হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৮

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মনকে সুস্থ রাখতে হলে অষ্টাঙ্গযোগের অনুশীলন অবশ্যই করা উচিত বলে শিবু বাবু মনে করেন। তিনি নিয়মিত একটি আসন অনুশীলন করেন। আসনটি অনুশীলনের সময় তাকে বৃক্ষের মত দেখায়। উক্ত আসন অনুশীলন করে তিনি শরীর ও মনে এর প্রভাব উপলব্ধি করেন।

  1. ক)

    হল' শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    অষ্টাঙ্গযোগের প্রথম ধাপটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    শিবু বাবু যে আসনটি অনুশীলন করেন তার পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    শিবু বাবুর শরীর ও মনে উক্ত আসন অনুশীলনের প্রভাব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ‘হল’ শব্দের অর্থ লাঙ্গল।

  2. খ)

    মহর্ষি পতঞ্জলি নির্দেশিত অষ্টাঙ্গযোগের প্রথম ধাপ হলো যম। যম অর্থ সংযম, অর্থাৎ ইন্দ্রিয় ও মনকে হিংসা, অশুভ ভাব ইত্যাদি থেকে সরিয়ে আত্মকেন্দ্রিক করা। যম পাঁচ প্রকার—অহিংসা, সত্য, অস্তেয়, ব্রহ্মচর্য ও অপরিগ্রহ। অহিংসা মানে মন, কথা ও কর্ম দ্বারা কোনো প্রাণীকে কষ্ট না দেওয়া, যা মূলত ভালোবাসা।

  3. গ)

    শিবু বাবু যে আসনটি নিয়মিত অনুশীলন করেন, তা বৃক্ষাসন, কারণ অনুশীলনের সময় তাঁকে বৃক্ষের মতো দেখায়।

    ধারণা : অষ্টাঙ্গযোগের তৃতীয় ধাপ আসন। যে আসনে আসনকারীর দেহ বৃক্ষের ন্যায় হয়, তাকে বৃক্ষাসন বলে। শরীরকে সুস্থ ও মনকে স্থির রাখার জন্য এ আসন অনুশীলন করা হয়।

    পদ্ধতি : প্রথমে দুই পা জোড়া করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। এরপর ডান পা হাঁটুতে ভেঙে গোড়ালি বাঁ ঊরুমূলে এমনভাবে রাখতে হবে যেন পায়ের পাতা ঊরুর সাথে লেগে থাকে এবং আঙুলগুলো নিচের দিকে থাকে। তখন কেবল বাঁ পায়ের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়াতে হবে। এবার হাতের তালু দুটি নমস্কারের ভঙ্গিতে জোড়া করে বুকের কাছে এনে সোজা মাথার ওপর তুলতে হবে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে ১০ সেকেন্ড নিশ্চল থাকতে হবে। পরে হাত নামিয়ে পা সোজা করে একইভাবে ডান পায়ে দাঁড়িয়ে আসনটি করতে হবে। শেষে শবাসনে ১০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিতে হবে। এভাবে তিনবার করতে হবে এবং অভ্যস্ত হলে সময় ৩০ সেকেন্ড পর্যন্ত বাড়ানো যায়।

    অতএব, শিবু বাবু এ পদ্ধতিতেই বৃক্ষাসন অনুশীলন করেন।

  4. ঘ)

    শিবু বাবুর অনুশীলিত আসনটি বৃক্ষাসন এবং নিয়মিত অনুশীলনে এটি তাঁর শরীর ও মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    ধারণা : অষ্টাঙ্গযোগের তৃতীয় অঙ্গ আসন। শিবু বাবু মনে করেন, শারীরিক সুস্থতার সাথে মনকে সুস্থ রাখতে অষ্টাঙ্গযোগ অনুশীলন করা উচিত। পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, মুক্তিলাভের জন্য আত্মোপলব্ধি দরকার, আর আত্মোপলব্ধির জন্য শুদ্ধ, স্থির ও প্রশান্ত মন এবং সুস্থ শরীর প্রয়োজন।

    ১. ভারসাম্য ও পেশির দৃঢ়তা : এক পায়ে স্থির দাঁড়াতে হয় বলে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বাড়ে। পায়ের পেশির দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পায় এবং পায়ে জোর পাওয়া যায়। ফলে শিবু বাবুর চলাফেরার ক্ষমতা বাড়ে।
    ২. মেরুদণ্ড ও গঠন : কোমর ও মেরুদণ্ডের শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং হাত-পায়ের গঠন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়।
    ৩. রক্তসঞ্চালন ও রোগ প্রতিরোধ : হাঁটু, কনুই ও বগলের স্নায়ুতন্ত্রে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং গ্রন্থি সবল ও নমনীয় হয়। পায়ের ব্যথায় উপকার পাওয়া যায়, পায়ে বাত হয় না। যাঁদের হাত-পা কাঁপে বা পা দুর্বল, তাঁরা বিশেষ উপকার পান। পায়ের ধমনীতে আথেরোমা জমা রোধ হওয়ায় থ্রম্বোসিসের সম্ভাবনাও কমে।
    ৪. মনের ওপর প্রভাব : আসনের সময় স্থির ও নিশ্চল থাকতে হয় এবং শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে হয়। এতে মনের চঞ্চলতা কমে, একাগ্রতা বাড়ে ও মন শান্ত হয়। অষ্টাঙ্গযোগের গুরুত্ব হলো, এর অনুশীলনে অশান্ত মন শান্ত হয় এবং আত্মশক্তি বৃদ্ধি পায়।

    সুতরাং, বৃক্ষাসন নিয়মিত অনুশীলনের ফলে শিবু বাবুর শরীর সবল, সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ হয় এবং মন প্রশান্ত ও একাগ্র হয়। এভাবে তিনি শরীর ও মন উভয়ে এর উপকারিতা উপলব্ধি করেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন