হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২০
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
নরেন বাবুর ছেলে সুরেন। নরেন বাবু এক ধনী ব্যক্তি। সুরেন লেখাপড়া করে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হন। তার পিতার অকাল মৃত্যুত সাংসারিক সকল দায়িত্ব তার উপর বর্তায়। কিন্তু সবসময় হতদরিদ্র-অসহায় বিপদগামী মানুষকে সেবা করাই ছিল তার জীবনের মুখ্য উদ্দেশ্য। এভাবে সেবা করতে করতে অর্থ-সম্পদ শেষ হয়ে যায়। তিনি নিঃস্ব হয়ে গেলেও তার দানের চেষ্টা অব্যাহত থাকে। অপরদিকে সুরেনের এক বাল্য বন্ধু বিজন। তিনিও ছোট বেলা থেকেই বিভিন্ন দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান। একবার তার এলাকায় একদল সন্ত্রাসী গ্রামবাসীকে আক্রমণ করে। এলাকার সবাই তাদেরকে ভয় পায়। কিন্তু বিজন ভয় না পেয়ে সন্ত্রাসীদের সাথে মোকাবেলা করে। গ্রামবাসীর জীবনে বেঁচে যায় এবং তিনি সন্ত্রাসীদের চরমভাবে প্রতিহত করেন।
- ক)(1)
রাবন কোন যুগের রাজা ছিল?
- খ)(2)
মানবতা ধর্মের অঙ্গ'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সুরেন বাবুর চরিত্রের সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন চরিত্রের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বিজনের যে চরিত্র ফুটে ওঠেছে তা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
রাবণ ত্রেতা যুগের রাজা ছিল।
- খ)
মানুষের প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা ও মমত্ববোধ, তাকেই মানবতা বলে। সহিষ্ণুতা, ক্ষমা, দয়া, সত্য, জ্ঞান, শুচিতা, ইন্দ্রিয় সংযম ও অক্রোধ প্রভৃতি গুণ মানবতার গঠন ও বিকাশে অপরিহার্য, আর এ গুণগুলোই ধর্মের মূল শিক্ষা।
জীবসেবা ও জীবে দয়া মানবতার অঙ্গ এবং ধর্মেরও অঙ্গ। তাই মানবতা ছাড়া ধর্ম পালন পূর্ণ হয় না। এ কারণেই বলা হয়, মানবতা ধর্মের অঙ্গ।
- গ)
উদ্দীপকের সুরেন বাবুর চরিত্রের সাথে পাঠ্যবইয়ের রন্তিবর্মা চরিত্রের মিল রয়েছে।
মানবতা ও ত্যাগের ধারণা: মানুষের প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা ও মমত্ববোধ, তাকে মানবতা বলে। জীবসেবা ও জীবে দয়া মানবতার অঙ্গ। নিরন্নকে অন্ন, বস্ত্রহীনকে বস্ত্র ও বিপন্নকে আশ্রয় দেওয়া মানবতারই আরেক নাম। পাঠ্যবইয়ের 'রন্তিবর্মার মানবতা' উপাখ্যানে রন্তিবর্মা ছিলেন প্রজাবৎসল, কৃষ্ণভক্ত সম্রাট। অযাচক বৃত্তি গ্রহণের পর আটচল্লিশ দিন অনাহারে কাটানোর পর উনপঞ্চাশতম দিনে একজন ভক্ত তাঁকে খাবার দেন। ঠিক তখনই উপস্থিত ক্ষুধার্ত ভিক্ষুক ও তার কুকুরকে তিনি নিজের পুরো খাবার দিয়ে দেন, নিজে কষ্ট সহ্য করেন।
উদ্দীপকের সাথে মিল: উদ্দীপকে সুরেন ধনী পিতার সন্তান ও উচ্চশিক্ষিত। কিন্তু হতদরিদ্র, অসহায় ও বিপদগামী মানুষকে সেবা করাকেই তিনি জীবনের মুখ্য উদ্দেশ্য বানিয়েছেন। সেবা করতে করতে সব অর্থ-সম্পদ শেষ হয়ে নিঃস্ব হলেও তাঁর দানের চেষ্টা থামেনি। রন্তিবর্মা যেমন নিজের শেষ খাবারটুকু অন্যকে দিয়েছেন, সুরেনও তেমনি নিজের সর্বস্ব অন্যের কল্যাণে উৎসর্গ করেছেন। দুজনেই নিজের সুখ-সুবিধার চেয়ে অন্যের দুঃখ মোচনকে বড় মনে করেছেন।
অতএব, সুরেন বাবুর ত্যাগ ও মানবতার সাথে রন্তিবর্মার চরিত্রের মিল রয়েছে।
- ঘ)
উদ্দীপকের বিজন ছোটবেলা থেকে বিভিন্ন দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সন্ত্রাসীরা গ্রামবাসীকে আক্রমণ করলে সবাই ভয় পেলেও তিনি ভয় না পেয়ে তাদের মোকাবেলা করেছেন। তাঁর এ চরিত্রে সৎসাহস ও মানবিকতা ফুটে উঠেছে, যা সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অত্যন্ত মূল্যবান।
'সাহস' অর্থ ভয়শূন্যতা এবং 'সৎ' অর্থ সত্য ও ন্যায়ের পথে চলা। তাই সত্য ও ন্যায়ের জন্য ভয় না পেয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো কিংবা সত্য প্রতিষ্ঠায় নিজেকে উৎসর্গ করার নামই সৎসাহস। পাঠ্যবইয়ে সৎসাহসী বালক তরণীসেন ধর্ম ও সত্যের পক্ষে অসীম সাহস দেখিয়েছেন।
১. অন্যায়ের প্রতিরোধ: বিজন সন্ত্রাসীদের চরমভাবে প্রতিহত করে গ্রামবাসীর জীবন রক্ষা করেছেন। দুর্বলের ওপর অত্যাচার হলে সৎসাহস নিয়ে তার পক্ষে দাঁড়ানো উচিত। বিজনের এই ভূমিকা সমাজে অন্যায়ের বিস্তার রোধ করে।
২. শান্তি ও নিরাপত্তা: সৎসাহসী ব্যক্তি সমাজের যেকোনো বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়তে দ্বিধা করেন না। এর ফলে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং মানুষ নিরাপদ বোধ করে। এলাকাবাসীর ভীতি কেটে যাওয়া তারই প্রমাণ।
৩. অনুকরণীয় আদর্শ: বিজনের মতো মানুষ সমাজ, দেশ ও জাতির অহংকার। তাঁদের দৃষ্টান্ত দেখে অন্যরাও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ হতে অনুপ্রেরণা পায়। রাষ্ট্রীয় জীবনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের নাগরিক গুরুত্বপূর্ণ।
৪. মানবতাবোধ: দুর্যোগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে বিজন মানবসেবার আদর্শও তুলে ধরেছেন। অপরদিকে ভীরু ও কাপুরুষদের দ্বারা সমাজ ও জাতি কোনো উপকার পায় না, তারা সমাজের জঞ্জালস্বরূপ।
সুতরাং, বিজনের সৎসাহসী ও মানবিক চরিত্র সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় অপরিহার্য ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও