরি রাসায়নিক ভাঙন ঘটায়, তবে পৌষ্টিকনালির বিভিন্ন অংশের ক্ষরণ ও চলন নিয়ন্ত্রণ করে হরমোন। হরমোনের ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
    ১. গ্যাস্ট্রিন: পাকস্থলীতে খাদ্য প্রবেশের সাথে সাথে এর পাইলোরিক অংশের মিউকোসা থেকে গ্যাস্ট্রিন ক্ষরিত হয়, যা পাকস্থলীর প্যারাইটাল কোষকে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) এবং পেপসিনোজেন ক্ষরণে উদ্দীপ্ত করে।
    ২. এন্টারোগ্যাস্ট্রন: পাকস্থলী থেকে খাদ্য ক্ষুদ্রান্তে প্রবেশ করলে এ হরমোন পাকস্থলীর চলন ও গ্যাস্ট্রিক জুস নিঃসরণ হ্রাস করে।
    ৩. সিক্রেটিন: ডিওডেনামের মিউকোসা থেকে নিঃসৃত হয়ে অগ্ন্যাশয়কে ক্ষারীয় অগ্ন্যাশয়রস এবং যকৃতকে পিত্ত নিঃসরণে উদ্দীপিত করে।
    ৪. কোলেসিস্টোকাইনিন (CCK): পিত্তথলিকে সংকুচিত করে পিত্তরস ডিওডেনামে পাঠায় এবং অগ্ন্যাশয় থেকে পরিপাককারী এনজাইম ক্ষরণ বৃদ্ধি করে।
    ৫. এন্টারোক্রাইনিন: ক্ষুদ্রান্ত্রের আন্ত্রিক গ্রন্থি (ল এবারকুনের গ্রন্থি) থেকে আন্ত্রিক রস ক্ষরণকে উদ্দীপ্ত করে।

    অতএব, হরমোন ছাড়া এনজাইমের যথাযথ সময়ে সঠিক মাত্রায় নিঃসরণ ও কার্যকারিতা সম্ভব নয়। তাই বলা যায়, খাদ্য পরিপাকে এনজাইমের পাশাপাশি হরমোনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন