বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
- ক)(1)
ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম কাকে বলা হয়?
- খ)(2)
বাংলা চুক্তি করা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানটি ইংরেজ আমলের কোন আন্দোলনকে নির্দেশ করছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"উক্ত আন্দোলন পরবর্তীতে সর্বভারতীয় গণআন্দোলনে রূপ নেয়"- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
- খ)
হিন্দু-মুসলমান সমস্যা দূর করে বাংলায় সাম্প্রদায়িক ঐক্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে স্বরাজ দলের নেতা চিত্তরঞ্জন দাস ১৯২৩ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলা চুক্তি (বেঙ্গল প্যাক্ট) সম্পাদন করেন। এই চুক্তিতে মুসলমানদের জন্য কিছু সুবিধা রাখা হয়, যেমন স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের ৬০% আসন এবং সরকারি চাকরিতে পিছিয়ে পড়া মুসলমানদের জন্য ৫৫% সংরক্ষণ। এভাবে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা ও সমঝোতা গড়ে তোলাই ছিল এর লক্ষ্য।
- গ)
উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানটি ইংরেজ আমলের খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন-কে নির্দেশ করছে।
উদ্দীপকে সেভার্সের চুক্তি, রাওলাট আইন ও জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ড এবং ইশতেহারের উল্লেখ আছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯২০ সালের সেভার্সের চুক্তিতে তুরস্ককে খণ্ডবিখণ্ড করার পরিকল্পনা হলে ভারতীয় মুসলমানরা খলিফার মর্যাদা রক্ষায় খিলাফত আন্দোলন শুরু করে। অন্যদিকে ১৯১৯ সালে রাওলাট আইন পাস হলে এবং ১৩ই এপ্রিল অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে জেনারেল ডায়ারের নির্দেশে নিরস্ত্র মানুষ হত্যার পর মহাত্মা গান্ধী ১৯২০ সালে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। ঘটনাগুলো এই দুই আন্দোলনেরই প্রেক্ষাপট, তাই '?' চিহ্নিত স্থানটি খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন।
- ঘ)
উক্তিটি যথার্থ। খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন শুরুতে আলাদা উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু হলেও পরে একত্র হয়ে সর্বভারতীয় গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
১. ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি: খিলাফত আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল তুরস্কের খলিফার মর্যাদা রক্ষা, আর অসহযোগ আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল স্বরাজ অর্জন। ১৯২০ সালে মহাত্মা গান্ধী হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ করে এই দুই আন্দোলনের নেতৃত্ব একই কর্মসূচির মধ্যে নিয়ে আসেন।
২. সর্বস্তরের অংশগ্রহণ: রাওলাট আইন, জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড, দমননীতি ও যুদ্ধোত্তর মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ছিল। ফলে ১৯২১-২২ সালে আন্দোলন সর্বভারতীয় গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
৩. ব্যাপক প্রভাব: এই আন্দোলনে হিন্দু-মুসলমান প্রথমবারের মতো ঐক্যবদ্ধভাবে নামে, ব্রিটিশদের 'ভাগ করো শাসন করো' নীতি কিছুদিনের জন্য ব্যর্থ হয় এবং সারা ভারতের জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা ছড়িয়ে পড়ে।সুতরাং, ব্যাপক জনসমর্থন ও হিন্দু-মুসলমান ঐক্যের কারণে এই আন্দোলন সর্বভারতীয় গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছিল, যদিও এই ঐক্য ছিল ক্ষণস্থায়ী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও