জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

প্রাণিজগতে এমন একটি প্রাণী রয়েছে যার দেহে আক্রমণাত্মক কোষ বিদ্যমান। আবার এ প্রাণীটি পদতলকে মুক্ত করে দ্রুত গতিতে এবং মুক্ত না করে লম্বা দূরত্ব অতিক্রম করে।

  1. ক)

    হাইপোস্টোম কী?

    (1)
  2. খ)

    মিথোজীবিতা বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত আক্রমণাত্মক কোষটির গঠন ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে চলন সংক্রান্ত ঘটনাসমূহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হাইড্রার দেহের মুক্ত ও দূরবর্তী প্রান্তে অবস্থিত একটি ছোট, সংকোচনশীল এবং মোচাকৃতি অংশ, যার শীর্ষে মুখছিদ্র অবস্থিত, তাকে হাইপোস্টোম (Hypostome) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যখন দুটি ভিন্ন প্রজাতিভুক্ত জীব ঘনিষ্ঠভাবে সহাবস্থান করে একে অপরের দ্বারা পুষ্টি, সুরক্ষা বা অন্য কোনোভাবে পারস্পরিকভাবে উপকৃত হয় এবং কেউ কারো ক্ষতি করে না, তখন তাদের এই ঘনিষ্ঠ জৈবিক সম্পর্ককে মিথোজীবিতা (Mutualism) বলে। যেমন— সবুজ হাইড্রা (Hydra viridissima) এবং ক্লোরেলা (Zoochlorella) শৈবালের মধ্যকার সহাবস্থান। শৈবাল হাইড্রার ভেতরে আশ্রয় ও সালোকসংশ্লেষণের জন্য কার্বন ডাই-অক্সাইড পায়, অন্যদিকে হাইড্রা শৈবালের প্রস্তুতকৃত খাদ্য ও অক্সিজেন গ্রহণ করে উপকৃত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত আক্রমণাত্মক কোষটি হলো হাইড্রার এপিডার্মিসে অবস্থিত 'নিডোসাইট' (Cnidocyte) কোষ। একটি আদর্শ নিডোসাইট কোষের গঠন নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. আবরণ (Covering): কোষটি দ্বিস্তরী পাতলা আবরণ দ্বারা বেষ্টিত। এর বহিরাবরণ ও ভেতরাবরণের মধ্যবর্তী সাইটোপ্লাজম দানাদার এবং একটি সুস্পষ্ট নিউক্লিয়াস কোষের গোড়ার দিকে অবস্থান করে।

    ২. নেমাটোসিস্ট (Nematocyst): নিডোসাইটের অভ্যন্তরে কাইটিন জাতীয় পদার্থে গঠিত একটি ক্যাপসুল বা থলি থাকে, যা বিষাক্ত তরল 'হিপনোটক্সিন' (প্রোটিন ও ফেনলের মিশ্রণ) দ্বারা পূর্ণ থাকে। এর ভেতর একটি ফাঁপা, প্যাঁচানো সূত্রক গুটানো অবস্থায় অবস্থান করে। সূত্রকের গোড়ায় চওড়া অংশকে বাট (Butt) বলে, যাতে সাধারণত তিনটি বড় কাঁটা বা বার্ব (Barb) এবং স্পাইরালে সজ্জিত ক্ষুদ্র কাঁটা বা বার্বিউল (Barbule) থাকে।

    ৩. অপারকুলাম (Operculum): ক্যাপসুলের শীর্ষভাগ একটি ছোট ঢাকনা দিয়ে ঢাকা থাকে, যাকে অপারকুলাম বলে। সূত্রক নিক্ষেপের সময় এটি খুলে যায়।

    ৪. নিডোসিল (Cnidocil): কোষের মুক্ত প্রান্তে সংবেদনশীল ও অনমনীয় একটি চুলের মতো প্রবর্ধক থাকে, যা স্পর্শ বা রাসায়নিক উদ্দীপনা গ্রহণ করে নেমাটোসিস্ট নিক্ষেপ প্রক্রিয়া সক্রিয় করে।

    ৫. পেশিসূত্র ও ল্যাসো (Muscle fibers and Lasso): ক্যাপসুলের তলদেশের সাথে যুক্ত কিছু সংকোচনশীল পেশিসূত্র এবং সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত পেঁচানো স্থিতিস্থাপক সুতা বা ল্যাসো থাকে, যা নেমাটোসিস্ট নিক্ষেপের পর একে কোষের সাথে ধরে রাখতে সাহায্য করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত প্রাণীটি হলো হাইড্রা। উদ্দীপকের বর্ণনামতে পদতলকে মুক্ত করে দ্রুত গতিতে চলন হলো 'ডিগবাজি বা সমারসল্টিং' (Somersaulting) এবং পদতলকে মুক্ত না করে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রমের চলন হলো 'লুপিং বা হামাগুড়ি' (Looping)। এদের বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:

    ১. ডিগবাজি বা সমারসল্টিং (Somersaulting):

    • এটি হাইড্রার সাধারণ এবং সবচেয়ে দ্রুতগামী চলন পদ্ধতি।
    • চলনের শুরুতে হাইড্রা দেহটিকে বাঁকিয়ে চলনতলে কর্ষিকা স্থাপন করে।
    • এরপর পাদচাকতি বা পদতল চলনতল থেকে পুরোপুরি মুক্ত হয়ে কর্ষিকাকে ভর করে দেহটি ১৮০° কোণে উল্টে যায় এবং নতুন স্থানে পাদচাকতি স্থাপন করে।
    • পরে কর্ষিকা মুক্ত করে দেহকে পুনরায় সোজা করে দাঁড়ায়।
    • এ প্রক্রিয়ায় পর্যায়ক্রমে একবার পাদচাকতি এবং একবার কর্ষিকার উপর ভর দিয়ে ডিগবাজির মতো এগিয়ে চলে, ফলে প্রতিটি পদক্ষেপে দ্রুত দুটি লুপ সৃষ্টি হয়।

    ২. হামাগুড়ি বা লুপিং (Looping):

    • এটি লম্বা বা দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রমের জন্য ব্যবহৃত একটি মন্থর চলন পদ্ধতি।
    • চলনের শুরুতে হাইড্রা দেহটিকে প্রসারিত করে চলনের দিকে বাঁকিয়ে মুখের কর্ষিকা দ্বারা চলনতল স্পর্শ করে।
    • এরপর পাদচাকতিকে কর্ষিকার খুব কাছাকাছি এনে স্থাপন করে, ফলে দেহটি একটি ফাঁসের (Loop) মতো আকার ধারণ করে।
    • পরবর্তীতে কর্ষিকা চলনতল থেকে মুক্ত করে দেহকে পুনরায় সোজা ও প্রসারিত করে এগিয়ে নিয়ে যায়।
    • এতে পদতল কখনোই কর্ষিকাকে সম্পূর্ণ অতিক্রম বা ডিগবাজি দেয় না, বরং পদতলকে টেনে টেনে এগিয়ে নেওয়া হয়।

    সুতরাং, উদ্দীপকে নির্দেশিত চলন দুটি হলো সমারসল্টিং (দ্রুতগতিতে পদতল মুক্ত করে চলন) এবং লুপিং (পদতল টেনে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রমের চলন)।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন