যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

জালাল স্যার ক্লাসে বললেন মানুষ পদের অর্থকে আমরা দুইভাবে প্রকাশ করতে পারি। প্রথমত গুণগতভাবে এবং দ্বিতীয়ত পরিমাণগতভাবে। এদের মধ্যে আবার পারস্পরিক সম্পর্কও রয়েছে। তবে এ সম্পর্কের মধ্যে কিছু ভিন্নতাও রয়েছে।

  1. ক)

    একটি যুক্তিবাক্যে কয়টি পদ থাকে?

    (1)
  2. খ)

    'পিতা' পদটি সাপেক্ষ পদ— কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে প্রতিফলিত নিয়মটির ব্যতিক্রমগুলো পাঠ্যবইয়ের আলোকে উল্লেখ কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে 'মানুষ' পদের নির্দেশিত দিক দুটির পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি যুক্তিবাক্যে মূলত দুটি পদ থাকে—উদ্দেশ্য পদ এবং বিধেয় পদ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে পদের অর্থ অন্য কোনো পদের সাহায্য ছাড়া নিজে নিজে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায় না, তাকে সাপেক্ষ পদ বলে।
    'পিতা' পদটির অর্থ সম্পূর্ণ হতে হলে তার বিপরীতে 'সন্তান' পদের অস্তিত্ব ও ধারণা অপরিহার্য। সন্তান না থাকলে কাউকেই পিতা বলা যায় না। অর্থাৎ পিতা পদটির অর্থ সন্তানের অর্থের ওপর নির্ভরশীল। তাই 'পিতা' একটি সাপেক্ষ পদ।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে পদের ব্যক্তর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীতমুখী অনুপাতের নিয়মটি প্রতিফলিত হয়েছে। যুক্তিবিদ্যায় এই নিয়মের কিছু সুস্পষ্ট ব্যতিক্রম বা সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা পাঠ্যবইয়ের আলোকে নিচে উল্লেখ করা হলো:

    ১. কেবল সাধারণ বা জাতিবাচক পদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য: এই নিয়মটি কেবল শ্রেণিবাচক বা সাধারণ পদের ক্ষেত্রে সত্য। কোনো বিশিষ্ট পদ বা একক পদের (যেমন: ঢাকা, রবীন্দ্রনাথ) ক্ষেত্রে ব্যক্তর্থ ও জাত্যর্থের এই নিয়ম প্রযোজ্য হয় না।

    ২. অর্থ পরিবর্তন না করে ব্যক্তর্থ বা জাত্যর্থ বাড়ানো-কমানো যায় না: কোনো পদের অন্তর্নিহিত অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কৃত্রিমভাবে ব্যক্তর্থ বা জাত্যর্থ কমালে-বাড়ালে এই নিয়ম কার্যকর থাকে না।

    ৩. গুণবাচক ও অবস্থাবাচক পদ: যেসব পদের কেবলমাত্র জাত্যর্থ আছে কিন্তু ব্যক্তর্থ নেই, অথবা ব্যক্তর্থ অনির্দিষ্ট, তাদের ক্ষেত্রে এই হ্রাস-বৃদ্ধির নিয়ম প্রযোজ্য হয় না।

    ৪. ব্যক্তর্থ বা জাত্যর্থের হ্রাস-বৃদ্ধি গাণিতিক হারে ঘটে না: ব্যক্তর্থ দ্বিগুণ হলে জাত্যর্থ ঠিক অর্ধেক হবে—এমন কোনো গাণিতিক নিয়ম নেই। হ্রাস-বৃদ্ধি কেবল একটি গুণগত দিক নির্দেশ করে, পরিমাপগত নয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জালাল স্যার 'মানুষ' পদের যে দুটি দিকের কথা বলেছেন, তা হলো পদের 'ব্যক্তর্থ' (পরিমাণগত দিক) এবং 'জাত্যর্থ' (গুণগত দিক)। এদের মধ্যে পারস্পরিক বিপরীতমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান। যুক্তিবিদ্যায় একে 'ব্যক্তর্থ ও জাত্যর্থের বিপরীত অনুপাতের নিয়ম' বলা হয়।

    মানুষ পদের ক্ষেত্রে এই সম্পর্কটি নিম্নরূপ চারটি সূত্রের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা যায়:
    ১. ব্যক্তর্থ বাড়লে জাত্যর্থ কমে: 'মানুষ' পদের ব্যক্তর্থ হলো সকল মানুষ। যদি আমরা এর ব্যক্তর্থ বাড়িয়ে 'জীব' পদে যাই (যেখানে মানুষ ছাড়াও অন্যান্য প্রাণী অন্তর্ভুক্ত), তবে জাত্যর্থ হ্রাস পায়। তখন মানুষের 'বুদ্ধিবৃত্তি' গুণটি বাদ পড়ে কেবল 'জীববৃত্তি' গুণটি অবশিষ্ট থাকে।
    ২. ব্যক্তর্থ কমলে জাত্যর্থ বাড়ে: যদি মানুষ পদের ব্যক্তর্থ কমিয়ে কেবল 'সৎ মানুষ' বিবেচনা করি, তবে সংখ্যায় মানুষ কমে যাবে। কিন্তু গুণের দিক থেকে জীবের জীববৃত্তি ও মানুষের বুদ্ধিবৃত্তির সাথে অতিরিক্ত গুণ 'সততা' যুক্ত হয়ে জাত্যর্থ বৃদ্ধি পাবে।
    ৩. জাত্যর্থ বাড়লে ব্যক্তর্থ কমে: মানুষ পদের আবশ্যকীয় গুণ (জীববৃত্তি + বুদ্ধিবৃত্তি)-এর সাথে যদি অতিরিক্ত গুণ হিসেবে 'সভ্য' বা 'শিক্ষিত' যুক্ত করা হয়, তবে জাত্যর্থ বৃদ্ধি পায়, কিন্তু শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বা ব্যক্তর্থ সামগ্রিক মানুষের চেয়ে কমে যায়।
    ৪. জাত্যর্থ কমলে ব্যক্তর্থ বাড়ে: মানুষ পদের জাত্যর্থ থেকে যদি 'বুদ্ধিবৃত্তি' গুণটি বাদ দিয়ে কেবল 'জীববৃত্তি' রাখা হয়, তবে পদটি হবে 'জীব'। এর ফলে ব্যক্তর্থ বৃদ্ধি পেয়ে পৃথিবীর সমস্ত প্রাণী এর অন্তর্ভুক্ত হবে।

    অতএব, দেখা যায় যে ব্যক্তর্থ ও জাত্যর্থের মধ্যে ব্যস্তানুপাতিক সম্পর্ক রয়েছে, অর্থাৎ একটি বাড়লে অপরটি কমে এবং একটি কমলে অপরটি বাড়ে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন