বাংলা ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

নিচের যেকোনো ১ টি প্রশ্নের উত্তর দাওঃ

8.1.

মনে করো তুমি সাকিব। তোমার বন্ধু লিমন। 'নিরাপদ সড়ক চাই' বিষয়ে দুজনের মধ্যে একটি সংলাপ রচনা করো।

8.2.

নিচের উদ্দীপক অনুসরণে একটি খুদে গল্প রচনা করো: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার ইচ্ছা স্বপ্নিল ও মুনার অনেক দিনের। তারা শ্রীপুর গ্রামে এক মুক্তিযোদ্ধার কাছে গেল মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনতে।..........

উত্তর ও ব্যাখ্যা

AI-তৈরি নমুনা উত্তর

৮.১. 'নিরাপদ সড়ক চাই' বিষয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ:

স্থান: সাকিবের পড়ার ঘর
চরিত্র: সাকিব ও লিমন

সাকিব: শুভ অপরাহ্ন লিমন! কেমন আছিস?
লিমন: ভালো নেই রে সাকিব। মনটা খুব খারাপ। আজ সকালে কলেজে আসার পথে দেখলাম এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় এক স্কুলছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে।
সাকিব: অত্যন্ত দুঃখজনক! প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললেই সড়ক দুর্ঘটনার খবর চোখে পড়ে। সড়ক যেন এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
লিমন: একদম ঠিক বলেছিস। কিন্তু এর মূল কারণ কী বলে তোর মনে হয়?
সাকিব: প্রধান কারণগুলো হলো চালকদের অসচেতনতা ও লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালক, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং ট্রাফিক আইনের তোয়াক্কা না করা। এছাড়া ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও রাস্তার ত্রুটিও অন্যতম বড় কারণ।
লিমন: পথচারীদের অসতর্কতাও কিন্তু কম দায়ী নয়। ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে অনেকেই ব্যস্ত রাস্তায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হন।
সাকিব: ঠিক বলেছিস। এ অবস্থা থেকে আমাদের পরিত্রাণ পেতেই হবে। 'নিরাপদ সড়ক চাই' এখন আর কেবল দাবি নয়, সময়ের অনিবার্য প্রয়োজন।
লিমন: কীভাবে সড়ককে নিরাপদ করা সম্ভব বলে মনে করিস?
সাকিব: প্রথমত, ট্রাফিক আইনের কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। লাইসেন্সবিহীন ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে।
লিমন: এর সাথে পথচারীদের সচেতন হতে হবে এবং ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলতে হবে। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ট্রাফিক নিয়মের ওপর শিক্ষা প্রদানও জরুরি।
সাকিব: ঠিক বলেছিস। সরকার, প্রশাসন ও জনগণ—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই কেবল আমাদের সড়কগুলো নিরাপদ হতে পারে।
লিমন: অত্যন্ত সময়োপযোগী আলোচনা হলো বন্ধু। চল, আমরা নিজেরা ট্রাফিক আইন মানি এবং অন্যদেরও সচেতন করি।
সাকিব: ধন্যবাদ লিমন, সাবধানে বাড়ি ফিরিস।
লিমন: তুইও ভালো থাকিস।


অথবা,

৮.২. খুদে গল্প: রণাঙ্গনের রক্তিম স্মৃতি

মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস জানার প্রবল আগ্রহ স্বপ্নিল ও মুনার দীর্ঘদিনের। বই পড়ে ও প্রামাণ্যচিত্র দেখে তাদের কৌতূহল মেটেনি, তারা চেয়েছিল কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর মুখ থেকে সেই বীরত্বগাথা শুনতে। সেই উদ্দেশ্যে এক ছুটির সকালে তারা হাজির হলো শ্রীপুর গ্রামে, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কাকার বাড়িতে।

উঠোনে রোদ পোহাচ্ছিলেন রফিক কাকা। তাঁর এক পা নেই, ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটেন। স্বপ্নিল ও মুনা সালাম দিয়ে বিনীতভাবে নিজেদের আগ্রহের কথা জানাল। কাকার মুখে এক চিলতে প্রশান্তির হাসি ফুটে উঠল। তিনি পরম স্নেহে তাদের পাশে বসালেন।

কাকা বলতে শুরু করলেন একাত্তরের রক্তঝরা দিনগুলোর কথা। তখন তিনি ছিলেন তাঁদের মতোই এক তরুণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ২৫শে মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যার পর তিনি ঘরে বসে থাকতে পারেননি। মাতৃভূমির টানে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে গেরিলা প্রশিক্ষণ নেন এবং যোগ দেন দুই নম্বর সেক্টরে।

কাকা শোনালেন এক রোমহর্ষক অভিযানের গল্প। শ্রীপুর ব্রিজ দিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের একটি কনভয় যাওয়ার কথা ছিল। রফিক কাকা ও তাঁর সহযোদ্ধারা সিদ্ধান্ত নিলেন ব্রিজটি উড়িয়ে দেওয়ার। গভীর রাতে কনকনে শীতে পানিতে নেমে ব্রিজের নিচে ডিনামাইট স্থাপন করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু ফিরতি পথে পাকিস্তানি সেনাদের টহলের মুখে পড়েন। শুরু হয় তুমুল সম্মুখযুদ্ধ। কাকার পাশেই গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন তাঁর প্রিয় বন্ধু ও সহযোদ্ধা কালাম। গ্রেনেডের স্প্লিন্টারে উড়ে যায় কাকার নিজের ডান পা। তবুও অমিত বিক্রমে যুদ্ধ চালিয়ে তাঁরা পাকিস্তানিদের পরাস্ত করেন এবং ব্রিজটি ধ্বংস করে দেন।

গল্প বলতে বলতে কাকার চোখ অশ্রুসজল হয়ে উঠল। তিনি স্বপ্নিল আর মুনার মাথায় হাত রেখে বললেন, "আমরা রক্ত দিয়ে একটি স্বাধীন পতাকা আর মানচিত্র দিয়ে গেছি। এই দেশকে ভালোবাসা এবং এর মর্যাদা রক্ষা করার দায়িত্ব এখন তোমাদের মতো তরুণ প্রজন্মের।"

গল্প শুনে স্বপ্নিল ও মুনার শরীর শিউরে উঠল। তাদের হৃদয় ভরে উঠল গভীর শ্রদ্ধায় ও দেশপ্রেমে। বাড়ি ফেরার পথে তারা উপলব্ধি করল, স্বাধীনতা কোনো সাধারণ অর্জন নয়; এর পেছনে রয়েছে লাখো শহীদের তাজা রক্ত আর মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম ত্যাগ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন