‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

ইউসুফপুরের শিক্ষিত ও সচেতন ব্যক্তি মনির হোসেন উপলব্ধি করেন তার এলাকার লোকজনের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হলো আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও পাশ্চাত্য শিক্ষা গ্রহণ না করা। ফলে তিনি এলাকাবাসীর মাঝে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও পাশ্চাত্য শিক্ষা সম্প্রসারণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এজন্য তিনি বিভিন্ন সভা সমিতি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আন্দোলন গড়ে তোলেন।

  1. ক)

    কত খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ হয়েছিল?

    (1)
  2. খ)

    মুসলিম লীগ গঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী ছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ব্যক্তির কাজের সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন ব্যক্তির কাজের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    মুসলিম সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য তাঁর গৃহীত পদক্ষেপসমূহ বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ হয়েছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ সরকারের প্রতি ভারতীয় মুসলমানদের আনুগত্য বৃদ্ধি করা, মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ এবং তা সরকারের কাছে তুলে ধরা, এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ ভাব যেন তৈরি না হয় তা নিশ্চিত করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মনির হোসেনের কাজের সাথে পাঠ্যপুস্তকের প্রখ্যাত সমাজসংস্কারক ও শিক্ষাবিদ স্যার সৈয়দ আহমদ খানের কাজের মিল রয়েছে।

    ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকারের বৈরী মনোভাব এবং ইংরেজি শিক্ষার প্রতি অনীহার কারণে উপমহাদেশের মুসলিম সম্প্রদায় শিক্ষা, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে চরমভাবে পিছিয়ে পড়ে। এ বাস্তবতা উপলব্ধি করে স্যার সৈয়দ আহমদ খান মুসলিম সমাজকে অন্ধত্ব ও কুসংস্কার থেকে মুক্ত করতে আধুনিক পাশ্চাত্য বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার উদ্যোগ নেন।

    উদ্দীপকের মনির হোসেন যেমন এলাকাবাসীর পিছিয়ে পড়ার কারণ হিসেবে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও পাশ্চাত্য শিক্ষা না থাকাকে চিহ্নিত করে আন্দোলন গড়ে তোলেন, তেমনি স্যার সৈয়দ আহমদ খানও আলীগড় আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতীয় মুসলমানদের আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত ও সচেতন করার জন্য আজীবন কাজ করেছিলেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুসলিম সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য স্যার সৈয়দ আহমদ খানের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ ছিল যুগান্তকারী ও সুদূরপ্রসারী।

    তিনি মুসলমানদের ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস ত্যাগ করে আধুনিক বিজ্ঞান ও পাশ্চাত্য শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে ১৮৬৪ সালে গাজীপুরে 'সায়েন্টিফিক সোসাইটি' প্রতিষ্ঠা করেন, যার মাধ্যমে পাশ্চাত্য বিজ্ঞান ও সাহিত্যের বহু মূল্যবান গ্রন্থ উর্দুতে অনুবাদ করা হয়। তাঁর সবচেয়ে ঐতিহাসিক অবদান হলো ১৮৭৫ সালে 'মোহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল স্কুল' প্রতিষ্ঠা, যা ১৮৭৭ সালে কলেজে এবং পরবর্তীতে বিখ্যাত আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।

    এছাড়া তিনি 'তাহজিবুল আখলাক' নামক সাময়িকী প্রকাশের মাধ্যমে সমাজ সংস্কার ও যুক্তিভিত্তিক চিন্তার বিকাশ ঘটান। তিনি মুসলমানদের ব্রিটিশদের সাথে রাজনৈতিক সংঘাতে না গিয়ে আগে নিজেদের শিক্ষাদীক্ষায় স্বাবলম্বী করার পরামর্শ দেন। তাঁর এই সামগ্রিক উদ্যোগ 'আলীগড় আন্দোলন' নামে পরিচিতি পায়, যা পিছিয়ে পড়া মুসলিম জাতিকে নতুন আত্মমর্যাদা ও জাতীয়তাবোধে উজ্জীবিত করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন